Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘কঠিন লক্ষ্য পূরণ করতে ভারত এখন সক্ষম’,জাতির উদ্দেশে ভাষণ মোদীর

1 min read

।।প্রথম কলকাতা।।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে ১০০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য অর্জন করে ভারত সমস্ত প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথা বলার উদ্দেশ্য হল, এর আগে বহুবার প্রশ্ন উঠেছিল, এত বিপুল জনসংখ্যার দেশে কী ভাবে ভ্যাকসিনেশন সম্ভব ও মহামারী রোধ সম্ভব। তাই ১০০ কোটি ভ্যাকসিনেশনের বিরল মাইলফলক অতিক্রম সেই প্রশ্নেরর জবাব দিয়েছে বলে মনে করছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‍‘অন্যান্য দেশের দক্ষতা রয়েছে, তবে ভারত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিন কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জন করেছি।’ ভারতীয়রা এই মহামারী মোকাবেলা করতে পারে কিনা, ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা পাবে কোথায়,, ভারতীয়রা কি ভ্যাকসিন পাবে নাকি পাবে না, মহামারী ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ভারত কি অনেককে টিকা দিতে পারবে? এই সব প্রশ্নের উত্তরে মোদী বলেন, ‍‘এক বিলিয়ন-ই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’

ভারত ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনের একদিন পরে,, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, ভারত প্রমাণ করেছে যে এই দেশ কেবল কঠিন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সক্ষম নয়, সেগুলি অর্জন করতেও সক্ষম। তিনি বলেন, ‍‘এক বিলিয়ন ডোজ দেওয়ার একটি কঠিন কিন্তু অস্বাভাবিক সাফল্য পূরণ হয়েছে, এই সাফল্য প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের। আমি তাঁদের হৃদয়ের গভীর থেকে অভিনন্দন জানাই।’ টেলিভিশনে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‍‘এই অর্জন ভারতের সক্ষমতার ইঙ্গিত এবং ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’ ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের সক্ষমতা নিয়ে যে সংশয় দেখা গিয়েছিল, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‍‘যে গতিতে ভারত এক বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, তার প্রশংসা করা হচ্ছে, কিন্তু এক্ষেত্রে একটি বিষয় রয়েছে যা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আমরা কোথায় শুরু করেছি? অন্যান্য দেশ নিজেদের গবেষণা ইত্যাদিতে দক্ষতা ছিল, প্রথমদিকে ভারত মূলত এই দেশগুলির ভ্যাকসিনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে আমার নিজেরাই ভ্যাকসিন প্রস্তুতে সক্ষম হয়ে উঠেছি।’

কেবলমাত্র চীন ভারতের থেকে বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সম্পন্ন করেছে। ভ্যাকসিন অভিযানের সময়কাল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকাপ্রাপ্তদের সংখ্যা বিচার করে বিশ্ব এখন ভারতকে নিরাপদ মনে করবে। তিনি বলেন, ‍‘ভারত ফার্মা হাব হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং পুরো বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ভ্যাকিসিন অভিযান সরকারের ‍‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ মন্ত্র’-র (সম্মিলিত প্রচেষ্টা, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি) সবচেয়ে বড় উদাহরণ। মোদী সেই সঙ্গে বলেন, ‍‘মহামারীর শুরুতে আশঙ্কা ছিল যে ভারতেরা কাছে এই লড়াই কঠিন হবে। কিন্তু আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিনেশন অভিযান নিশ্চিত করেছি। এক্ষেত্রে একটি মাত্র মন্ত্র ছিল- ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে কোনও ভেদ ভাব, কোনও বৈষম্য থাকবে না। কোনও ভিআইপি সংস্কৃতি থাকবে না। একজন ব্যক্তি যতই ধনী বা শক্তিশালী হোক না কেন, তিনিও সাধারণ মানুষের মতোই ভ্যাকসিন পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিনের দ্বিধা সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করে বলেছেন, ভারত সন্দেহভাজনদের ভুল প্রমাণ করেছে, যাদের প্রত্যাশিত সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, ‍‘কেউ কেউ বলেছিলেন, মানুষ ভ্যাকসিনের জন্য আসবে না, অনেক দেশে ভ্যাকসিনের দ্বিধা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু ভারতীয়রা তাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।’ নরেন্দ্র মোদী তাঁদের উপর একটি ‍‘পট শট’ও নিয়েছেন, যাঁরা প্রধানমন্ত্রীর প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানের সমালোচনা করেছিলেন এবং ধাতব প্লেট বা থালা বাজানো স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের নিন্দা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‍‘কেউ কেউ বলেছিলেন যে প্রদীপ জ্বালালে আর থালা বাজালেই কি রোগটা চলে যাবে? কিন্তু আমাদের জন্য বিষয়টি দেখেছি, ঐক্য এবং সম্মিলিত শক্তি হিসাবে। এটাই আমাদের এত অল্প সময়ে এক বিলিয়নে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিনেশন অভিযানের গতি এবং নাগালের জন্য প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের কৃতিত্ব দিয়েছেন এদিনের জাতির উদ্দেশে ভাষণে। তিনি বলেন, ‍‘এটা গর্বের বিষয় যে, পুরো প্রোগ্রামটি ছিল বিজ্ঞানভিত্তিক ও বিজ্ঞানচালিত। ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে শুরু করে ভ্যাকসিন দেওয়া, প্রতিটি ধাপে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছিল।’ মোদী এদিন কোউইন প্ল্যাটফর্মের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম জনসাধারণকে সাহায্য করেছে এবং চিকিৎসা কর্মীদের জন্য কাজ সহজ করেছে। এদিকে বিরোধী দলগুলো এখন সরকারকে কোণঠাসা করে দিচ্ছে অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যস্ফীতি নিয়ে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‍‘আমরা এ সব বিষয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‍‘ আজ ভারতীয় সংস্থাগুলো কেবল রেকর্ড বিনিয়োগই পাচ্ছে না বরং কর্মসংস্থানের পথও খুলে যাচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী গতিশক্তি এবং একটি নতুন ড্রোন নীতির মতো বেশ কিছু নীতিগত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন, যা বৃদ্ধিকে প্রেরণা দিয়েছে ও মেক ইন ইন্ডিয়ার জন্য একটি পথ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‍‘একটা সময় ছিল যখন অন্য দেশে তৈরি পণ্য জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু এখন সমস্ত ভারতীয় সাক্ষ্য দিচ্ছে যে মেড ইন ইন্ডিয়া আরও শক্তিশালী।’ তিনি বলেন, স্বচ্ছ ভারত অভিযান যেমন একটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে, তেমনই ভারতে তৈরি পণ্যকে কেনাও বড় পরিসরে নেওয়া উচিত। মোদী বলেন, ‍‘গত দিওয়ালিতে উত্তেজনা ছিল, এ বছর আত্মবিশ্বাসের অনুভূতি রয়েছে। ভ্যাকসিন যেমন আমাদের সুরক্ষিত করবে, দেশে তৈরি পণ্যগুলোও আমাদের উৎসবকে আরও ভাল করবে।’

আসন্ন উৎসবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‍‘‍মানুষকে এখনও সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। যতই আধুনিক হোক না কেন আমরা বল ফেলতে পারি না। যতক্ষণ না যুদ্ধ শুরু হচ্ছে তার জন্য অস্ত্র ফেলে রেখে আমরা অপেক্ষা করতে পারি না। আমাদের উৎসবগুলি খুব যত্ন সহকারে উদযাপন করতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে। আমরা যেমন জুতা পরি, ঠিক তেমনই মাস্ক পরা আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। যাঁদের এখনও ভ্যাকসিন নেওয়া হয়নি তাঁদের এটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাকিদেরও ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে।’

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ