Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দীপাবলির পরেই তৃতীয় ঢেউ! কী জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

করোনার প্রথম ঢেউ সামলে ওঠার পর চলতি বছরের শুরু থেকেই গাছাড়া মনোভাব প্রকট হয়েছিল দেশের নাগরিকদের। বেড়েছিল বেলাগাম ঘোরাফেরা, মাস্ক বা স্যানিটাইজারের প্রতি অনীহা। আর এ সবের ফলশ্রুতিতে মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। দেশজুড়ে অক্সিজেনের হাহাকার, মৃত্যুতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশ। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা দুই লক্ষ অতিক্রম করে প্রায় তিনি লক্ষের ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপর বাধ্য হয়ে ফের ঘরমুখো হয় আম আদমি। দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলিয়ে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসে করোনা। এদিকে সব শেষ হয়েছে দুর্গো পুজো। ফের বেসামাল হয়েছে জনগণ। প্যান্ডেল হপিংয়ে মাস্ক ছাড়া ভিড় উপচে পড়েছে। ফের বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণের গ্রাফ। এদিকে আবার সামনে রয়েছে ধনতেরাস, দীপাবলি এবং ছট পুজোর মতো বড় উৎসব।

অনুমান করা হচ্ছে উৎসব শেষে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। দিল্লি সহ অন্যান্য রাজ্যে, অভিভাবকরাও তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু ভাইরোলজিস্টরা এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।ন্যাশনাল ভেক্টর বার্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের উপদেষ্টা ভাইরোলজিস্ট অক্ষয় ধারিওয়াল বলেছেন, ‘উৎসবের সময়ও মানুষকে কোভিড-১৯ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। এখনই বলা যাচ্ছে না, করোনার আতঙ্ক পুরোপুরি চলে গিয়েছে। বিপদ কিন্তু এখনও কাটেনি। তাই ধনতেরসের মতো উৎসবে ভিড় জমাবেন না।’ ড. ধারিওয়াল বলেছেন, ‘মানুষের জন্য এখন কোভিডের বিধি নিষেধ মানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এখন অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না, যা কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’

সেই সঙ্গে তিনি করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখনও ভারতে কোভিড-১৯-এর তৃতীয় ঢেউ আসার কোনও আশঙ্কা নেই। যদিও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আসতেই থাকবে, কিন্তু এখনই দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো বিপর্যয় আর ঘটাবে না। এর জন্য ভ্যাকসিনেশন এবং হার্ড ইমিউনিটিকেই প্রধান কারণ বলে মনে করছি আমরা।’ দেশের ১০০ কোটি মানুষকে ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই বলছেন শিশুদের নিয়ে চিন্তা করবেন না। চিকিৎসকের মতেও, এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের তেমন কোনও বিপদ নেই। অভিভাবকরা নির্ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারেন। এ প্রসঙ্গে ড. ধারিওয়াল বলেন, ‘উৎসবের পর পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার প্রত্যাশা নগণ্য, তাই উৎসবের পর অভিভাবকরা তাদের সম্মতি দিতে পারেন।’পাবলিক পলিসি অ্যান্ড হেলথ এক্সপার্ট ডক্টর চন্দ্রকান্ত লাহরিয়া এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘এখন অভিভাবকদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। উৎসবের পর কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জাতীয় পর্যায়ে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আশঙ্কা নগণ্য।

শিশুদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ খুবই কম। সংক্রমণ থাকলেও শিশুদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না।’ সেই সঙ্গে ডক্টর লাহরিয়া জানিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিক সেরো (এসইআরও) সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, জুনের মধ্যে ৬৭.৬ শতাংশ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেরোর সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যেও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে যা বড়দের থেকে অনেক দ্রুত। শুধু তাই নয়, দেশের ১০০ কোটি মানুষ করোনার ভ্যাকসিন পেয়ে গিয়েছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুদের অতীতেও কম গুরুতর রোগ ছিল। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ হলেও মারাত্মক কোনও প্রভাব ফেলবে না। তাই শিশুদের স্কুল খুলতে হবে। এ নিয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। এ প্রসঙ্গে ডক্টর চন্দ্রকান্ত লাহরিয়া বলেন, ‘ডেনমার্ক-সুইডেন প্রভৃতি দেশ স্কুল বন্ধ করেনি, আমেরিকায় শিশুদের স্কুলে পাঠানো শুরু হয়েছে।’

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ