Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

” বর্ণবিদ্বেষী নই ” – তুমুল বিতর্কের পর প্রথমবার মুখ খুললেন কুইন্টন ডি কক

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার টুয়েলভের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামেননি দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক – ব্যাটার কুইন্টন ডি কক। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের সমর্থনে হাঁটু মুড়ে বসতে না চাওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত বলে শোনা যায় ক্রিকেট মহলে। সাধারন ক্রিকেট প্রেমী থেকে ড্যারেন সামির মতো ধারাভাষ্যকারদের সমালোচনার মুখে পড়েন ডি কক। আজ এই বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট সংস্থার প্রকাশিত বিবৃতিতে কুইন্টন ডি কক বলেন – ” আমি আমার সতীর্থ ও অনুরাগীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে চাই। এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ইস্যু করতে চাইনি। আমি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত। খেলোয়াড় হিসাবে আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিও জানি। আমার হাঁটু গেড়ে বসাতে যদি অন্যদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়, অন্যদের জীবনে উন্নতি হয় তাহলে আমি তা খুশির সঙ্গেই করব। “

সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতি বার্তা দিয়ে কক বলেন – ” আমি কোনওভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাইনি। মঙ্গলবার সকালেই আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়েছিল। ” হাঁটু মুড়ে বসতে না চাওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রোটীয় তারকা। তিনি জানান – ” আমি এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে অনেক দিন ধরেই চুপ ছিলাম। কিন্তু এখন আমাকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই হচ্ছে। যারা জানেন না, তাদের জন্যে বলি আমি একটি মিশ্র( কৃষ্ণাঙ্গ – শেতাঙ্গ) পরিবার থেকে উঠে এসেছি। আমার সৎ বোনেরা কৃষ্ণাঙ্গ, আমার সৎ মা কৃষ্ণাঙ্গ। আমার কাছে কৃষ্ণাঙ্গদের জীবন এই আন্দোলনের আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

” কক যোগ করেন – ” আমার কাছে কোনও ব্যক্তির তুলনায় সব মানুষের অধিকার ও সাম্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠবার পথে সবার সমান অধিকারের শিক্ষাই পেয়েছি। কিন্তু মঙ্গলবার যখন বলা হলো আমাদেরকে নির্দিষ্ট আচরন করতে হবে, তখন আমার নিজের অধিকারটাই হারিয়ে যায়। ” প্রসঙ্গত মঙ্গলবারই দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড সব ক্রিকেটারকে হাঁটু মুড়ে বসবার নির্দেশ দিয়েছিল। যার প্রতিবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলতে নামেননি কক।

কক জানান – ” আমি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে গর্বিত বোধ করি। ম্যাচের দিনই যদি বোর্ডের সঙ্গে কথা বললে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হতো। জানি না কেন একটা নির্দিষ্ট আচরন করেই বোঝাতে হবে বিষয়টা। আমি জীবনের প্রতিটি স্তর থেকে আসা মানুষদের ভালবাসতে শিখেছি। আমি যদি সত্যিই বর্ণবিদ্বেষী হতাম, তাহলে হাঁটু মুড়ে বসে সহজেই মিথ্যা বলতে পারতাম। আমার সাথে যারা বড় হয়েছে, যারা আমার সাথে খেলেছে তারা জানে আমি কেমন। আমাকে বোকা, স্বার্থপর বলা হয়েছে। তাতে আমি দুঃখ পাইনি। বর্ণবিদ্বেষী তকমা লাগায় অনেক বেশি আঘাত পেয়েছি। “

নিজের সতীর্থদের, বিশেষ করে অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার প্রশংসা করেছেন কুইন্টন ডি কক। এখনও স্পষ্ট নয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে এই প্রোটীয় ক্রিকেটারকে খেলতে দেখা যাবে কিনা।