Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ভারতকে ভালবেসে সন্ন্যাসিনীর ব্রত ! ভগিনী নিবেদিতার জন্মদিনে জানুন অজানা কথা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

পাশ্চাত্যের দেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। তারপর ব্রহ্মচর্য ব্রত দীক্ষা নিয়ে ভারতবাসীর কাছে পরিচিত হন নিবেদিতা নামে। ভারতবাসীরা যেমন তাঁকে আপন করে নিয়েছিল, ঠিক তেমনি তিনিও ভারতেরই একজন বীর সেনানী হয়ে উঠেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের চোখ দিয়েই দেখেছিলেন , পরাধীন কুসংস্কারচ্ছন্ন ভারতের আড়ালে থাকা আধ্যাত্বিকতার ঐশ্বর্যে পূর্ণ মহান ভারতকে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে অক্টোবর মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল জন্মগ্রহণ করেন। পিতা স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেলর কাছ থেকেই তিনি মানবসেবার শিক্ষা পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতে এসে নিবেদিতা নামে পরিচিত হন এবং তিনি ছিলেন প্রথম পাশ্চাত্য নারী যিনি ভারতীয় সন্ন্যাসিনীর ব্রত গ্রহণ করেন।

লন্ডনে তাঁর সাথে পরিচয় হয়েছিল স্বামী বিবেকানন্দের। ইতিমধ্যে তিনি লন্ডনের স্বনামধন্য লেখক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে জায়গা করে নেন। লন্ডনের বুদ্ধিজীবীদের সাথে ছিল তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত মেলামেশা। কিন্তু সেখানে চার্চের অধীনে থাকা প্রথাগত ধর্ম জীবনকে তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। ধর্ম সম্বন্ধে নানান বই পড়ে তিনি সন্ধান করছিলেন প্রকৃত ধর্ম জীবনের পথ।

এমত অবস্থায় তিনি কিছুতেই মানসিক শান্তি পাচ্ছিলেন না , ধীরে ধীরে হতাশায ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। এই পরিস্থিতিকে সাবলীল করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল স্বামীজীর ধর্ম ব্যাখ্যা এবং ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁকে গুরু বলে মেনে নেন। মহান ভারতকে ভালোবেসেই ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলেন ১৮৯৮ সালে ২৮ শে জানুয়ারি।

তিনি যখন ভারতে আসেন তখন ভারত পুরোপুরিভাবে ইংরেজ শাসনাধীনে। ওই বছরেই মার্চ মাসে স্বামীজি মার্গারেটকে ব্রহ্মচর্য দীক্ষা দিয়ে নিবেদিতা নাম রাখেন। তখন নিবেদিতার একটাই উদ্দেশ্য ভারতবাসী তথা সমগ্র ভারতের সেবা করা। এই উদ্দেশ্যেই তিনি যুক্ত হন রামকৃষ্ণ সংঘের নানান কার্যকলাপের সঙ্গে।

পরবর্তীকালে তিনি ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছিলেন নারী শিক্ষার কথা। তৎকালীন সময়ে বিখ্যাত বিপ্লবীরা তাঁর কাছে আসতেন, সংগ্রামের ব্যাপারে নানান আলাপ আলোচনার জন্য। সেই তালিকায় ছিলেন বিপিন পাল, বারীন ঘোষ, অরবিন্দ ঘোষ প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তিগণ। বাংলার বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত গ্রেফতার হলে তাঁর পক্ষে জামিনদার হয়েছিলেন নিবেদিতা।

স্বাভাবিকভাবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সন্দেহের তীর তাঁর দিকে যায়। বৈপ্লবিক দলের নেতাদের পরামর্শেই সেই পরিস্থিতিতে তিনি বাধ্য হন লন্ডনে চলে আসতে। পরবর্তীকালে তিনি ভারতের মাটিতে আবার পা রাখেন শুধুমাত্র ভারতবাসীর সেবার উদ্দেশ্যে। আজও ইতিহাসের পাতায় অসামান্য কর্মকাণ্ডের জন্যই তিনি একজন ভারতের বীর সেনানী মৃত্যুঞ্জয়দের মধ্যে অন্যতম একজন হিসেবে রয়ে গেছেন।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ