Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘চীন সবথেকে বড় নিরাপত্তা হুমকি’, ফার্নান্ডেজের সুরেই সুর মেলালেন জেনারেল রাওয়াত

1 min read

।।প্রথম ভারত।।

চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছেন, চীন ভারতের জন্য ‍‘সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি’। তিনি এই অনুভূতিকে ‍‘দেজা ভু’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ ২৩ বছর আগে, তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ একটি সাক্ষাত্কারে চীনকে ভারতের জন্য ‍‘সম্ভাব্য হুমকি’ বলার জন্য চীন এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের প্রতিবাদ ও সমালোচনার সম্মুখীন হন। জেনারেল বিপিন রাওয়াতও তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে এখন চীনের সমালোচনা শিকার হচ্ছেন। একই ঘটনার জন্যই হয়তো তিনি ফরাসি শব্দ ‍‘দেজা ভু’-র উল্লেখ করেছেন। ‘দেজা ভু’ বলতে বোঝায়, এমন একটি ঘটনা যা কোনওভাবে স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত, অর্থাৎ আগেও এই ধরণের ঘটনা

বিপিন রাওয়াতের মন্তব্য নিয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ কর্নেল উ কিয়ান বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‍‘ভারতীয় কর্মকর্তারা কোনও কারণ ছাড়াই চীনের হুমকি অনুভব করে থাকেন। যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। এর ফলে চীন ও ভারত দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত নির্দেশনার গুরুতর লঙ্ঘন হচ্ছে। আমরা একে অপরের জন্য হুমকি নই। কিন্তু এই ধরণের মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতকে উস্কে দেয়, এগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিপজ্জনক।’

যদিও চীনের কাজ আর কথা কোনও দিনই মেলে না। অতীতেও দেশটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনুসারে ‍‘চেরি-পিক’ (নিজের অবস্থান বিরোধী মন্তব্য) বিবৃতি দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিল। ড্রাগনের দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন যে, জেনারেল রাওয়াতের এই বক্তব্য পিএলএ-র ২০১৭ সালে ডোকলামে এবং মে মাসে লাদাখ এলএসিতে একতরফাভাবে স্থল অবস্থান পরিবর্তন করার প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করেই এসেছে। এটা এখন পরিস্কার যে চীনের উস্কানিতেই ডোকলাম ও লাদাখে দুই দেশের সৈন্যরা যুদ্ধে নেমেছিল। আর সেটাই যথেষ্ট জেনারেল রাওয়াতের মূল্যায়নকে প্রমাণ করার জন্য। ডোকলামের সময় জেনারেল রাওয়াত ছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান এবং ২০২০ সালের মে মাসে যখন প্যাংগং সো লঙ্ঘন হয়েছিল তখন তিনি ছিলেন সিডিএস পদে।

চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জেনারেল রাওয়াতকে দুই দেশের নেতৃত্বের কৌশলগত দিকনির্দেশনা সম্পর্কে মনে করিয়ে বলেছে, ‍‘মুখপাত্র অব্যক্তভাবে ভুলে গিয়েছিলেন যে, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত চুক্তিগুলিতে লাদাখ এলএসি-তে প্রত্যাখ্যাত ১৯৫৯ লাইন নিয়ে ভারতকে বাধ্য না করে, সেগুলি লিখিত, স্বাক্ষরিত করার পরও সিল করে জানলা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল পিএলএ। ২০১৩ সালে দৌলেট বেগ ওল্ডি (ডিবিও) সেক্টরের ডেপসাং বুল্জে এবং ডেমচোকের চার্ডিং নল্লা জংশনে (সিএনজে) একই ঘটনা ঘটে।’

আসল বিষয়টি হল যে, বেজিং অলিম্পিকের আগে ২০০৮ সালে তিব্বত বিদ্রোহের পরে এলএসি-তে পিএলএ-র পদক্ষেপগুলি সামরিক ব্যতীত অন্য কোনও যুক্তি দ্বারা ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। ২০২০ সালের জুন থেকে লাল ফৌজ লাদাখ এলএসি জুড়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার সৈন্য মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাঙ্ক এবং রকেট রেজিমেন্টগুলিকে সমর্থন করার সঙ্গে যুদ্ধবিমানকে স্ট্যান্ডবাইতে রাখতে ক্রমশ নিজেদের পরিকাঠামো তৈরি করছে। আর একজন নির্বোধ ব্যক্তির পক্ষেও চীনের এই ভারত বিরোধী আগ্রাসন বোঝা কোনও কঠিন বিষয় নয়। আজ অবধি, চীন ব্যাখ্যা করেনি কেন তারা একতরফাভাবে প্যাংগং সো-এর উত্তর তীরে স্থলে অবস্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গভীর শীতলতায় পরিণত করেছে।

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং, যিনি পিএলএ-র সর্বাধিনায়কও, কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উহান এবং চেন্নাইয়ের ঘণ্টার পর ঘণ্টার বোঝাপড়ার বাসের নীচে ফেলে দিলেন? চীন কেন তাদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় বেজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য হিমালয়ের কোলে ভুটানের মতো একটি ছোট দেশকে সীমানা খুলে দিতে বাধ্য করছে? এ সবের কোনও উত্তর নেই।

ভারত ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সময়রেখা দেখায় যে বেজিং সীমানা সমস্যা সমাধানের জন্য তার অবস্থান থেকে বা ভারতীয় দৃষ্টিকোণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক থেকে এক চুলও সরে আসেনি। ২০২০ সালের মে মাসের সীমালঙ্ঘনগুলি দেখায় যে পিএলএ ১৯৫৯ লাদাখ লাইন এলএসি-তে আরোপ করতে চায়। পাশাপাশি এখনও অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং-এর দিকে তাদের নজর রয়েছে।

বেজিং অলিম্পিক পরবর্তী তিব্বত এবং জিনজিয়াং-এ সামরিক পরিকাঠামো উন্নত করার গতি শুধুমাত্র ভারতের জন্যই একটি গুরুতর হুমকি নয়, এটি প্রেসিডেন্ট জিন পিং-এর দুর্গ তিব্বত অভিযানের একটি অংশ। জর্জ ফার্নান্ডেজ এবং জেনারেল রাওয়াত ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণে ঠিক ছিলেন, তবে সিডিএসকে তার জায়গা দেখানোর জন্য সীমান্তে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব চীনের উপর। ১৯৬২ সালের বিশ্বাসঘাতকতার আগে যখন চীন গোপনে আকসাই চিন হয়ে তিব্বত-জিনজিয়াং মহাসড়ক তৈরি করেছিল তখন ভারত কীভাবে হিন্দি-চীন ভাই ভাই স্লোগানটি ছুঁড়ে ফেলেছিল তা কেউই ভুলে যায়নি।

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম