Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আকাশছোঁয়া দাম হতে চলেছে ফুলের ! ধারের বোঝা বাড়লো ফুলচাষিদের কাঁধে

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

এমনি থেকেই দিনের পর দিন দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে রান্নার মশলার দাম বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে ফুল। যখন কোন জিনিস দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে তখনই তার দাম বৃদ্ধি পায়।

এক বিঘা ফুল চাষ করতে চাষীদের খরচ হয় প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছে। বছর শেষে সেই ফুল বাজারে আসে এবং তার থেকে মুনাফা লাভ হয় চাষীদের। কিন্তু অক্টোবরের টানা বৃষ্টিতে ফুল চাষের জমি রীতিমতো তছনছ হয়ে গেছে। ফুলের সাথেই রয়েছে ফল এবং সবজির ক্ষেত।

• ফুলচাষে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল

রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকে বিঘা পর বিঘা ফুল জমি সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত। গাছের গোড়ায় জল জমে দেখা দিয়েছে পচন রোগ। এছাড়াও ধসা রোগ এবং একের পর এক গাছের পাতা শুকিয়ে যাওয়ায় প্রচুর পরিমাণে ফুল গাছ মরে গিয়েছে।

এই একই সমস্যায় ভুগছেন দুই ২৪ পরগনা এবং মেদিনীপুরের ফুলচাষিরা। হাওড়া বাগনান ১ এবং বাগনান ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুল চাষ হয়। কলকাতার মার্কেটে ফুলের যোগান দিতে অঞ্চল দুটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে এখানকার চাষিরাও রীতিমতো প্রমাদ গুনছেন।

গাঁদা, রজনীগন্ধা এবং গোলাপের ক্ষেতের অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। রানাঘাটের বঙ্কিমনগর, পুরাতন চাপরা , নতুনগ্রাম , পূর্ণনগর, ধানতলা প্রভৃতি এলাকায় ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত। শুধুমাত্র এ রাজ্যেই নয়, বাইরের রাজ্যগুলিতেও এইসব অঞ্চলের ফুলের যথেষ্ট কদর রয়েছে।

• পুজোর মরশুমে ফুলের দর

পুজোর মরশুমে একেকটি পদ্মফুল বিক্রি হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস দরে। ভালো গাঁদা ফুলের মালার দাম থাকে প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত এবং রজনীগন্ধার দাম উঠে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাম নির্ভর করে ফুলের পরিমাণের উপর । এর পাশাপাশি খুচরো ফুলের দাম রয়েছে। এদের সাথে পাল্লা দিয়ে দর হাঁকাচ্ছে দোপাটি, টগর, বেল, চন্দ্রমল্লিকা প্রভৃতি ফুল।

ঋণের দায়ে চাষিরা

অপরদিকে বেশিরভাগ চাষি ঋণ নিয়ে ফুল চাষ করেন এবং পরে মুনাফা থেকে সেই ঋণ শোধ করেন। বৃষ্টিতে জল জমে গিয়ে মাঠের ফুল মাঠেতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আপাতত ফুল চাষিদের মধ্যে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে কীভাবে ঋণ শোধ করবেন। অসময়ে বৃষ্টি সবথেকে বেশি ক্ষতি করেছে গোলাপ ফুলে। বিঘার পর বিঘা চারাগাছ মাটিতেই পড়ে রয়েছে।

• পুজোর মরশুমে ফল ও সবজির বাজার দর

বিশেষ করে পুজোর দিনগুলিতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে বৃদ্ধি পায় ফল , ফুল এবং সবজির দাম। লক্ষ্মী পুজোতে কলকাতার অনেক বাজারে ন্যাসপাতির দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি, আপেলের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি , পেয়ারা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি, শসা প্রায় ৫০ টাকা কেজি, একটুকরো আখ বিক্রি হয়েছে ১০ টাকায়।

অপরদিকে সবজির বাজারেও এই ঊর্ধ্বমুখী মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। একটিমাত্র ফুলকপির দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রায় ৫০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কাঁচালঙ্কা প্রায় ১০০ টাকা কেজি ছিল।

• আকাশছোঁয়া দাম হবে কালীপুজোয়

পুজোর মরশুমে যেখানে ফুল একটি অপরিহার্য উপাদান সেখানে ফুলের দাম তরতরিয়ে বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। প্রবল বৃষ্টিতে একদিকে যেমন ফুল চাষের ক্ষতি অপরদিকে বাজারে বিশাল পরিমাণে চাহিদা। এই দুয়ের মিলমিশে সবকিছুর দাম যে বাড়তে চলেছে তা আগে থাকতেই ধরে রাখুন।

কালীপুজো, ভাইফোঁটা, ধনতেরাস, ছট পুজো উপলক্ষে প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে ছোটখাটো ভোজ উৎসব লেগে থাকে। একদিকে বাজারে চাহিদা অপরদিকে জিনিসের দুষ্প্রাপ্যতা। তাই এবছর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লক্ষ্মী পুজোর বাজারের থেকে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেশি।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ