Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পানীয় জলের ছিঁটেফোঁটা নেই, কীভাবে কাটাছে বারমুডাবাসীর জীবন ? এই গল্প আপনাকে ভাবাবে

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজে প্রচুর পরিমাণে জলের প্রয়োজন হয়। অথচ একবার ভাবুন তো, যেখানে পানীয় জল প্রায় দুর্লভ বা ঝরনা ও নদীর অস্তিত্ব নেই সেখানে মানুষ কী ভাবে দিন কাটাচ্ছে ? অথচ এই বারমুডা দ্বীপের মানুষরা রীতিমতো হেসেখেলেই দিন কাটান। তারা যে অত্যন্ত জল কষ্টে আছেন, তা দেখে একেবারেই বোঝা যাবে না। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে মাত্র ৫৩ বর্গকিমি জুড়ে এই দ্বীপের সৌন্দর্য মন কাড়বে আপনার।

দ্বীপের সমস্ত বাড়ি একই রকম

বিশেষ করে বাড়ি স্থাপত্য বা ছাদ গুলি দেখার মত। যদিও এই বিশেষত্বের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে নানান কারণ। এই দ্বীপেটিকে দূর থেকে মনে হবে, সাজানো রয়েছে সাদা রংয়ের চুনাপাথরের ছাদ। নতুন এবং পুরনো সব বাড়িগুলি প্রায় একই দেখতে। ২০০ বছরের পুরনো বাড়ি আর সদ্য নির্মিত নতুন বাড়ি পাশাপাশি রেখে দূর থেকে দেখলে মনে হবে প্রায় একই দেখতে।

জল সঞ্চয়ে অভিনব ভাবে বাড়ির তৈরি

বাড়ি গুলির এমন অভিনব নির্মাণ কৌশলের পিছনে রয়েছে জলসঙ্কট মেটানোর প্রচেষ্টা। কারণ এই দ্বীপের মানুষরা বৃষ্টির জল সঞ্চয় করে তা সারা বছর পানীয় জল রূপে ব্যবহার করেন। যদিও তার আগেই জল অবশ্যই পরিশ্রুত করে নেন। তারা প্রত্যেকে মেনে চলেন জল অপচয় না করার নীতি এবং শিশুদের ছোট থেকে সেভাবেই শিক্ষা দেন।

• বাড়ির ছাদ তৈরিতে আইন

১৭ শতক থেকেই স্পষ্ট করে আইন করে এখানে বলে দেওয়া হয়, বাড়ির ছাদ কেমন হবে। আইন অনুযায়ী, বাড়ির ছাদ এমন হবে যার ফলে বৃষ্টির জল ভূগর্ভস্থ জলাধারে অনায়াসে সঞ্চিত হতে পারবে। প্রত্যেকের বাড়ির নিচে ১০০ গ্যালনের জলাধার থাকা বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক বাড়ির ছাদ হবে খাঁজকাটা ঢালু নকশার। ফলে সহজেই নিচে জল গড়িয়ে পড়তে পারবে।

ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট

২০ শতকে এখানে পর্যটন শিল্প ফুলে ফেঁপে উঠলে দ্বীপে জল সংকট দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্যা দূরীকরণের জন্য সরকারি তরফ থেকে প্রথম বসানো হয় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট। এর মাধ্যমে সমুদ্রের জল অতি সহজেই পরিশ্রুত করে পানীয় জলে পরিণত করা যায়।

কিন্তু বারমুডাবাসী এক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য নিতে চান না। কারণ তারা বদ্ধপরিকর জল সঞ্চয় কাজের নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখাবেন। তারা মনে করেন যদি সরকারি সাহায্য নেন, তাহলে তারা জীবন যুদ্ধে হেরে যাবেন। যা একেবারেই মানতে নারাজ বারমুডাবাসী।

দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা

২০২০ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের সমীক্ষা অনুযায়ী , এই দ্বীপে বসবাস করেন প্রায় ৬৪০০০ মানুষ। কিন্তু এখানে স্থায়ী বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা দেখলে মনেই হবেনা যে তারা জলসঙ্কটে রয়েছেন। প্রত্যেকে বৃষ্টির জল সঞ্চয় করে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন এবং তার ফলেই তাদের জীবন হেসে খেলে স্বচ্ছন্দে কেটে যায়।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ