Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ব্লাড প্রেসার থেকে হার্ট অ্যাটাক! অবহেলা না করে সতর্ক হোন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

ঘরে ঘরে এখন হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা। ছোট, বড় কেউ বাদ নেই। কিন্তু সমস্যা নিয়ে অবহেলা করলে তা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। আসলে ব্লাড প্রেসার এমন একটি সমস্যা যা থেকে নিস্তার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই সময়ের সাথে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে যাতে শরীরে অন্য কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রভাবিত হতে না পারে।

ব্লাড প্রেসারের সাথে লড়াই করার আগে জানুন এটি আসলে কী এবং কীভাবে পরিচালিত হয়?

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তস্রোত রক্তনালীর দেওয়ালে যখন চাপ সৃষ্টি করে সেটিকে বলে রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ যে প্রধান উপায় ক্ষতি করে তা হল হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালীর উপর অত্যধিক হারে চাপ বৃদ্ধি করা। এটি দুরকম ভাবে হতে পারে ক্রনিক এবং অ্যাকিউট।

ক্রনিক হল দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে রক্তনালীগুলো ক্রমশ শক্ত হতে শুরু করে, এর ফলে হার্ট বিকল হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

অন্যদিকে আচমকা রক্তচাপ বেড়ে গেলে তা হার্টের উপর এতো বেশি প্রভাব ফেলে যে এর ফলে হার্ট ফেলিওর, স্ট্রোক এই ধরণের বিপত্তি ঘটতে পারে। এটি হল অ্যাকিউট ব্লাড প্রেসার।

তবে সব ক্ষেত্রেই হার্টের সমস্যা জড়িত। ব্লাড প্রেসারের ১২০/৮০ পরিমাপ হলে এটিকে স্বাভাবিক অবস্থা হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু ওপরের চাপ ১৪০ এর বেশি এবং নিচের চাপ ৯০ এর বেশি হতে শুরু করলে সেটি প্রি-হাইপারটেনশন থেকে হাইপারটেনশনে চলে যায়। সাধারণত বয়সের সাথে ব্লাড প্রেসারের মাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকরী উপায়-

১. খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এবং লবণ খাওয়ার অভ্যাসে বিরতি আনতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কথায়, খেতে হবে পটাসিয়াম জাতীয় খাবার যা বিভিন্ন ফলমূল, শাক-সবজি থেকে পাওয়া যায়।

২. কমাতে হবে দেহের বাড়তি ওজন এর জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা খুব জরুরি। চিকিৎসকরা বলেন, হাইপারটেনশনের অন্যতম একটি কারণ অতিরিক্ত ওজন এবং অলসতা। যা পোস্ট-প্যানডেমিকে সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। তাই এই অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব ত্যাগ করতে হবে।

৩. মদ্যপান এবং ধূমপানে রাশ টানতে হবে। এই পরামর্শ আর নতুন নয়, তবে জীবন ভালো রাখতে হলে এই দুই আসক্তি যত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেবেন ততই আপনার রক্তচাপ হাতের মুঠোয় থাকবে। যা শেষকালে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দেবে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে ওষুধের ভূমিকা-

সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত আছে একবার প্রেসারের ওষুধ খাওয়া শুরু করলে তা সারা জীবন চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু তার থেকেও এটা জরুরি সেই ওষুধের ফলে আদৌ কি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসছে? এই ব্লাড প্রেসার এমনই সমস্যা যে নিঃশব্দে এটি আপনার হার্ট সহ দেহের অন্যান্য অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। অচিরেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে আপনাকে।

তাই খেয়াল রাখতে ওষুধের সঙ্গে নিজের লাইফস্টাইল পরিবর্তনে আনা এবং সর্বোপরি সব কিছুর পরে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসছে কিনা। এর জন্য নিয়মিত ব্লাড প্রেসার মাপতে হবে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর হার্ট পরীক্ষা করাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে।