Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নিয়ন্ত্রণহীন রোহিঙ্গাদের ‘হোপলেস পিপল’ আখ্যা বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

মানবতার খাতিরে বাংলাদেশে আশ্রয় দিলে কী হবে, ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন কোনও না কোনও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও অনিয়মতান্ত্রিক কাজে রোহিঙ্গাদের জড়িত থাকার একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছেন এখন।

পরিবেশ, স্বাস্থ্য আর পর্যটন খাত এরই মধ্যে ঝুঁকিতে পড়েছে। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অপরাধ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যেসব দেশে রোহিঙ্গারা অপরাধ করে ধরা পড়ছে, সেসব দেশ তাদেরকে বাংলাদেশি হিসাবেই চিহ্নিত করছে। কারণ রোহিঙ্গারা অসাধু উপায়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেই বিদেশে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘হোপলেস পিপল’ অপরাধের সঙ্গে জড়াবে- এইটাই স্বাভাবিক। তাদের কাজ নেই, শিক্ষা নেই, দয়ার উপর খাবার জোটচ্ছে, ফলে তারা অপরাধের সঙ্গে জড়াচ্ছে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর এই জনগোষ্ঠী অপরাধী হয়ে গেলে শুধু দেশেই নয়, এই সমস্যা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ সন্ত্রাসীদের কোনও সীমান্ত নেই।

গত রবিবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডি/২ ব্লকে অভিযান চালিয়ে আরসা গোষ্ঠীর জঙ্গি মহম্মদ কেফায়েত উল্লাহকে (৩৫) আটক করা হয়েছে। একই দিন উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এফ/১৮ ব্লকে অভিযান চালিয়ে আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মহম্মদ শফিউল্লাহকে (৩০) আটক করা হয়। এদিকে, একই দিন দু’টি পৃথক অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প-১৮ থেকে আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী মহম্মদ হাশিম (৩৮) এবং ফরিদ হোসেনকে (৩৫) আটক করে এপিবিএন। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলছে।

গত শনিবার উখিয়া উপজেলার ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নজরদারির পর জানা যায়, মায়ানমার থেকে আব্দুল আমিন তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তপথ ব্যবহার করে তার বাবা মায়ের কাছে ডি/২ ব্লকে এসেছে। এছাড়া গত বুধবার উখিয়া উপজেলার কোটবাজার এলাকা থেকে ফাতেমা আক্তার রুমি (১৫) নামে একটি নাবালিকাকে স্কুল থেকে বাড়ি আসার পথে বালুখালী ১০ নম্বর ক্যাম্পের জি-১৫ ব্লকের রোহিঙ্গা যুবক মহম্মদ রিদুয়ানসহ (২২) আরো অজ্ঞাত তিনজন মিলে সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রোহিঙ্গা যুবকটি ভিকটিমের বাড়ির পাশে শমশের আলমের মুরগির ফার্মে কাজ করত। অপহরণের পর ভিকটিমের (আক্তার রুমি) বাবার কাছে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে কল করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চলেছে। সেই সঙ্গে ফোনে হুমকি দিয়ে বলা হয়, মুক্তিপণের টাকা না দিলে তার মেয়েকে নষ্ট করে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে মেয়েটির বাবা উখিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির নেতা সিনিয়র সাংবাদিক নূর মুহাম্মদ সিকদার জানান, ‘ক্যাম্প থেকে লোকালয়ে যত্রতত্র রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণের ফলে দিনদিন অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা হুমকির মধ্যে রয়েছে।’ উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশাল জনগোষ্ঠীর অবস্থান, তাই ঘাপটি মেরে থাকা অপরাধীচক্র ক্যাম্পগুলোতে সবসময় সক্রিয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেষ্টা করে যাচ্ছে এসব অপরাধীদের চিহ্নিত পূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার।’

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ