Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘দুয়ারে রেশন প্রকল্পের নামে বাংলায় আরও দুর্নীতি বাড়বে’ , সাফ কথা সুজনের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজনীতিতে থেমে থাকেনা কিছুই। প্রত্যেক কথার উত্তর আসে, বিষয় জটিল হয় আরো। কোথাও সমাপ্তি হয় কোথাও বাড়ে বিতর্ক। এই মুহূর্তে বাংলায় আসন্ন পুরসভার ভোট, একই সঙ্গে সলতে পাকানো চলছে ২০২৪ এর লোকসভার ভোটের। পুরসভার ভোটে ইস্যু কী আর লোকসভার ভোটে বিজেপি ঠেকাতে কমিটমেন্ট কী…হাজার বিতর্ক আর সমীকরণ বদলের মাঝে বামেদের হয়ে বার্তা সুজনের।

পুরভোট এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী

১৯ শে ডিসেম্বর কলকাতার পুরভোট। বাকি সব দলের থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই গেরুয়া শিবির পুরভোটের দাবি তুলেছিল। সেই দাবি মেনে নিয়েই ভোট হতে চলেছ খাস কলকাতা বুকে। হাতে মাত্র গোনা কয়েক দিন। এই পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবির ভোট করানোর ক্ষেত্রে কোনো ভাবেই কমিশন বা রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা রাখছে না। ১৪৪ ওয়ার্ডে অন্তত ১০০ কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে দরবার করেছে রাজ্যপালের কাছে। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন পদ্মবনের নেতারা। এই প্রসঙ্গে বামেদের মতামত জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হলে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী সাফ জানিয়ে দেন এই প্রশ্ন অমূলক। একই সঙ্গে তিনি বলেন ২০১৩,২০১৫,২০১৮সব সময়েই তারা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর পক্ষে থেকেছেন। একই সঙ্গে মমতা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকা কালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই ভোট করতে চেয়েছিলেন, ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও অন্যথা হয়নি।

ডিপফ্রিজে কংগ্রেস!

জাগো বাংলার সর্বশেষ তম সংখ্যা প্রকাশের পর থেকেই দিনভর তোলপাড় হয়েছে এক মন্তব্যে। যেখানে তৃণমূলের মুখপত্রে লেখা হয়েছে কংগ্রেসের আর আগের মতো ঝাঁঝ নেই, এই মুহূর্তে ডিপ ফ্রিজে চলে গিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। স্বাভাবিক ভাবেই উঠে এসেছে নানা ব্যাখ্যা। সব থেকে বেশি ভাবাচ্ছে ২৪ এর লড়াইয়ের বিজেপি বিরোধী ঐক্য মঞ্চের ভবিষ্যত নিয়ে। প্রাথমিক ভাবে তৃণমূল এবং কংগ্রেস দেশের স্বার্থে একত্রে লড়ার পরিকল্পনা করলেও মাস খানেকের ভেতরেই বদলে গিয়েছে সমীকরণ। একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসের ঘর ভাঙিয়ে নিজেদের সংগঠন মজবুত করছে মমতার দল।আশঙ্কা ছিলই এই প্রভাব পড়বে দেশের রাজনীতিতে। ঘটেছে তাই। এই মুহূর্তে তৃণমূল সুপ্রিমো থেকে দলের বাকি নেতাদের কথা থেকে স্পষ্ট কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো জোটে যাবেন না তাঁরা। কংগ্রেসের নেতৃত্বহীনতাকে তুলে ধরা হচ্ছে কারণ হিসেবে। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে কংগ্রেস ছাড়া আদেউ কতটা মজবুত হবে বিরোধী ঐক্য মঞ্চ। প্রশ্ন উঠছে বিরোধী ঐক্যের মুখ হওয়ার তাগিদে শেষমেশ না কোণঠাসা হয়ে পড়ে মমতার মা মাটি মানুষের দল। দিনভর ডিপ ফ্রিজ তত্বের আলোচনার পর সেই প্রসঙ্গে বাম নেতা সাফ জানান, এই বিরোধী দলে কে মুখ হবেন এই টানাপোড়েনের ফলে মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে দল গুলি। কে মুখ হবে সেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোন পদ্ধতিতে রণকৌশল সাজানো হবে সেই নিয়ে আলোচনা হোক। নেতার মুখের বদলে ইস্যু তৈরি হল, কমিটমেন্ট তৈরি হোক। প্রসঙ্গে তিনি কৃষক আন্দোলনের কোথাও তুলে আনেন।

ইনভেসমেন্টের মিটিং হলে লাইভ হতো

কংগ্রেস ডিপফ্রিজে আছে কি নেই সেই বিতর্কের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার রাজনীতিতে নয়া বিতর্ক শুরু হয়েছে আদানি মমতা সাক্ষাৎ নিয়ে।গতকাল নবান্নে অভিষেক এবং পিকের উপস্থিতিতে বৈঠক হয় মমতা আদানির। বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা এবং সেই সংক্রান্ত খবরের মাঝেই বিতর্কের শুরু করেছিলেন বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য। আজ দুপুর নাগাদ তিনি বলেন বিনিয়োগের কোনো মিটিং হয়নি। সেই নিয়ে পাল্টা উত্তর আসে তৃণমূলের তরফ থেকে। এসবের মাঝেই বিনিয়োগ হয়েছে কী হয়নি তাই নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুজন, তাঁর মতে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ডিএম, মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক লাইভ করেন তাহলে বিনিয়োগের মতো এতো বৃহৎ পরিসরের আলোচনা লাইভ করতেন না তা হয়না। একই সঙ্গে তাঁর যুক্তি অভিষেক এবং পিকে ছাড়া উপস্থিত ছিলেন না কেউ। অথচ বিনিয়োগ হলে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী সহ একগুচ্ছ নেতা আমলার। মিডিয়ার ফ্রন্ট পেজে কভার হওয়ার কথা ছিল। মোটকথা মমতা আদানির বিনিয়োগ বৈঠক মানতে নারাজ বামেরা।

নালিশ নাকি তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়ার হিসেব? সুকান্ত দের দিল্লি যাত্রা কেনো?

এক গুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সহ পদ্মবনের নেতারা গিয়েছেন দিল্লিতে। রাজ্যের চাকরি থেকে সি এ এ সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হবে বলেই সূত্রের খবর। এই প্রসঙ্গে বম নেতার বক্তব্য গত কয়েক মাসে বহু নেতা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন আর ফিরেছেন। ফলে দলের ভেতরের হিসেব ধরে রাখা বেশ মুশকিলের হয়েছে গেরুয়া শিবিরের জন্য।পদ্ম বনের নেতারা বুজেহ গিয়েছেন দেশের মানুষ এসব সিএএ মানবেন না, তাই এসব বলে আদপে তৃণমূলে সঙ্গে বোঝাপড়া বা বেশি বোঝাপড়া না করার আর্জি জানাতে গিয়েছেন।

ফের বিস্ফোরণ বাংলায়, প্রয়োজনীয় তদন্ত চাইছেন সুজন

এই প্রথম নয়, এর আগেও বেশ কয়েকবার মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটেছে বাংলায়। তার পরেই বুধবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নোদাখালিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্তর জায়গা জুড়ে ঘটা এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। গোটা ঘটনার NIA তদন্ত চেয়ে ইতিমধ্যে পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি লিখেছেন, ” তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নোদাখালি মোহনপুর গ্রাম। এক দশক ধরে বারুদের স্তুপে পরিণত হয়েছে বাংলা। পরপর তিনবার বিস্ফোরণ, উড়ে গিয়েছে বাড়ির চল।” তার পরেই দাবি জানিয়েছেন এনআইএ তদন্তের। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বাম নেতা জানান স্বাভাবিক ভাবে একে বিষ্ফোরণ বলেই মনে হয়েছে তার। তবে বাংলায় এর আগেই বিস্ফোরণের খোঁজ করতে গিয়ে বেরিয়েছে অনেক বড়ো যোগ সাযোগ। সেদিক থেকে তদন্ত হোক।

দুয়ারে রেশন দুয়ারে কই?

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তাহারে সবথেকে বেশি হাইলাইটেড হয়েছিল দুয়ারে রেশন প্রকল্প। অভিষেক মমতা সব সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানিয়েছিলেন ভোট জিতলেই শুরু হবে এই প্রকল্প। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে রেশন। ঠিক সেভাবেই ভোট জেতার পর পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কাজ শুরু হয় দুয়ারে রেশনের। কাজ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই আসতে শুরু করেছে দুর্নীতির অভিযোগ। এসবের মাঝেই সুজন চক্রবর্তী আজ আজ জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের আসলে দুয়ারে রেশন বলে কোনো প্রকল্প নেই, যা আছে তাকে দুয়ারের প্রকল্প বলেনা, গাড়ি করে এক কিলোমিটার দূরে দ্রব্য পৌঁছে দেওয়া কেবল এক বোকা বোকা কাজ। যুক্তির জন্য তিনি কেরোলের কোভিড কালে দুয়ারে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আনেন। তার সঙ্গেই জানান, এই দুয়ারে রেশন প্রকল্পের নামে বাংলায় আরও বেশ কিছু খরচ আর দুর্নীতি বাড়বে। ব্যাস এটুকুই। একই সঙ্গে ওমিক্রনের ফলে বিমান পরিষেবা নিয়ে কেন্দ্রের আলোচনা এবং ১২ সংসদ সাসপেন্ড প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন তিনি।

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Categories