Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ফের কি হানা দিতে পারে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের নতুন নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। ইতিমধ্যে, সার্স-কোভ-২-এর চারটি প্রভাবশালী রূপ বৈশ্বিক জনসংখ্যার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

সেগুলি হল:

আলফা ভ্যারিয়েন্ট- (আগে ইউকে ভ্যারিয়েন্ট বলা হত, এটি বি.১.১.৭ নামে পরিচিত), এটি প্রথম পাওয়া যায় লন্ডন এবং কেন্টে।
বিটা ভ্যারিয়েন্ট- (আগে এটিকে বলা হত আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্ট, এটি বি.১.৩৫১ হিসাবে পরিচিত)।
গামা ভ্যারিয়েন্ট- (আগে এটিকে ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট বলা হত, এটি পি.১ নামে পরিচিত)।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট- (আগে এটিকে ইন্ডিয়া ভ্যারিয়েন্ট বলা হত, এটি বি.১.৬১৭ হিসাবে পরিচিত)।

এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ডেল্টা প্লাস নিয়ে এমনিতেই চিন্তিত গোট বিশ্ব। সবথেকে বিপদজনক ও সংক্রমণ ক্ষমতা ধারক ভ্যারিয়েন্ট হিসাবে এটি চিহ্নিত হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিছনে এই ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে বলে মনে করা হয়। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, কোভিড-১৯-এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসছে কি? এটিই এখন লক্ষ টাকার প্রশ্ন। বিশ্বের অনেক দেশে ভ্যাকসিন নেওয়া সত্ত্বেও কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যতদিন এই ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করবে, ততদিন পর্যন্ত করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসবে। তবে এর মানে এই নয় যে, নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসবেই বা সেগুলি আরও বিপজ্জনক হবে। করোনা সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষকে এখনও ভ্যাকসিন দেওয়া বাকি। তাই তাঁরা জানাচ্ছেন আরও কয়েক মাস শুধু নয়, কয়েক বছর ধরে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাঁরা ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ‘যখন ভাইরাসটি তার ভ্যারিয়েন্টে পরিবর্তন তৈরি করে, তখন তা আরও কিছুদিন টিকে থাকে, এর ফলে নতুন রূপের সৃষ্টি হতে পারে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভ্যানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু রিড বলেছেন, ‘যখন একটি ভাইরাস নতুন প্রজাতিতে সংক্রমিত হয়, তখন এটির আরও ছড়িয়ে পড়ার জন্য একটি নতুন হোস্টের প্রয়োজন হয়।’ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অ্যাডাম লরিং বলেন, ‘রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের মতে, বৈকল্পিক ভাইরাস আগের রূপের চেয়ে বেশি সংক্রামক। এটি আরও সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে, তবে এটি আগের চেয়ে দ্বিগুণ সংক্রমণ হারে নাও থাকতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে ভাইরাসটি আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে ঠিকই, তবে আরও সংক্রামক নয়। ভাইরাসের উদ্ভূত নতুন রূপটি সংক্রমণ বা ভ্যাকসিন দ্বারা প্রভাবিত হয় কিনা, সে প্রসঙ্গে ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডঃ জোশুয়া শিফার বলছেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার পর করোনা হতে পারে। এই ভাইরাস কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেবে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, যদি এটি ঘটে তাহলে আমাদের ভ্যাকসিন আপডেট করতে হবে এবং প্রতি বছর ফ্লুর ভ্যাকসিনের সঙ্গে এটিও (কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন) একইভাবে দিতে হবে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories