Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

‘আমি মর্মাহত – বিতৃষ্ণ’,সিবালের বাড়ি হামলা নিয়ে ট্যুইট আনন্দ শর্মার

1 min read


।।প্রথম কলকাতা।।

পাঞ্জাব কংগ্রেসের অস্থিরতা নিয়ে দলটির শীর্ষ নেতা কপিল সিবাল বুধবার ‍‘খোলা সংলাপ’ এবং ‍‘আত্মদর্শন’-এর দাবি করেন বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। প্রকারন্তরে তিনি গান্ধি পরিবারের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই কংগ্রেস কর্মীদের একটি দল দিল্লিতে সিবালের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এমনকি ভাংচুরও করে। সিবালের বাড়ির সামনে দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাংচুরের তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা এদিন বলেছেন, এই ঘটনায় তিনি মর্মাহত ও বিতৃষ্ণ। শর্মা টুইট করে বলেছেন যে, এই ধরনের হামলা দলের বদনামই করছে। টুইটে আনন্দ শর্মা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কংগ্রেসের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাস রয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি টুইট বার্তায় বলেন, ‍‘কংগ্রেস সভাপতি শ্রীমতী সোনিয়া গান্ধিকে সচেতন ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সিবাল সহ জি-২৩ দলের সদস্যরা ভিন্নমতাবলম্বীদের অংশ।

এই নেতারা গত বছর সোনিয়া গান্ধিকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেস পার্টির সাংগঠনিক সংস্কার চেয়েছিল। বুধবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিবল জোর দিয়ে বলেন যে জি-২৩ গোষ্ঠী ‍‘জো হুজুর’-দের নিয়ে গঠিত নয়। সিবাল বলেন, ‍‘আমরা জি ২৩ গ্রুপস কিন্তু জো হুজুর নই।’ গান্ধি পরিবার নিয়ে মুখ খোলার জন্য বুধবার কংগ্রেস সমর্থকদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে কপিল সিবালকে। ‘দল ছাড়ুন’, ‘সুস্থ হয়ে উঠুন’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস কর্মী সমর্থকেরা। ভাঙচুর করা হয় সিবালের গাড়িও। সম্প্রতি পাঞ্জাবে টালমাটাল পরিস্থিতি ও গোয়া ভাঙন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সিবাল। তার জেরেই বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার সম্মুখীন হলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতি অস্থিরতা চলছে পঞ্জাবে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চরণজিৎ সিং চান্নি শপথ নিলেও প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে সিধুর ইস্তফার পর সে রাজ্যে পরিস্থিতি আরও জট পাকিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দলের বিপর্যয় রুখতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে জি-২৩ অন্তর্ভুক্ত ও গান্ধি পরিবার বিরোধী হিসাবে পরিচিত কপিল সিবাল বলেন, ‘বর্তমানে কংগ্রেসে নির্বাচিত কোনও সভাপতি নেই। তাই কে সেই বৈঠক ডাকবেন তা নিয়ে কেউ কিছু জানেন না।’ এখানেই থেমে থাকেননি এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। স্পষ্ট বলেন, ‘ঘনিষ্ঠদের থেকে কোনওরকম উপদেশ নিতে বহুবারই অনীহা দেখিয়েছে গান্ধী পরিবার। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে দলকে।’ পাঞ্জাব ছাড়াও সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সুস্মিতা দেব। বুধবার কলকাতায় এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা লুই ফ্যালিরো। এছাড়াও দল ছেড়েছেন দুই হেভিওয়েট নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও জিতিন প্রসাদ। এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিতও।

এই সব নেতাদের দল ছেড়ে চলে যাওয়া সোনিয়া-রাহুলদের কাছে বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করেন সিবাল। এছাড়াও রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলাট ও শচীন পাইলটের মধ্যে দ্বন্দ্বে ধরাশায়ী কংগ্রেস। তাই শুধু সিবাল নন, জি-২৩ নেতারা হুঙ্কার দিয়েছেন, অবিলম্বে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকতে হবে। এমন পরিস্থিতি কেন হল? সেই প্রশ্নকে হাতিয়ার করেই সরব হয়েছিলেন সিবাল। কোথায় ঘাটতি থাকছে যার জন্য এই সমস্ত নেতাদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। বিক্ষুব্ধদের সুবিধা অসুবিধার কথা শোনার জন্য জায়গা নেই কেন দলে? সেই সঙ্গে কপিল সিবাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গান্ধি পরিবার যাদের কাছের লোক মনে করে তাঁরাই দল ছেড়ে যায়। আর যাঁরা ঘনিষ্ঠ নয়, তাঁরাই দলে থেকে যায়।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories