Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কেন্দ্রের হলফনামায় নেই স্বচ্ছতা, পেগাসাস কাণ্ডে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন শীর্ষ আদালতের

1 min read

।। সৌম্য বাগচী ।।

সুপ্রিম কোর্ট বুধবার ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি নজরদারির জন্য ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের ব্যবহারের তদন্তের জন্য একজন প্রাক্তন বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। সেই সঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, সমস্যাগুলি সরাসরি উত্থাপিত হয়েছে। গোপনীয়তা এবং বাক স্বাধীনতার অধিকারের উপর ‍‘সম্ভাব্য শীতল প্রভাব’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) এনভি রমনার নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এসসি বিচারপতি আরভি রবীন্দ্রন প্রযুক্তিগত কমিটির কার্যকারিতা তত্ত্বাবধান করবেন, যা ‍‘অভিযোগের সত্য বা মিথ্যা’ খতিয়ে দেখবে এবং দ্রুত একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

বুধবার পেগাসাস গুপ্তচরবৃত্তি মামলার একটি স্বাধীন তদন্ত চেয়ে আবেদনের উপর সুপ্রিম কোর্ট তার রায় দিয়ে বলেছে, পেগাসাস গুপ্তচরবৃত্তি মামলা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি আদালত কেন্দ্রকে কঠোর সমালোচনা করে এদিন বলেছে, যে কোনও মূল্যে জনগণের উপর নজরদারি চালিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অনুমতি দেওয়া যাবে না।

তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে আট সপ্তাহ সময়:


সুপ্রিম কোর্ট তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের জন্য আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এর আগে, প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি হিমা কোহলির একটি বেঞ্চ ১৩ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে পেগ্যাসাস নিয়ে রায় সংরক্ষণ করে বলেছিল, তাঁরা শুধুমাত্র জানতে চান যে, কেন্দ্র নাগরিকদের গুপ্তচরবৃত্তির জন্য বেআইনিভাবে পেগ্যাসাস ব্যবহার করেছে কিনা।

এর আগে বেঞ্চ একটি মৌখিক পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছিল, এই বিষয়টি দেখার জন্য একটি প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করবে। সেই সঙ্গে বেঞ্চ জানিয়েছিল, বিশেষজ্য কমিটিতে রাজনৈতিক কারণে অনেকেই যুক্ত হতে চাইছেন না।

পেগাসাস মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার বলেছে, ‘এই বিষয়ে কেন্দ্র সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি। তাই আবেদনকারীর আবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের আর কোনও বিকল্প নেই। আমরা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি নিয়োগ করব যারা শীর্ষ আদালতের হয়ে কাজ করবে। সুপ্রিম কোর্ট বিশেষজ্ঞ কমিটিকে অভিযোগগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।

বিশেষজ্ঞ কমিটিতে কাদের নিয়োগ করা হয়েছে?


মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আট সপ্তাহ পর। বিশেষজ্ঞ কমিটিতে তিনজন সদস্য থাকবেন। তিন সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আরভি রবীন্দ্রন। অন্য দুই সদস্য হলেন প্রাক্তন ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) অফিসার অলোক জোশী এবং সাব কমিটির (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন/ ইন্টারন্যাশনাল ইলেক্ট্রো-টেকনিক্যাল কমিশন/জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি)-র চেয়ারম্যান ডা. সুন্দীপ ওবেরয়।

এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তিন জনের কমিটিকে প্রযুক্তিগত দিকে সাহায্য করার বিষয়ে থাকবেন ডঃ নবীন কুমার চৌধুরী-অধ্যাপক (সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক ও ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, গান্ধীনগর, গুজরাট-এর ডিন), ড. প্রবাহরণ পি, ‍(অধ্যাপক স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং, অমৃতা বিশ্ব বিদ্যাপীঠম, অমৃতপুরী, কেরালা) এবং ড. অশ্বিন অনিল গুমাস্তে (ইনস্টিটিউটের চেয়ার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও সহযোগী অধ্যাপক কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, বোম্বে, মহারাষ্ট্র)।

গোপনীয়তা লঙ্ঘনের তদন্ত করতে হবে:


বুধবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করে বলেছে, ‘এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেই। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের তদন্ত হওয়া উচিত।’ সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনার পাশাপাশি কেন্দ্রের জবাব সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ।

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তি মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নজরদারি হিসাবে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গোপনীয়তার অধিকারে তখনই হস্তক্ষেপ করা যেতে পারে যখন এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ