Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হাইকোর্টে সরকার: হোয়াটসঅ্যাপ দেশের আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

কেন্দ্র দিল্লি হাইকোর্টে তার নতুন আইটি নিয়মের আইনি বৈধতা রক্ষার জন্য দাবি করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং তার মূল সংস্থা ফেসবুকের আবেদনের বিরোধিতা করে কেন্দ্র বলেছে, এই বিশ্বব্যাপী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বিদেশি বাণিজ্যিক সংস্থা। এরা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নতুন আইটি নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপ, তথ্যের প্রথম প্রবর্তককে সনাক্ত করার জন্য বলেছে যে, আইন এই ধরনের সংস্থাগুলিকে নিরাপদ সাইবারস্পেস তৈরির প্রত্যাশা করার ক্ষমতা দেয়। কেন্দ্রে মতে, হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকের উচিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করে বেআইনি বিষয়বস্তু প্রতিরোধ করা।

কেন্দ্র বলেছে যে, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ৮৭ মধ্যস্থতাকারী বিধিগুলির বিধি ৪(২) প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছে। যা ‘বৈধ রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তথ্যের প্রথম উদ্যোক্তার সনাক্তকরণ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মধ্যস্থতাকারীকে বাধ্যতামূলক করে’, সেই সঙ্গে ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলার পাশাপাশি মহিলা ও শিশুদের সম্পর্কিত গুজব এবং অপরাধের হুমকিও রোধ করার কথা তথ্য প্রযুক্তি আইনে উল্লিখিত রয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টের দাখিল করা একটি হলফনামায় কেন্দ্র বলেছে যে, একটি বিদেশি বাণিজ্যিক সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ ভারতীয় আইনের সাংবিধানিকতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। সেই সঙ্গে যোগ করা হয়েছে যে, সংস্থাটির ভারতে কোনও ব্যবসার জায়গা নেই, তবুও তার ব্যবহারকারীরা দ্বারা তৈরি তথ্য প্রচার করে চলেছে। কেন্দ্র হলফনামায় বলেছে, ‍‘আইনের বিধানের সাংবিধানিকতাকে একটি বিদেশী বাণিজ্যিক সত্তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। কারণ এটি অনুচ্ছেদ ১৯ অধিকারের লঙ্ঘনকারী। উল্লিখিত অধিকার শুধুমাত্র নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ।’

নতুন তথ্য প্রযুক্তি (ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস এবং ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স কোড) বিধিমালা, ২০২১ এবং এর বিধানকে রক্ষা করে একটি বার্তার প্রবর্তককে সনাক্ত করার অনুমতি দেয়। সরকার বলেছে যে এটি আইন প্রয়োগকারীকে অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি। সুপ্রিম কোর্টের আগের আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে সরকার বলেছে যে, যৌন অপরাধের উপর ইলেকট্রনিক তথ্য তৈরি এবং প্রচার করে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা কর্তব্য। সরকার হোয়াটসঅ্যাপের দাবিকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে যে, ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্মের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বৈশিষ্ট্যকে ভঙ্গ করে দেবে, অন্যান্য ব্যবহারকারীদের বাধা না দিয়ে প্রেরক বা বার্তার নির্মাতাকে ট্রেস করার জন্য কোম্পানির কাছে প্রযুক্তি উপলব্ধ রয়েছে।

সরকার হোয়াটসঅ্যাপের নতুন গোপনীয়তা নীতি নিয়ে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এটি ফেসবুকের সাথে তথ্য ভাগ করার অনুমতি দেয়, যা ববহারকারীদের প্রোফাইলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর বাধ্যতামূলক গোপনীয়তা নীতির অধীনে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা ফেসবুকের সঙ্গে ভাগ করা হবে, যা প্রোফাইলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধরনের প্রোফাইলিং রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও সম্ভবপর এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি জাতির নিরাপত্তা, এর সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার ক্ষতি করতে পারে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories