Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ডনের ‘ট্রাম্প কার্ড’ ট্রুথ সোশ্যাল! আদতেই কি প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি?

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই কিছুটা হাস্যরস, কিছুটা বিরক্তি, আবার অনেকের কাছেই তিনি ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতা। তাঁর যে কোনও বক্তব্য মানেই মাইলের পর মাইল নিউজ প্রিন্ট বা সময় স্লট খরচ। এবারও সেরকমই ঘটনা ঘটল। গত বুধবার, এক নতুন ট্রাম্প কার্ড ফেলেছেন ডন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিবিদ হিসাবে নন, ধনকুবের ও খ্যাতনামা ব্যবসায়ী হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সংস্থা এক নতুন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট চালু করতে চলেছে। নতুন এই সোশ্যাল সাইটের নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’। জানা গিয়েছে নভেম্বর মাস থেকেই বিশেষ অতিথিরা ট্রাম্পের তৈরি এই নয়া সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে প্রাক্তন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার অভিযোগ জানালেও লাভের লাভ হয়নি। আসলে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ‘মিস্টার ডন’ সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিষিদ্ধ তালিকায়। বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করেছে। অগত্যা এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আনতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল কাণ্ডে হিংসায় উৎসাহ জোগানোর অভিযোগে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে ডনের পাল্টা অভিযোগ, তাঁর অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে অথচ জঙ্গি তালিবানদের টুইটে ছেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি। এ কেমন বিচার? এবার কার্যত সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টদের একাংশের এই অবিচারের খাতায় কলমে উত্তর দিতে চলেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নিজের নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ’ নামের এই কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত ‘ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাপ চালু করছি। বড়বড় সংস্থাগুলো আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। আমার জাতীয় উত্তরণের অন্যতম হাতিয়ার আমাকে দিতে অস্বীকার করেছে ৷ সেই প্রতিশোধ নিতে প্রতিযোগিতায় নামবে আমার মিডিয়া সংস্থা।’

এ প্রসঙ্গে দর্পিত প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা, ‘আগামী মাসেই আমন্ত্রিত সদস্যদের নিয়ে শুরু হতে চলেছে এই প্ল্যাটফর্ম। নাম রাখা হয়েছে ট্রুথ সোশ্যাল। যেখানে চাহিদা অনুযায়ী ভিডিও স্ট্রিমিং করা হবে। তবে তা বিনামূল্যে নয়। নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। থাকবে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও।’

এদিকে, জানা গিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটির মালিকানা থাকবে ট্রাম্প মিডিয়া ও টেকনোলজি গ্রুপের হাতে। ডন জানিয়েছেন, ‘নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আসছে টেক জায়ান্টদের একছত্র অধিকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। এই প্ল্যাটফর্ম হবে নিরপেক্ষ। সকলে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।’ নিজের অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা নিয়ে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তালিবানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমরা এমন একটা বিশ্বে বাস করছি, যেখানে তালিবানদের টুইট ছেয়ে গিয়েছে। অথচ আপনাদের প্রিয় আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ এটা গ্রহণ করা যায় না।’

জানা গিয়েছে, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড অ্যাকুইজিশন কর্পোরেশন-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই নতুন কোম্পানিটি তৈরি হবে এবং জনসাধারণ এর অংশীদার হতে পারবেন। উল্লেখ্য, ট্যুইটার এবং ফেসবুকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প তাঁর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট খোলার কথা বলে আসছিলেন। এর আগে তাঁর ওয়েবসাইটে একটি ব্লগ চালুর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পেজে কিছু অস্বস্তিকর দৃশ্য নজরে আসায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রাম্পের বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিপ্রেক্ষিতে শুরু করলেও তাঁর আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমান সমান লড়াই দেওয়ার পর জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরেই একদল লোক আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ভবন হোয়াইট হাউসে ঢুকে পড়ে আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণের পিছেন ট্রাম্পের প্রচ্ছন্ন মদত ছিল বলে দাবি বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টির। ডন এ সময় জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে এই পরাজয় তিনি মানছেন না। এরপর দেশজুড়ে চাপের মুখে পরাজয় স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নয়া সোশ্যাল সাইটের পিছনে ট্রাম্পের স্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। এর আগে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট টুইটারে সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘাত একাধিক বার সামনে এসেছে। এমনকি বিদ্বেষমূলক টুইট করার জন্য ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এখনও টুইটারে ট্রাম্পের কোনও অ্যাকাউন্ট নেই। এই পরিস্থিতিতে নয়া সাইট চালু করে ট্রাম্প যে টুইটারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে চাইছেন বলেই মনে করছেন অনেকে।

তবে সবকিছুই যে এত সহজে হবে, তা মনে হয় না। কারণ ট্রাম্পের খামখেয়ালি মনোভাব গোটা বিশ্বের কাছেই পরিচিত। আর এতদিন ধরে গোটা দুনিয়া জুড়ে ব্যবসা করে আসা সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোকে পরীক্ষার মুখে ফেলা একটি নতুন সংস্থার পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ডনের নতুন ট্রাম্প কার্ড তুরুপ করতে পারে কিনা।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ