Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কক্সবাজারের উখিয়ায় ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ৭

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।

বাংলাদেশের হিংসা যেন কিছুতেই থামছে না। তবে এবার সে দেশের সংখ্যলঘু হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ নয়, রোহিঙ্গাদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ। যার ফলে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে সাত জন আর আহতের সংখ্যা কম-বেশি দশ জন। ঘটনাটি ঘটেছে, কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে। সেখানে দু’টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার ২৩ দিনের মাথায় আজ (শুক্রবার) ভোররাতে উখিয়া উপজেলা পালংখালী ইউনিয়নের থাইনখালীর বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খাঁন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে এই সংঘর্ষ, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, রোহিঙ্গারা বলছেন, মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি ও ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্য সংঘর্ষ হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত রোহিঙ্গারা হলেন উখিয়ার বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পের মহম্মদ ইদ্রিস (৩২), বালুখালী ১ নম্বর ক্যাম্পের ইব্রাহিম হোসেন (২২), বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ ব্লকের আজিজুল হক (২৬), মহম্মদ আমিন (৩২), রোহিঙ্গা শিবিরের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া’ মাদ্রাসার শিক্ষক ও ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২–এর নূর আলম ওরফে হালিম (৪৫), মাদ্রাসা শিক্ষক ও ক্যাম্প-২৪–এর হামিদুল্লাহ (৫৫) ও মাদ্রাসা ছাত্র ও ক্যাম্প-১৮, ব্লক- এইচ- ৫২-এর নূর কায়সার(১৫)। এর মধ্যে শেষের তিনজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই তিন রোহিঙ্গার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ( এপিবিএন) উপ-অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিহত তিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে থাকা একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র। ভোরে গোলাগুলির ঘটনায় প্রথমে ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে শুক্রবার সকালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। এ নিয়ে মোট সাত জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খাঁন বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাত রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁদের মৃতদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।’ পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খাঁন সেই সঙ্গে জানান, ‘আজ শুক্রবার ভোর চারটের দিকে উখিয়া বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এত সাত রোহিঙ্গা নিহত ও আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। ঘটনার পর অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারের অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত মুজিবুর রহমান নামের একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া শিবিরের ডি ব্লকের ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সংগঠন’-এর কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ (৪৮)। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। হামলার জন্যদায়ী করা হয় মায়ানমারের সশস্ত্র গ্রুপ ‘আরাকান স্যালভেশন আর্মি’ আরসাকে (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত)। সে সময় আরসার কয়েকজন অস্ত্রধারীর নামও প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মুহিবুল্লাহকে খুনের ঘটনায় পুলিশ পাঁচ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে। দু’দফায় ওই পাঁচ রোহিঙ্গাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে উখিয়া থানার পুলিশ। তাঁদের একজন মহম্মদ ইলিয়াস কক্সবাজার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। কিন্তু মুহিবুল্লাহ হত্যার মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মায়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন আট লক্ষ রোহিঙ্গা। এর আগে বাংলাদেশে পা রাখেন আরও কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লক্ষ।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories