Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ইকবাল গ্রেফতারেই সব শেষ নয়! মণ্ডপে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড়ের দুর্গাপূজার মণ্ডপে কোরান শরিফ রাখার প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন পুলিশকে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, সেই মাজার থেকে কোরান শরিফ নিয়ে এসে মণ্ডপে রেখেছিল। কিন্তু এতেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়েছে? এই সব ঘটনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। আজ শুক্রবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নগুলো তুলে ধরে সংগঠনটি। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপুজার সময় সারা দেশের পুজো মণ্ডপে সাম্প্রদায়িক শক্তির হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সামবাদিকদের সামনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চট্টোপাধ্যায়।

নির্মলবাবু বলেন, ‘কুমিল্লার নানুয়া দীঘিরপাড়ের মণ্ডপটি অস্থায়ী। ওই দিন দিবাগত রাত তিনটে থেকে চারটের দিকে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) কিছু সময়ের জন্য মণ্ডপ এলাকা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কী কারণে কিছু সময়ের জন্য মণ্ডপ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে কি?’ তাঁর দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ‘থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হনুমান মূর্তির কোলের উপর রাখা পবিত্র কোরান শরিফটি সরিয়ে নেওয়ার পর কেন ভিডিও করার সুযোগ দিলেন এবং কেন সে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে? এটাও তো সবার কাছে বিরাট প্রশ্ন হিসাবে দেখা দিয়েছে।’ নির্মল চট্টোপাধ্যায় সেই সঙ্গে বলেন, ‘দুর্গা পুজোর আগে ৪ঠা অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ৬ই অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার, পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়। প্রতিটি সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে মতামত দিয়েছিলেন। প্রতিটি সভায় নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।’

পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘২০১২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বা হচ্ছে। কোনও কোনও হামলার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় অংশগ্রহণের ঘটনাও ঘটেছে। দেশে আইন আছে।’ সেই সঙ্গে নির্মলবাবু বলেন, ‘প্রকৃতই কোনও ব্যক্তি, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক অপরাধ করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে একজনের কথিত অপরাধে একটি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা প্রকারান্তরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশান্তরি করার নীলনকশার অংশ বলে সাধারণ হিন্দুরা মনে করে। বিচারহীনতা বা বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি দুষ্কৃতকারীদের উৎসাহিত করছে।’

সেই সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগ করেন, ‘রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক দোষারোপের কারণে প্রকৃত দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থার জন্য সুখকর নয়।’ এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্ণ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির, বাড়িঘর সরকারি খরচে নির্মাণের দাবি করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা নিতেও দাবি করা হয়।

আগামী ৪ঠা নভেম্বর হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব। সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই পুজোর কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। এবারের শ্যামা পুজো ও দীপাবলি উৎসব বর্জন করার ঘোষণা করেন নির্মল চট্টোপাধ্যায়। তবে প্রতিমা পুজো হবে বলে জানানো হয়েছে এদিনের সম্মেলনে। সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি কাজল দেবনাথ, উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন, মহানগর কমিটির সভাপতি শৈলেন মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোর মণ্ডল প্রমুখ।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ