Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

প্রকল্প থেকে জনসংযোগ…বিজেপি বলছে তাদের রাস্তাতেই হাঁটছে তৃণমূল!

1 min read

|| প্রথম কলকাতা ||

ধর্মের রাজনীতি, আঙুল শুধু বিজেপির দিকে

এমনিতেই বলা হয়ে থাকে দিনে দিন গেরুয়া শিবিরের জুতোতে পা গলিয়ে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গেরুয়া শিবির না বললেও একথা গোটা দেশ বলে থাকে ধর্মের রাজনীতি করে থাকে বিজেপি। রাম মন্দির থেকে বাংলায় মঞ্চে উঠে শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adfhikari) বারবার সনাতনী হিন্দু ধর্মের কথা বলা কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) বেগম বলা, সব কিছুকে এক দুই করে সাজিয়ে সকলেই বলে থাকেন গেরুয়া শিবির কমিউন্যাল ক্ল্যাশ করেই ভোট ভরে নিজেদের ঝুলিতে। বিজেপির নেতাদের বারবার মন্দিরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় একথাও মিথ্যে নয়। কিন্তু শুধু কি বিজেপি? অনেক পুরনো ইতিহাসের দিকে তাকানো গেলে দেখা যাবে রামমন্দির এর ফায়দা কংগ্রেসও তুলেছিল সাময়িক ভাবে, অন্তত বেশি সুবিধা না করতে পারলেও রাজনীতিতে ধর্ম মিশিয়েছিল কিছুটা হলেও, আর এই মুহুর্তের তৃণমূল কংগ্রেস? তারা কী করছে না? এমনিতে শুরু থেকে বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় সংখ্যালঘু তোষণ করে থাকেন, বাংলায় মুসলিমদের জন্য একাধিক প্রকল্প করেন, তবে একথা কেউ কখনো বলেনি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু বিদ্বেষী। এখন দেখা যাচ্ছে মমতা থেকে অভিষেক, একে একে তাঁরা বারবার গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন মন্দিরের দরজায়। বাংলা হোক বা গোয়া, এটা যেনো নতুন নিয়ম তৃণমূলের।

মন্দিরের দরজায় মমতা অভিষেক

আগেও বলেছি মমতা বা তৃণমূল কখনোই হিন্দু বিদ্বেষ ছিল না, তবে রাজনীতিতে কথিত ছিল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার শুধু। সংখ্যালঘুদের তোষণ করে এসেছে। এবং একেবারে উল্টো পথে হেঁটেছি বিজেপি। বিজেপি নেতাদের কথায় কথায় মন্দিরে যাওয়া নিয়ে তৃণমূল বারবার কটাক্ষ করেছে বিস্তর। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে একেবারে উল্টো ঘটনা। গোয়া থেকে ত্রিপুরা বারবার যে কোনো রাজ্যে গিয়েই মন্দিরের দরজায় যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং অভিষেক। বাংলাতেও যাচ্ছেন মন্দির থেকে অন্য ধর্মের উপাসনালয় সব জায়গাতেই। গোয়ায় গিয়ে অভিষেক প্রথমে যাচ্ছেন মন্দিরে, ত্রিপুরায় আজ গেলেন, প্রথম গেলেন মন্দিরে। অথচ আগে এরকমটা ছিল না। আগে তৃণমূলের নেতা নেত্রীদের এত অহরহ মন্দিরের সামনে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এদিকে বিজেপি বলছে, এখন মসজিদের ব্যাপারটা হয়ে গিয়েছে। এখন মন্দির শুরু হয়েছে। এভাবে এক একটা গ্রুপকে খুশি করার চেষ্টা করছেন।

শাহের পন্থাতেই অভিষেক, বাংলা ত্রিপুরা একই প্ল্যান

আজকে বিপ্লব গড়ে পা দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। তাঁর ব্যাক টু ব্যাক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং তাঁদের বাড়িতে খাবার খাওয়া। এই দ্বিতীয় বিষয়টিতে ফের বিজেপির অনুসরণ করে ফেললো তৃণমূল। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি এই কথা বলেছেন ইতিমধ্যেই। কারণ কী তবে? কারণ স্পষ্ট, কিছু ছবি নিশ্চয় বাংলার মানুষের কাছে এখনো স্পষ্ট? বাংলার বিধানসভা ভোটের আগের সময়কালে ফিরে যাই। সেই সময়ে দিল্লি থেকে মন্ত্রীরা বারবার বাংলায় আসতেন ভোট প্রচার করতে। সভা মঞ্চ থেকে ভাষণ দিতেন। তবে সব থেকে বেশি নজর কেড়েছিল নেতাদের একটা নতুন পন্থা। নিজেদের সাধারণ মানুষের সমকক্ষ বোঝাতে শাহ থেকে বিজেপির তাবড় তাবড় নেতারা কোন অতি সাধারণ কর্মী সমর্থকের বাড়িতে আরো সাধারণ খাবার খেতেন, তাঁরাও প্রচারের হাইলাইটে আসতেন। তাঁর বাড়িতে নেতা আসার আগে থেকেই হইহই কান্ড। ত্রিপুরার এই সফরে একেবারে এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন অভিষেক। সে রাজ্যে গিয়ে হোটেলে নিয়ে, কর্মীর বাড়িতে আহার করবেন তিনি।

বিজেপি বলে ইশতেহারও নকল করেছে তৃণমূল

এগুলো গেলো একই পথে হাঁটার কথা। তবে গেরুয়া শিবির বলে, বিজেপির ইশতেহারও নাকি নকল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, কলকাতা পুরভোটের সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করার পরে পরেই বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন বিজেপির প্ল্যান নকল করছে তৃণমূল, তাঁর বক্তব্য ছিল সাফ, এর আগে কোনো পুরভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ইশতেহার প্রকাশ করেনি অন্তত, এবার বিজেপি করতেই তাদের দেখাদেখি চটজলদি ইশতেহার বের করলে দিল তৃণমূল। বিরোধী দলের দাবি ছিল পুরভোটে ইশতেহার আসে এটা বিজেপি দেখিয়েছে বাংলায়, তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দেয় তাও অন্যের দেখে এবং পালন করে না একটাও।

বাদ গেল না প্রকল্প!

প্রকল্প নিয়ে বাদবিবাদ বহু। কখনো মমতা বলেন তিনি চালু করেছেন এই প্রকল্প, কখনো বিজেপি বলে মোদীর প্রকল্প নিজের নামে চালায় তৃণমূল। দিন কয়েক আগেই তৃণমূলের প্রকল্প নিয়েও নকলের তোপ এসেছে বিজেপির তরফে। গোয়ায় সংগঠন তৈরির উদ্দেশ্যে তৃণমূল সেখানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে গৃহকর্ত্রী দের মাসিক ৫০০০ টাকা দেবে সরকার। সেই প্রসঙ্গেই গোয়ার বিজেপির সভাপতি বলেছিলেন বিজেপি আগে থেকেই এই ধরনের প্রকল্প চালায়। তৃণমূল শুধু নকল করছে। বাংলার লক্ষ্মীর ভান্ডার মডেলে ভোট মুখী গোয়ায় গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের কথা বলেছে তৃণমূল। সেই নিয়ে রাজ্য এবং দেশের রাজনীতিতে ইতিমধ্যে জলঘোলা হয়েছে বিস্তর।

বারবার নকল, কেনো?

তবে সে যাই হোক একথা দিনে দিনে স্পষ্ট কোথাও গিয়ে বিজেপির রীতি মানছে তৃণমূল এবং লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অনুসরণ এবং অনুকরণ হচ্ছে বাইরের রাজ্য গুলিতে। এর কারণ হিসেবে কিছু উত্তর স্পষ্ট আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় তিন দফা রাজত্ব করছেন, তিনি জানেন বাংলায় তাঁর ইউএসপি তাঁর গার্লস টু দ্যা নেক্সট ডোর ইমেজ। তিনি এখানে জোর গলায় বলতে পারেন ২৯৪ আসনে তিনি প্রার্থী। কিন্তু বাংলা আর ত্রিপুরা এক নয়, বাইরের রাজ্যের সঙ্গে এই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নয়। সেক্ষেত্রে সেখানে মমতা ফ্যাক্টর কাজ করবে না একথা ভালো মতোই জানেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি দেশ চালায়, কোন জায়গায় কোন প্ল্যান কাজ করে তা বিজেপির থেকে এই মুহূর্তে ভালো জানেনা কোনো দল। বাংলায় বিজেপি না জিতলেও তাঁদের একাধিক পরিকল্পনা মানুষকে ছুঁয়ে গিয়েছিল তা মমতা অভিষেকের চোখ এড়ায়নি। স্বাভাবিক ভাবেই অন্য রাজ্যে গিয়ে একে একে বিজেপির পরিকল্পনা তৃণমূলে কিছুটা নিজদের মতো করে ব্যবহার করছে।

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories