Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পরিবেশবান্ধব বাজি তৈরির দাবিতে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ ব্যবসায়ী সমিতি

1 min read

। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যজুড়ে এখন উৎসবের মরশুম। কালীপুজো, দেওয়ালির আসতে বাকী এক সপ্তাহ। তারপরেই আসছে ছট পুজো। আর দীপাবলি, ছট পুজো মানেই বাজি পোড়ানোর আনন্দে মেতে ওঠা। কিন্তু একথাও ঠিক বাজি পুড়তে যতটাই সুন্দর লাগে আবার বাজির কারণে ততটাই ক্ষতি হয় পরিবেশের। বাজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার কারণেই বায়ু দূষণের পরিমাণ বাড়ে। ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে করোনা পজিটিভ রোগীদেরও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কাও থেকে চূড়ান্ত।

ফলে বায়ু দূষণ রুখতে বাজি পোড়ানোর ওপর একাধিক নিয়ম জারি করেছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদ। কালীপুজোর দিন মাত্র ২ ঘণ্টা পোড়ানো যাবে আতশবাজি এবং সেই বাজিকে অবশ্যই হতে হবে পরিবেশবান্ধব। ছটপুজোতেও সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার জন্য আতশবাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় অবশ্যই বাজি পোড়ানোয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি কিন্তু বাজি শিল্পের সাথে জড়িত মানুষদের কী হবে? কীভাবে হবে তাঁদের উপার্জন? এটাও একটা ভেবে দেখবার বিষয়।

আজ এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই নুঙ্গী বাজি বাজারে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল প্রদেশ আতশবাজি ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক শুকদেব নস্কর ছাড়াও INTTUC-র সভাপতি শক্তিপদ মন্ডল, প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য্য, কৃষ্ণেন্দু রায়, মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার রাজীব ঘোষ সহ আরও বিশিষ্টজনেরা।

আজকের বৈঠকের মাধ্যমে যা উঠে এসেছে তা হল, বাজি শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। এ বছর তার ওপর একেবারেই তেমন বাজি বিক্রি হয়নি। ফলে আর্থিকভাবে তাঁরা বিপর্যস্ত। তবে, তাঁরা স্বীকার করেছেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁদের সমস্ত রকম সাহায্য করা হয়েছে। কিন্তু এখন তাঁদের একটাই দাবি, এবছর যা হওয়ার হয়ে গেছে আগামী বছর তাঁরা যেন পরিবেশবান্ধব বাজি তৈরির অনুমতি পান। এই মুহূর্তে বেশিরভাগ পরিবেশবান্ধব বাজি আসে রাজ্যের বাইরে থেকে।

আর এই বাজি তৈরি করতে একটি বিশেষ লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। সেই লাইসেন্সটি তাঁদের করে দেবার জন্য তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে বাজি কমিটির প্রত্যেকে প্রত্যেকেই তাঁদের ভাষণে একটাই কথা বলেছেন, আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের সাহায্যার্থে যাতে বাজি তৈরির প্রক্রিয়া আরও সরলীকরণ করা হোক এবং তাঁদের অনুমোদন পুনরায় নবীকরণ করা হোক যাতে তাঁরা পরিবেশবান্ধব বাজি তৈরি করতে পারেন।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ