Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘কুমিল্লার ঘটনা খুবই দুঃখজনক, বাংলাদেশ সর্ব ধর্মের’, মন্তব্য শেখ হাসিনার

1 min read


।।প্রথম কলকাতা।।

কুমিল্লার হিন্দু নির্যাতন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সর্ব ধর্মের সমন্বয় উল্লেখ করার পাশপাশি অদ্ভুত কথা শোনালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘কু’ শব্দটাই নাকি তিনি বাদ দিয়ে দিতে চান। মুজিব কন্যা বৃহস্পিতিবার বলেন, ‘বিভাগের ব্যাপারে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দু’টি নদীর নামে দু’টি বিভাগ বানাব। একটা পদ্মা আর একটা মেঘনা। ‘কু’ নাম দিয়ে আমি কোনও বিভাগ রাখবো না। ফরিদপুর বিভাগ হবে পদ্মা নামে আর কুমিল্লা বিভাগ হবে মেঘনা নামে।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামি লিগ কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন তিনি। কুমিল্লার সংসদ সদস্য বাহারউদ্দিন বাহার প্রধানমন্ত্রীকে কুমিল্লা নামে বিভাগ করার অনুরোধ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমার এই কুমিল্লা নামের সঙ্গে মোস্তাকের নাম জড়িত। তাই কুমিল্লা নামে আমি কোনও বিভাগ রাখব না। কুমিল্লা নামের কথা মনে হলেই মোস্তাকের নাম মনে আসে।’

কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এই নামে বিভাগ করলে অন্য কেউ আসতে চায় না। কুমিল্লা নামে বিভাগ করলে চাঁদপুর আসতে চায় না, লক্ষ্মীপুর আসতে চায় না, নোয়াখালী আসবে না, ফেনী আসবে না।’ সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘যদি বিভাগ চাও আমি মেঘনা নামেই করে দিতে পারি। পদ্মা পাড়ি দিয়ে যাবো ফরিদপুর আর মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে যাবো কুমিল্লা।’ সেই সঙ্গে হাসিনা খুবই দঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় অপরাধী যে-ই হোক না কেন তার বিচার করা হবে।’ সে সঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যুগের পর যুগ বসবাস করছে।’ প্রধানমন্ত্রী এদিন সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। আওয়ামি লিগ সভাপতি বলেন, ‘ইসলাম আমাদের শেখায় মানবধর্মকে সম্মান করতে।

নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, তেমন অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্যের ধর্মকে হেয় করলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়। কুমিল্লার ঘটনাটা যদি বিশ্লেষণ করি তবে সেটাই দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের পবিত্র কোরানকে অবমাননা করা হয়েছে অন্যের ধর্মকে অসন্মান করতে গিয়ে। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকেই রক্ষা করতে হবে।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইন কেউ হাতে তুলে নেবেন না। কেউ যদি অপরাধ করে, সেই যে-ই হোক না কেন বিচার করা হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে। আমাদের নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। আমাদের সেই কথাটা মেনে চলতে হবে, স্মরণ করতে হবে, জানতে হবে।

তাহলেই ইসলামের সঠিক শিক্ষাটা পাবো। প্রতিটি ধর্মেই শান্তির কথা বলে। সবাই শান্তি চাই।’ এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি। এখানে সব ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।’ মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ জীবন দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁরা কিন্তু কোনও ধর্ম দেখেননি। তাঁরা রক্ত দিয়েছেন, সেটা সব ধর্মের জন্য। সব ধর্মের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গিয়েছে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। এখানে সব ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি পেশার মানুষ মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় এ রকম একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাইছি প্রতিটি জেলায় আওয়ামি লিগের একটি করে অফিস হোক।’

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ