Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সেইলের হলফনামা: কেস মিটমাটের জন্য ২৫ কোটি, ভাগ রয়েছে এনসিবি ডিরেক্টরেরও

1 min read

।।সৌম্য বাগচী।।

আরিয়ান খান ড্রাগ কাণ্ড একের পর এক নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। এবার প্রকাশ্যে এল বেসরকারি গোয়ান্দা ও ক্রুজে পার্টি চলাকালীন আরিয়ানের সঙ্গে পার্টি চলকালীন শেলফি তোলা কিরণ পি গোসাভির বডিগার্ড বলে পরিচিত প্রভাকর সেইল-এর হলফনামা এবার প্রকাশ্যে। এদিন সকালেই সেইলের হলফনামা নিয়ে এনসিবি ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ের প্রতি তোপ দেগে শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন, পঞ্চনামার একটি সাদা কাগজে প্রভাকরকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, এর পিছনে টাকার লেনদেনও রয়েছে। যদিও এর কিছু পড়েই সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সমীর ওয়াংখেড়ে জানিয়ে দেন, ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে এবার প্রভাকর সেইলের হলফনামা প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। প্রভাকর জানিয়েছেন, আরিয়ানকে ছাড়ার জন্য ২৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন কিরণ গোসাভি। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী এই দাবি এনসিসি চিফ সমীর ওয়াংখেড়ের তরফে করা হয়েছিল।

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান ড্রাগ কেস-এ নতুন চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এসেছে। কিরণ গোসাবির বডিগার্ড প্রভাকর সেইল একটি হলফনামায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য দিয়েছেন। আজতকের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গোসাভি আরিয়ান খানকে ছাড়ার জন্য ২৫ কোটি টাকা চেয়েছিল। প্রভাকরের হলফনামা অনুযায়ী এই দাবি এনসিবির চিফ সমীর ওয়াংখেড়ের তরফ থেকে করা হয়েছিল এবং তাঁর ভাগেও টাকা যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এদিকে, প্রভাকর আবার আরিয়ান খান ড্রাগস কেসে এনসিবির সাক্ষীও বটে।

হলফনামায় কী বলেছেন প্রভাকর সেইল?


১) ১ অক্টোবর, গোসাভি সেইলকে ফোন করে পরের দিন সকাল ৭.৩০-এর মধ্যে প্রস্তুত হতে বলে। গোসাভি তখন আহমেদাবাদ চলে গিয়েছেন। ২ অক্টোবর প্রভাকর সেইলকে সন্ধ্যায় একটি লোকেশন পাঠানো হয়, যা ছিল এমসিবি অফিস। সেখানে তাঁকে বলা হয় পরের দিন আসতে। ৩ অক্টোবর (অভিযানের পরে) সেইল এনসিবি অফিসে পৌঁছে যান তখন সেখানে অফিসারদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেপি গোসাভি। প্রভাকরকে নির্দেশ দেওয়া হয় অপেক্ষা করার।


২) কিছুক্ষণ পর গোসাভি ফিরে এসে এনসিবি অফিস থেকে ৫০০ মিটার দূরে স্যাম ডিসুজা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন। প্রভাকর জানিয়েছেন, তাঁরা পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন।


৩) গোসাভির গাড়ির চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচ মিনিটের মিটিং শেষে প্রভাকরকে নিয়ে ফিরে এসে অন্য স্থানে রওয়ানা দেন গোসাভি। সেই সময় গোসাভি স্যামকে ফোনে বলছিলেন, ‍‘…আপনি ২৫ কোটি টাকার বোমা রাখুন এবং আসুন ১৮ ফাইনালে নিষ্পত্তি করি কারণ আমাদের আট কোটি টাকা সমীর ওয়াংখেড়েকে দিতে হবে।’


৪) শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানি এসে স্যাম ও গোসাভির সঙ্গে দেখা করেন এবং তিনজন একটি গাড়ির ভেতরে কথা বলেন।


৫) গোসাভি স্পষ্টতই সেইলকে একটি জায়গা থেকে ৫০ লক্ষ নগদ সংগ্রহ করতে বলেছিলেন এবং সেইল টাকাটি গোসাভির কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। এরপর চালককে বলা হয় স্যামকে টাকা দিতে। যখন তিনি ব্যাগগুলি বিতরণ করেছিলেন এবং স্যাম গণনা করেছিলেন তখন ব্যাগে ৩৮ লক্ষ টাকা ছিল।


৬) সেইল তাঁর হলফনামায় লিখেছেন, ‍‘কেপি গোসাভি এখন নিখোঁজ এবং আমি আশঙ্কা করছি যে, এনসিবি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা আমাকে হত্যা করতে পারে অথবা আমাকে অপহরণ করতে পারে।’


৭) হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, সেইলকে এনসিবি অফিসে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হয়েছিল যেখানে তিনি আরিয়ান খানকে দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‍‘যখন আমি এনসিবি অফিসে পৌঁছলাম তখন সমীর ওয়াংখেড়ের নির্দেশ অনুযায়ী সালেকর নামক এক কর্মী আমাকে দশটি ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। এনসিবি অফিসার আমার আধার কার্ড সম্পর্কেও বিশদ জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন আমার কাছে আধার কার্ড ছিল না, তাই আমাকে বলা হয় হোয়াটসঅ্যাপে একটি সফট কপি পাঠাতে।’

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ