Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সুকুমার রায়ের ননসেন্স ক্লাব ! এর কান্ডকারখানা জানলে হাসিতে ফেটে পড়বেন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিখ্যাত সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের কবিতা পড়ে বড় হননি এমন বাঙালি হাতে গোনা মাত্র। স্কুলের প্রাইজ থেকে শুরু করে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অবলীলায় গুরুত্বপূর্ণভাবে স্থান করে নিয়েছে সুকুমার রায়ের ছড়ার বই। তার কলম যেমন খুশিতে এবং মজায় ভরা তেমনই তাঁর জীবন অত্যন্ত আমুদে ছিল। তাঁর লেখা সেরার সেরা ‘ ননসেন্স ‘ ছড়াগুলি বাঙালির মনে আজীবন গেঁথে গেছে। তিনি নিজেই বন্ধুবান্ধব নিয়ে তৈরি করেছিলেন ননসেন্স ক্লাব। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে ৩০ শে অক্টোবর সুকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন।

একটু বড় হতেই সুকুমার রায়ের নাটকের শখ হয়। ছোটবেলায় অন্যের লেখা কবিতা বা গল্পের নাট্যরূপ দিতেন, পরে তিনি শেখাতে লাগলেন অভিনয়। ঘরোয়া পুরনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে তৈরি করলেন সুন্দর প্রপ। সেই তালিকায় ছিল ছেঁড়া মোজা, খড়ি, চুনকালি, কম্বলের ধারের ঝালর প্রভৃতি। ‘রামধন-বধ’ নামক একটি নাটক রচনা করেন। সেই নাটক দেখে রীতিমতো হাসির রোল পড়ে গিয়েছিল। ভারতবাসীকে তাচ্ছিল্য করে নাক সিঁটকানো ইংরেজ সাহেবকে কিভাবে পাড়ার ছেলেরা জব্দ করেছিল সেই কাহিনী ছিল সেখানে।

ছাত্রাবস্থাতেই তিনি একের পর এক রচনা করেছিলেন ‘ ঝালাপালা ‘ ও ‘লক্ষণের শক্তিশেল’। অভিনয়ের জন্য অভিনেতা সমস্যা সমাধানে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে তৈরি করে ফেলেন ‘ননসেন্স ক্লাব’। এই ক্লাবের নাটকগুলিতে ছিল না কোন আরম্ভর বা জাঁকজমক। কিন্তু হাস্যরসের পরিপূর্ণ নাট্যগুণ দ্বারাই বাজিমাত করত নাটক গুলি। প্রত্যেকটি নাটকে হাঁদা বা বোকা টাইপের চরিত্রগুলোতে সুকুমার রায় নিজে অভিনয় করতেন। এই ক্লাবের তরফ থেকেই প্রকাশ করেছিলেন ‘ সাড়ে-বত্রিশ ভাজা’ নামক একটি পত্রিকা।

বিলেতে গিয়ে সুকুমার রায় অর্জন করেছিলেন ছাপা প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিশেষ জ্ঞান। ১৯১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘ফেলো অব দ্য রয়াল ফটোগ্রাফি সোসাইটি’ উপাধি পান ,তারপরেই ফেরেন দেশে। বাংলা সাহিত্যের জগৎকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তিনি বাংলার মুদ্রণ জগতকেও অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছিলেন।

১৯২১ সালে পুত্র সত্যজিতের জন্ম হওয়ার কিছুদিন পরেই তিনি অসুস্থ হন ভয়ঙ্কর কালাজ্বরে। তখন এই দুরারোগ্য রোগের ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। সুকুমার রায় গান শুনতে খুব ভালোবাসতেন, ১৯২৩ সালের অগাস্ট মাসে যখন তিনি খুব অসুস্থ, তখন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং এসে তাঁকে ৯ টি গান শুনিয়েছিলেন। তার কিছুদিন পরে অর্থাৎ ১০ই সেপ্টেম্বর তিনি প্রয়াত হন।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ