Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয় খুনের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১০

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীর ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ছয় জনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এসপি শিহাব কায়সার খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হত্যা ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) থেকে শনিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত একাধিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনিএ প্রসঙ্গে শিহাব কায়সার বলেন, ‘নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৫ জনের নাম ও অজ্ঞাত আরও ২০০-২৫০ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করেন। এ মামলার এজাহারনামায় উল্লিখিত সন্দেহজনক পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। শিগগির বাকিদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের নামও- মজিবুর রহমান (১৯), দিলদার মাবুদ ওরফে পারভেজ (৩২), মহম্মদ আইয়ুব (৩৭), ফেরদৌস আমিন(৪০), আব্দুল মজিদ (২৪), মহম্মদ আমিন (৩৫), মহম্মদ ইউনুস ওরফে ফয়েজ (২৫), জাফর আলম (৪৫), মহম্মদ জাহিদ (৪০), মহম্মদ আমিন (৪৮)। এর মধ্যে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে উখিয়া থানায় আরেকটি মামলা করেছে বলেও জানান এসপি শিহাব কায়সার খান। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর সোয়া ৪টার দিকে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসায় মুখোশ পরা একদল দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এরপর গুলিবিদ্ধদের কুপিয়ে, গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত বেশ কয়েকজনের হাতের আঙ্গুলসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিহতরা হলেন, ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে ৫ এর বাসিন্দা ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মহম্মদ ইদ্রিস (৩২), ক্যাম্প-৯ ব্লক-২৯ এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর পুত্র ইব্রাহিম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮ ব্লক-এইচ-৫২ এর স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থী আজিজুল হক (২২) ও মহম্মদ আমিন (৩২)।

হাসপাতালে মৃতরা হলেন- ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২-এর মাদ্রাসা শিক্ষক নূর আলম ওরফে হালিম (৪৫), এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪-এর মাদ্রাসা শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত স্বজনদের দাবি, মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী কথিত আরসার (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত) সন্ত্রাসীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রোহিঙ্গাদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, তাদের ক্যাম্প ভিত্তিক সব মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিতে আরসা গোষ্ঠী চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি মাদ্রাসা পরিচালনায় দু’জন আরসা সদস্যকে কমিটিতে রাখার প্রস্তাব দেয় তারা (আরসা নেতারা)। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তাতে রাজি হননি। যদিও এরই মধ্যে অনেক মাদ্রাসা দুর্বৃত্ত সংগঠন আরসার নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে সূত্রটি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এবিপিএন-৮ এর এসপি শিহাব কায়সার খান বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যেসব বিষয়গুলো উঠে এসেছে সেসবগুলোতে গুরুত্ব সহকারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী রোহিঙ্গাদের কেউ আশ্রয় দিচ্ছে এমন প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবারের ঘটনার সঙ্গে মুহিবুল্লাহ হত্যার যোগসূত্র আছে কি না তা অধিকতর তদন্তের বিষয়।’ ক্যাম্পে কর্মরত ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক বলেন, ‘ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এটা সঠিক। কিন্তু ক্যাম্পে কোনও দুর্বৃত্ত সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। যদিও নানা সংগঠনের নামে এরা অপকর্ম চালানোর চেষ্টা করে তারা, সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সবকিছু নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।’

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ