Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‍‘সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে ভারত-রাশিয়া-চীনকে’: জয়শঙ্কর

1 min read

।।প্রথম ভারত।।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শুক্রবার বলেছেন, ‍‘সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো হুমকি মোকাবেলা করতে এবং আফগান জনগণের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ভারত, রাশিয়া এবং চীনকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।’ রাশিয়া-ভারত-চীন (আরআইসি) মেকানিজমের বিদেশমন্ত্রীদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের সূচনায় নিজের বক্তব্যে জয়শঙ্কর সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে একটি বহু-মেরু এবং ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানান।

আরআইসি বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে ১৮তম রাউন্ডের আলোচনাটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) ভারত-চীন স্থবিরতার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন সর্বকালের নিম্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যা ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতাকে প্রভাবিত করেছে। যদিও জয়শঙ্কর এবং চীনের বিদেশমন্ত্রী উভয়ই স্থবিরতার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন এবং কোভিড-১৯ সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এদিকে, আগস্ট মাসে তালিবানের দখলে চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে তিনটি আরআইসি দেশের একসঙ্গে কাজ করার কিছু লক্ষণ এই বৈঠকে দেখা গিয়েছে।

জয়শঙ্কর ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন, ‘আরআইসি দেশগুলিকে একত্রে কাজ করতে হবে যাতে মানবিক সহায়তা আফগান জনগণের কাছে কোনো বাধা ছাড়াই এবং রাজনীতিকরণ ছাড়াই পৌঁছে যায়। রাশিয়া-ভারত-চীনের জন্য সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ, মাদক পাচার ইত্যাদি হুমকির বিষয়ে নিজ নিজ পদ্ধতির সমন্বয় করা প্রয়োজন।’

যদিও জয়শঙ্কর কোনও দেশের নাম না করেই এদিন কটাক্ষ করেন পাকিস্তানকে। তাঁর মতে একটি দেশ আফগানিস্তানে নিবিচ্ছিন্ন সাহায্য করার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থলপথে ভারত থেকে গম পাঠানোর প্রস্তাবটি আটকে রাখার পর সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাতে সায় দিয়েছেন।

জয়শঙ্কর উল্লেখ করেছেন যে, ভারত আফগান জনগণের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অনুসারে খরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আফগানিস্তানে ৫০,০০০ টন গম সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, ‍‘ভারত, আফগানিস্তানের একটি সংলগ্ন প্রতিবেশী এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসাবে সে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বিশেষ করে আফগান জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ভারত আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারকে সমর্থন করে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৫৯৩-এর অন্যান্য বিধানগুলিকেও সমর্থন করে।’

আরআইসি সভার এজেন্ডা তৈরি করে জয়শঙ্কর বলেছেন, ‍‘এটি তিনটি বিষয়ের উপর ফোকাস করবে- কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক হট স্পট সমস্যা।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন যে, ভারত আরআইসি প্রক্রিয়ার অধীনে ইউরেশিয়ার তিনটি বৃহত্তম দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংলাপ এবং সহযোগিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ-স্বাস্থ্যসেবা-শিক্ষা-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং রাজনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখতে পারে। আমাদের সাধারণ নীতির সঙ্গে এটি একটি পরিবার হিসাবে বিশ্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‍‘বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের জন্য আরআইসি-র দৃষ্টিভঙ্গি মানবকেন্দ্রিক হওয়া উচিত এবং কাউকে পিছিয়ে রাখা উচিত নয়।’

জয়শঙ্কর বলেন, ‍‘কোভিড-১৯ মহামারী একটি আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের আন্তঃনির্ভরতা দেখিয়েছে। এই সময় প্রয়োজন, এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য। এর অর্থ হল, ওষুধ এবং জটিল স্বাস্থ্য সরবরাহের ন্যায়সঙ্গত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাক্সেস ও মহামারি সহ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলির জন্য একটি সময়োপযোগী, স্বচ্ছ, কার্যকর এবং বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া।’

তাঁর মতে, ভারতও বিশ্বাস করে যে একটি বহু-মেরু এবং ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব জাতিগুলির সার্বভৌম সমতার উপর ভিত্তি করে এবং আন্তর্জাতিক আইন এবং সমসাময়িক বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধার জন্য সংস্কার করা বহুপাক্ষিকতা প্রয়োজন রয়েছে।

চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং বৈঠকে নিজের বক্তব্য শুরু করেন জয়শঙ্কর ও রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে ‍‘আমার দুই পুরানো বন্ধু’ হিসাবে উল্লেখ করে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ফের মাথা চাড়া দেওয়ায় দেশগুলির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার একটি কঠিন কাজ। ওয়াং বলেন, ‍‘গ্লোবাল হটস্পটগুলি জ্বলছে, আন্তর্জাতিক আপেক্ষিক শক্তি গভীর সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বায়ন বিরোধীতা এখনও গতি পাচ্ছে। একতরফাবাদ, সুরক্ষাবাদ, আধিপত্যবাদ, ক্ষমতার রাজনীতি বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।’

সেই সঙ্গে চীনের বিদেশমন্ত্রী যোগ করেন, ‍‘বৈশ্বিক পরিস্থিতি একটি গভীর রূপান্তরের সময়-এ প্রবেশ করেছে। আরএইসি তাদের বৈশ্বিক প্রভাবের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়েছে ব্যাপক সাধারণ স্বার্থ এবং তাঁদের অসহায় অবস্থা কাঁধে তুলে নিতে।’ ওয়াং বলেন, ‍‘চীন রাশিয়া এবং ভারত এক সঙ্গে কাজ করবে। যা হবে খোলামেলা, সংহতি, বিশ্বাস এবং সহযোগিতার চেতনা সম্পন্ন। সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা চর্চা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রের প্রচার, মহামারি মোকাবেলা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বৃদ্ধি এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আরআইসি বিশ্বকে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে।’

এদিকে, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেছেন, ‍‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা অব্যাহত মহামারির মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বড় আকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং করোনা ভাইরাস বিশ্ব শাসনের সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তোলার সঙ্গে সুরক্ষাবাদী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বৃদ্ধি করেছে।’

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম