Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

১০৮ টি নরমুণ্ড আর কাঁচা মাংসে তন্ত্র সাধনা ! এই কালীপুজোর গল্প পড়ে দেখুন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

• ১০৮ টি নরমুণ্ড দিয়ে মায়ের আরাধনা

প্রচলিত আছে এই মন্দিরে কালীপুজোয় নাকি গভীর রাত হলেই চলে নানান রোমাঞ্চকর ঘটনা। মন্দিরের সেবায়েতরা মেতে ওঠেন শ্মশান জাগানোর খেলায়। কথিত আছে, একসময় ১০৮ টি নরমুণ্ড দিয়ে চলত তন্ত্র মতে দেবীর আরাধনা। বর্তমানে বলি দেওয়া হয় না, কিন্তু কালীপুজোর দিন ডাকিনী যোগিনীকে দেওয়া হয় কাঁচা মাংস, মদ আর ছোলা। তার পাশাপাশি থাকে শিয়াল ভোগ। ১০৮ টি মানুষের মাথার খুলি থাকে পুজোয়।

• কোথায় হয় এমন পুজো ?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাচীন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুড়ে রয়েছে এক গা-ছমছমে শ্মশান। কথিত আছে এই শ্মশানে নাকি একসময় আস্তানা করত সব সাধক আর তান্ত্রিকদের দল। উদ্দেশ্য ছিল শব সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করা। এখনো পর্যন্ত এই শ্মশানে গেলে হাড় হিম হয়ে যাবে। আদিগঙ্গার পাড়ে এই শ্মশানে মা কালী পূজিতা হন করুণাময়ী নামে।

• তন্ত্র সাধনা করতে এসে মা কালীর স্বপ্নাদেশ

প্রায় ১০৭ বছর আগে এই শ্মশানে টালির ছাউনির মধ্যে কালী মায়ের আরাধনার সূচনা করেছিলেন তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। এখানে জনশ্রুতি রয়েছে, এই মণিলাল চক্রবর্তী নাকি যখন যুবক ছিলেন তখন তন্ত্রের দীক্ষা নিয়েছিলেন। সাধনার জন্য বেছে নেন এই শ্মশানকে।

পরবর্তীকালে মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশানের নিকটস্থ জঙ্গলেই দেবীর নিত্য পূজা শুরু করেন। সেই থেকে আজও এখানে ধুমধাম করে আরাধনা করা হয়ে আসছে মা কালীর। এখানে বলি দেওয়ার প্রথা নেই কিন্তু কাঁচা মাংস ভোগে দেওয়া হয়।

• বর্তমানে এই মন্দিরের পুজোর কার্যকলাপ

বহুদিন আগেই মণিলাল বাবুর মৃত্যু হয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে শ্যামল চক্রবর্তী এই শ্মশান কালীর মন্দিরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন । তিনিও কাকার কাছ থেকে তন্ত্র শিক্ষা লাভ করেছেন এবং গুপ্ত বিদ্যায় পারদর্শী। কালীপুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি।

চক্রবর্তী পরিবারের প্রত্যেক সদস্য তাই এখন চূড়ান্তভাবে ব্যস্ত মায়ের পুজোর আয়োজনে। দালানে নতুন রং করা হচ্ছে ,অপরদিকে ধুলো ঝেড়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে নরমুণ্ডর খুলি গুলি। করোনার কারণে এই জাগ্রত মন্দিরে ৫ জনের বেশি একত্রে ঢুকতে দেয়া হবে না। সমস্ত করোনা বিধি মেনেই আয়োজন করা হচ্ছে পুজোর।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ