Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

জঙ্গিদের ‘হানি ট্র্যাপ’! বিপদ আসার আগেই চিহ্নিত ৩০ জওয়ান

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

জম্মু এবং কাশ্মীরে নিরপত্তা বাহিনীর জোরাদার তল্লাশী আর সীমান্ত ঘিরে কড়া নজরদারির ফলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি খুব অসুবিধায় পড়েছে। নতুন নতুন তরুণ খুঁজে বের করে ভারতবিরোধী ভাবধারায় দীক্ষীত করে তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ সহ নানা তালিম দিয়ে জঙ্গি গড়ে তোলার পথটা সন্ত্রাবাদী দলগুলোর কাছে এখন খুবই দুর্গম। পাশাপাশি করোনা কালে একসঙ্গে শিবিরে থাকাটাও তাদের কাছে বিপদজনক। তাই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি এবার নতুন পথের আশ্রয় নিয়েছে। আর সেই পথটা হল বহুল প্রচলিত ‘হানি ট্র্যাপ’। আর এক্ষেত্রে তাদর সফট টার্গেট সেনাবাহিনী ও পুলিশের কর্মীরা। গোয়েন্দাদের দাবি বহুদিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি বানানোর পথে আর হাঁটছে না আতঙ্কবাদী গোষ্ঠীগুলি। লস্কর-ই-তৈবা সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট বা ইউএলএফ এখন মহিলাদের ব্যবহার করেই ‘রেডিমেড জঙ্গি’ ধরতে চাইছে। আর এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করছে হানি ট্র্যাপ।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, সম্প্রতি অনলাইনে এমন ‘রেডিমেড সন্ত্রাসবাদী’ নিয়োগের প্রচেষ্টা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। এই তালিকায় রয়েছেন মাঝারি স্তরের অফিসার থেকে নিচু তলার পুলিশ কনস্টেবল বা সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। কারণ এঁদের নতুন করে অস্ত্র প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই, শারীরিক ভাবেও এঁরা যথেষ্ট সক্ষম, তাই নতুন করে কসরত শেখানোর দরকার নেই। পেশাগত কারণে চেহারা এমনিতেই ফিট। শুধু প্রয়োজন একটু মগজধোলাই করে জেহাদি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা। এ আর এমন কি কঠিন কাজ! এর জন্য প্রস্তুত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মহিলা ব্রিগেড। এই মহিলারা গত দেড়-দু’বছরে জম্মু এবং কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সব মিলিয়ে অন্তত ৩০ জনকে ‘রেডিমেড জঙ্গি’ হিসাবে ‘টার্গেট’ করেছিল। এই সব নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মীদের বেশির ভাগই পোস্টেড বারামুলা, অনন্তনাগ ও বন্দিপুরার মতো সীমান্ত লাগোয়া এলাকায়।

গোয়েন্দাদের দাবি, ওই ৩০ জনের সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার উইমেন্স উইংয়ের প্রায় এক ডজন সদস্য প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব করে, তার পর ধীরে ধীরে অনলাইনেই ঘনিষ্ঠ হয় এবং শেষমেশ প্রেমের জবরদস্ত ফাঁদে ফেলে। তবে এই সব কর্মীদের মাথায় জেহাদি ভাবধারা ঢোকার আগেই তাঁদের চিহ্নিত করে ফেলেন গোয়েন্দারা। তাই সেরকম বিপদ কিছু ঘটেনি। এক গোয়েন্দা অফিসার জানিয়েছেন, ‘ওঁদের সবাই এখন আফসোস করছেন যে, নিছক মহিলাদের প্রতি আসক্তি থেকে তাঁরা দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার অবস্থায় প্রায় নিয়ে যেতে বসেছিলেন।’ ওই তদন্তকারী অফিসারের বক্তব্য, ‘ওঁরা আসল ব্যাপারটা না-জেনেই এই পথে পা বাড়িয়েছিলেন। তবে ঠিক যে সময়ে আমাদের হাতে সবটা এল, তার চেয়ে আর একটু দেরি হলে বিপদ হতে পারত। জেহাদি আদর্শ গেড়ে বসার আগেই আমরা ওঁদের নিরস্ত করতে পেরেছি। ওই ৩০ জনকে বলা হয়েছে, অসতর্কতাবশতও এমন কিছু ফের করলে চাকরি তো যাবেই, জেলেও যেতে হবে।’

শুধু হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়াই নয়, ওই ৩০ জনকে তাঁদের মারাত্মক ভুলের কথা মাঝেমধ্যেই মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের প্রতিনিয়ত কাউন্সেলিংও করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা আর এরকম ভুল না করেন। সেই সঙ্গে জানা গিয়েছে, কোনও ব্যবস্থা না-নিয়ে শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হলেও ওই ৩০ জনের উপর টানা নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে- অনলাইনে এবং অফলাইনে। গোয়েন্দাদের দাবি, ‘রেডিমেড জঙ্গি’ টার্গেট করার ক্ষেত্রে প্রথমে অনলাইনে হানি ট্র্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে কোনও জওয়ান বা অফিসারকে। তারপর তাঁকে জেহাদি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং শেষমেশ বাহিনীর মধ্যে থেকেই তাঁকে জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ করতে বলা হচ্ছে। এই শেষ ধাপের নিয়ন্ত্রণ অবশ্য পুরোপুরি পাকিস্তানে বসা লস্করের চাঁইদের হাতে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories