Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আরও চাপে চীন-পাকিস্তান, সীমান্তে ভারতীয় সেনার হাতে এবার এস-৪০০ মিসাইল

1 min read

।।প্রথম ভারত।।

রাশিয়ার কাছ থেকে প্রথম এস-৪০০ ইউনিট পাওয়া এখন কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। ভারতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই এয়ার ডিফেন্স পাকিস্তান ও চীনের বিরুদ্ধে দেশকে অনেকটাই এগিয়ে দেবে। এয়ার ডিফেন্সের জন্য এস-৪০০ মিসাইলকে তাঁরা গেম চেঞ্জার হিসাবে মনে করছেন। ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে এই মিসাইলের পাঁচটি ইউনিট কেনার জন্য ২০১৮ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভারত সফরকালে ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। সেই অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যেই এই সব মিসাইল ভারতের হাতে চলে আসবে। প্রথম ইউনিটটি ডেলিভারি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এটি ভারতের অস্ত্র ভাণ্ডারে ঢুকে পড়বে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এর কিছু সরঞ্জাম ভারতের কাছে পৌঁছেছে।

লাদাখ (Ladakh) এবং অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) চিনা ফৌজের মোকাবিলার উদ্দেশে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা মোতায়েন করবে ভারতীয় সেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, আগামী বছরের গোড়াতেই রাশিয়া (Russia) থেকে আনা দু’টি এস-৪০০ উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণরেখায় মোতায়েন করা হবে। ভারতীয় সেনার ‘এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট’-এর নিয়ন্ত্রণে এস-৪০০ মোতায়েন হওয়ার পরে এলএসসি-তে শক্তির ভারসাম্যে বেজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লি পাল্লা দিতে পারবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এই প্রযুক্তির সাহায্যে শত্রুর বিমান এবং ড্রোনও ধ্বংস করা যাবে।২০১৯ সালের গোড়ায় আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল করলে ভারত টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) এবং পেট্রিয়ট-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা পাবে। কিন্তু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের তুলনামূলক বিচার করে এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্তে অটল থাকে নয়াদিল্লি। রাশিয়ার থেকে চীনও এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কিনেছে।

রাশিয়ার পাঠানো এস-৪০০ মিসাইল ২০২২ সালে ভারত উত্তর সীমান্তে মোতায়েন করবে, যাতে একই সঙ্গে পাকিস্তান (Pakistan) ও চীনের হুমকি মোকাবেলা করা যায়। জানা গিয়েছে পরবর্তী ইউনিট ভারত মোতায়েন করবে পূর্ব সীমান্তে শুধু চীনকে উদ্দেশ্য করে। ভারতীয় আর্মির মিসাইল বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল একেএস চান্ডাল মনে করেন, পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে এস-৪০০ মিসাইল ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন দিশা দেখাবে। এস-৪০০-এ রয়েছে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল সিস্টেম। এর ৪০০ পাল্লার দীর্ঘ আওতায় থাকবে পুরো পাকিস্তান। রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০-এ চারটি মাত্রার মিসাইল রয়েছে। এর স্বল্প পাল্লার মিসাইলের আওতা ৪০ কিলোমিটার, মাঝারি পাল্লার আওতা ১২০ কিলোমিটার আর দীর্ঘ পাল্লার দু’টি মিসাইলের আওতা যথাক্রমে ২৫০ ও ৪০০ কিলোমিটার।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে উত্তর সীমান্তে এস-৪০০ মোতায়েনের মাধ্যমে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাক-আফগান সীমান্তের কাছে পেশোয়ার শহরকে টার্গেট করা যাবে। একেএস চান্ডাল মনে করেন, দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বর্তমানে ভারতে যে অস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে তা দিয়ে শুধুমাত্র পাকিস্তানের আকাশে থাকা কোনও লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করা সম্ভব। অবশ্য এই মুহূর্তে পাকিস্তানের হাতে এস-৪০০ ডিফেন্সের সমকক্ষ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নেই। তাদের কাছে রয়েেছ স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। পাকিস্তান আির্মতে গত মাসে যুক্ত হয়েচে এইচকিউ-৯ পি সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম। এর আওতা ১০০ কিলোমিটার।একেএস চান্ডাল জানিয়েছেন, এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে ভারত চীনের বিরুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

চীনের কাছে অবশ্য আগে থেকেই রাশিয়ার এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। এই সিস্টেমের আওতায় চীন তাদের দু’টি ইউনিট মোতায়েন রেখেছে তিব্বতে। লাদাখের প্যাংগং লেক থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে একটি ইউনিট চীন মোতায়েন করেছে। অপর ইউনিটটি তারা মোতায়েন রেখেছে অরুণাচল সংলগ্ন নিনচে এলাকায়।এদিকে, ডিসেম্বরে ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জানা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে প্রথম রুশ বাহিনীতে এস-৪০০ অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৪ সালে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নয়াদিল্লি। এর পর আমেরিকার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ২০১৮ সালের অক্টোবরে পুতিনের দিল্লি সফরের সময় এ বিষয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার চুক্তি সই হয়েছিল।

আপডেট থাকতে ফলো করুন আমাদের ইউটিউব , ফেসবুক, ট্যুইটার

সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম