Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দ্বন্দ্ব বাড়ালে বাড়বে চাপ! টার্গেট ২০২৪ পথে নয়া কৌশল মমতার

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।


বুধবার মোদী- মমতার হাইভোল্টেজ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলার গণমাধ্যেম সহ গোটা দেশের মিডিয়া৷ কারণ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে এই বৈঠক, এই সাক্ষাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেছিলেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা৷ আর সেই অনুমান যে কোনও অংশে ভুল ছিল না তা একপ্রকার প্রমাণিত৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কার্যত বোমা ফেললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাংলার বাণিজ্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সোজা আমন্ত্রণ করে বসলেন তিনি৷ আর তৃণমূল নেত্রীর মুখের এই বাক্য শুনে কার্যত হতম্ভব হয়ে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতারাও৷ সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির কারবারিরা বুঝে গিয়েছিলেন এবার ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বুধবারে তাঁর বক্তৃতায় যেন কেমন একটা নরম ভাবভঙ্গি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি৷ এখন প্রশ্ন হল নরেন্দ্র মোদীর সবথেকে বড় প্রতিদ্বন্দী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এধরণের আচরণের নেপথ্যে কোন রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে?


হাতে হলুদ গোলাপের তোড়া নিয়ে বুধবার বিকেলর পাঁচটায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রবেশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । তাহলে কি রাজনৈতিক ঝগড়ায় আপাত বিরতি? অন্য কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নমোর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বোধহয় জল্পনার পারদ এতটাও চড়ে না যতটা চড়েছিল বুধবারের বিকেলে৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন গত এক মাসে মোদী সরকারে একের পর এক যে বাউন্সার দিয়েছেন তাতে মমতাও বুঝতে পারছেন দ্বন্দ্ব বেশি বাড়িয়ে আখেরে কোনও লাভই হবে না৷ বরং কিছুটা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রেখে গঠনমূলক বিরোধীতা করা যেতে পারে৷ আর সেজন্যই হঠাত্ করে ভোলবদলের একটা ইঙ্গিত মিলে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে৷ এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

দ্বন্দ্ব বাড়লে বড় ক্ষতি টের পেল মমতা


এই পয়েন্টটা আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমে একটু ফ্ল্যাশব্যাকে নিয়ে যাব আপনাদের৷ অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু৷ তিনি বলেছিলেন এটা একটা অসভ্য এবং বর্বরের সরকার গঠিত হল দিল্লিতে৷ আর সেই কারণে তিনি এই অসভ্য সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কখনোই দেখা করবেন না। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর দল বুঝতে পেরেছিল যে এই রণকৌশল মোটেই সঠিক পদক্ষেপ নয়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মত নেতা জ্যোতিবাবুকে বুঝিয়েছিলেন যে একটা আলাপ-আলোচনার মেকানিজম কিন্তু কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এরপর দেখা গিয়েছিল, কিভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখনকার উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গেও বুদ্ধবাবু সম্পর্ক গড়ে তোলেন ।

তাতে আর কিছু না হোক রাজ্যের জন্য কিছু জিনিস তারা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার কিন্তু এই বিষয়টা হারে হারে টের পাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ তিনি বুঝতে পারছেন এই দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তা সূদুরপ্রসারি করলে ২০২৪শের আগে রাজ্যে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ তখন কিন্তু এই রাজ্যের মানুষেরাই আঙুল তুলবে মমতার দিকে আর যেটা একেবারেই সুখকর হবে না তৃণমূল নেত্রীর জন্য৷ এক্ষেত্রে আরও একটা সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা৷ তারা মনে করছেন এই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে মমতার আরেক রাজনৈতিক চাল৷ একটু মনে করে দেখুন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প কৃষক সম্মান নিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরুদ্ধাচারণ করে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যে তা চালু করার ছাড়পত্র দিয়েছিলেন৷

এবার এমনটা হতেই পারে স্বাস্থ্যসাথীর বর্তমান যা পরিস্থিতি দাঁড়াচ্ছে সেটা মাথায় রেখে আয়ুস্মান ভারত এরাজ্যে চালু করতেই পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে সেক্ষেত্রে এটা হাইলাইটে একেবারেই করতে চাইবে না শাসকদল যে স্বাস্থ্যসাথীর বেহাল দশার সাক্ষী হচ্ছে মানুষ৷ বরং তারা এটাকে হাইলাইট করবেন যে জনতার পাশে দাঁড়িয়ে আয়ুস্মান ভারতও প্রকল্পও রাজ্য সরকার চালু করে দিল৷ এর মানেটা হল শাক দিয়ে মাছ ঢাকা৷ যে কাজটাই নিপুনভাবে করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ তবে তারা এটাও প্রশ্ন তুলছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের আবহ তো এতদিন নিজের হাতেই তৈরি করেছিলেন নেত্রী৷ তাহলে সেটা কী ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে আগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য?

শিল্প সম্মেলন নমোকে ডাক নেপথ্যে কোন চাল?


বাংলার বাণিজ্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ডাকার পিছনে অনেকগুলোই কারণ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ, বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে এই আমন্ত্রণে মূলত দুটি কারণ খুঁজে পাচ্ছেন। প্রথমটি রাজনৈতিক। দ্বিতীয়টি প্রশাসনিক। রাজনৈতিক কারণ বলতে তারা মনে করছেন এখন নিজের দলের সম্প্রসারণের পথে হাঁটছেন মমতা। আর সেখানে বার বার ত্রিপুরায় গিয়ে বাধা পেতে হচ্ছে মমতার দলকে। যে অভিযোগটা বিজেপি বাংলায় করে আসছে এতদিন ধরে, এখন ত্রিপুরায় গিয়ে সেই ধাক্কাটাই খেতে হচ্ছে তৃণমূলকে। আর সেই কারণেই কি কোনও একটা রাজনৈতিক বোঝাপড়ার দিকে আসতে চাইছেন মমতা? সেই জন্যই কি মোদীকে একেবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়ে আমন্ত্রণ? অন্য দিকে যেই কারণটা সবথেকে বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সেটা হল, বাংলার শিল্প কার্যত ধুঁকছে৷ রাজ্যের তরফে শিল্প টানার জন্য কিন্তু কম চেষ্টা করা হয়নি। বাণিজ্য সম্মেলন হয়েছে। এমনকি সিঙ্গাপুরে পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন মমতা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বিভিন্ন সময়ে মৌ চুক্তিতে সই হলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনও শিল্পের মুখ দেখেননি মমতা। অন্যদিকে মোদীর ভাবমূর্তি শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাছে উজ্জ্বল। মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই শিল্পের জোয়ার সে রাজ্যে। ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট’ মডেলের সাফল্য নিজেই তার প্রমাণ। এবার কি তবে মোদীকে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে নিয়ে এসে, বাংলার সেই শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তিই ঘোচাতে চাইছেন মমতা? এই প্রশ্নটাও কিন্তু উঠে আসছেন৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষও কিন্তু এই ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এখন যেটা অপেক্ষার সেটা হল এই নিমন্ত্রণ কী আদৌ রক্ষা করবেন নরেন্দ্র মোদী? যদি না করেন তাহলে কিন্তু তা নিয়েও তৈরি হবে এক নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা৷ অতএব বাংলার বাণিজ্য সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আসা বা না আসার ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছুই৷ দিনের পর দিন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্যাকসিন সবক্ষেত্রেই কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করার মূল্যটা এবার হারে হারে চোকাতে হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷


দিল্লি গেলেন মমতা অথচ দেখা করলেন না সনিয়া রাহুলের সঙ্গে৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আবার এটাও বলে দিলেন, দেখা যে করতেই হবে এমন কোনও কথা আছে নাকি? রাজনৈতিক মহলের মতে, নমোর সঙ্গে বুধবার দেখা করার পরই কিন্তু কংগ্রেসকে কার্যত একটা বার্তা দিতে চাইলেন মমকা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসলে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার কাজটা রাজধানীর বুকে দাঁড়িয়ে সেরে রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কারণ তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সন্ধি যে এখনই হওয়ার নয়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেও সনিয়া গান্ধিকে মমতা সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু একটা ব্যাপার ব্যাপকভাবে পরিস্কার হয়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল সেটা হল ভোটের স্বার্থেই কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত জিইয়ে রাখার ইস্যু সময়ে সময়ে ব্যবহার করেছেন মমতা৷ এখন পরিস্থিতি বুঝে ভোলবদলাতে ২ মিনিটও লাগবে না মমতার৷

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম