Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট! এক বছরে কমেছে ৩১ কেজি ওজন

1 min read

।।সৌম্য বাগচী।।

সরাসরি যোগাযোগ না হলেও বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ অনেক সামাজিক হয়ে উঠেছে। অবশ্য এখানে সামাজিক মানে এই নয় যে, মানুষ বাইরে গিয়ে অন্যদের সঙ্গে দেখা করছেন। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মানে মোবাইল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা। মানুষেরা তাঁদের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করছেন নানা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে। এগুলো প্ল্যাটফর্মগুলি বানানোর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিনোদন এবং সময় কাটানো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এ সব ক্ষেত্রে সময়ের অপচয়টাই বেশি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা ব্রেন্ডা তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (লুজ ওয়েট ডিলিটিং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট) ডিলিট করে বাকি সময়টা নিজের ফিটনেস রুটিনে বিনিয়োগ করেন। ফলস্বরূপ, তিনি মাত্র এক বছরে ৩১ কেজিরও বেশি ওজন ঝড়িয়েছেন। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সময় তিনি অপচয় করতেন, তা থেকে সরে এসে ফিটনেস সচেতন হওয়া তাঁর ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ব্রেন্ডা গত কয়েক বছর ধরেই ওজন কমাতে চেয়েছিলেন। এর জন্য সব ধরণের ডায়েট এবং অনেক কৌশল অবলম্বন করার পরেও তিনি ওজন কমাতে পারেননি। কিন্তু লন্ডনের এই তরুণী এখন দাবি করেছেন যে, তিনি নিজের মোবাইল থেকে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম নামে দুটি অ্যাপ মুছে ফেলার পরেই এক বছরে ৩১ কেজির বেশি ওজন হ্রাস করেছেন।

ব্রেন্ডার মতে, তিনি সবসময় নিটোল ছিলেন। কিন্তু ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তির কারণ খাবারে অবহেলার শুরু হয়। এর ফলে তাঁর ওজন অনেকটাই বেড়ে যায়। গত বছর লকডাউনে তাঁর ওজন কয়েক কেজি বেড়ে গিয়েছিল। এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়ী করেছেন ব্রেন্ডা। তিনি বলেছেন, অনলাইনে তিনি সুস্থ থাকার উপায়গুলি দেখতেন। আর সুস্থ ও স্লিম মানুষদের দেখে তাঁর মনটা আরও খারাপ হয়ে যায়। এতে বিরক্ত হয়ে ব্রেন্ডা নিজের অ্যাকাউন্ট মুছে দেন।

একটি আকস্মিক অলৌকিক ঘটনা ব্রেন্ডা বলেছিলেন যে তিনি তার ফেসবুক এবং ইন্সটা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার সাথে সাথেই তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে তার জামাকাপড় কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢিলে হয়ে যাচ্ছে। তিনি ওজন কমাতে শুরু করেন। মাত্র এক বছরে তিনি তার ওজনের এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে ফেলেছেন। তিনি মনে করেন যে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে না থাকলে তা করা সম্ভব হতো না। এখন ব্রেন্ডা অনেক হালকা বোধ করে। এসব জায়গায় তার সময় নষ্ট না করে সে বেরিয়ে পড়ে জগিংয়ে। এছাড়াও, তিনি তার বেশিরভাগ সময় রান্নায় ব্যয় করেন, যার মধ্যে তিনি স্বাস্থ্যকর জিনিস তৈরি করেন।

একটি আকস্মিক অলৌকিক ঘটনা
ব্রেন্ডা বলেছেন, তিনি নিজের ফেসবুক এবং ইন্সটা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পর লক্ষ্য করেন, তাঁর জামাকাপড় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢিলে হয়ে যাচ্ছে। তাঁর ওজনও কমতে শুরু করে। মাত্র এক বছরে তিনি তাঁর ওজনের এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে ফেলেছেন। ব্রেন্ডা মনে করেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে না থাকলে ওজন হ্রাস সম্ভব হত না। এখন ব্রেন্ডা অনেক হালকা বোধ করছেন। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সময় নষ্ট না করে বেরিয়ে পড়েছেন জগিংয়ে। এছাড়াও, তিনি দিনের অনেকটা সময় ব্যায় করছেন রান্নায়, যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর জিনিস তৈরি।

ওজনে ক্লান্ত ছিল
ব্রেন্ডা বলেন, ‍‘আমি এখন খুব স্লিম। তবে কিশোর বয়স থেকেই স্থূলতায় ভুগছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও ওজন কমার নামগন্ধ হয়নি। আমার ডায়েটে ছিল বেশিরভাগ জাঙ্ক ফুড। যার মধ্যে ছিল প্রচুর পরিমাণ চিপসের প্যাকেট। আমার নিজের ছবি দেখতেও ভাল লাগতো না। আমি ব্যায়ামও করতাম কিন্তু কোন প্রভাব দৃশ্যমান ছিল না।’

সেই সঙ্গে জানান, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য রোগা মেয়েদের দেখে তিনি আরও দুঃখ পেতেন। এসব কাটিয়ে উঠতে তিনি অ্যাকাউন্টটি মুছে দেন। ধীরে ধীরে তিনি জীবন থেকে চিনি বর্জিত করতে শুরু করেন এবং নেট সার্ফিংয়ে যে সময় ব্যয় করতেন তাঁর পরিবর্তে রান্না শুরু করেন। ফলে এক বছরে ৩১ কেজি ওজন কমে ব্রেন্ডার।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ