Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অনলাইনে মাত্র একশ টাকা বিনিয়োগ করেই বাড়ি বসে সোনা পান

1 min read

।।সৌম্য বাগচী।।


গতবছর লকডাউন ঘোষণার পর সোনা বিক্রি প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছিল। কিন্তু সোনার দর নিম্মমুখী হওয়ায় ফের বাড়ছে বিক্রি। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে অনলাইন বিক্রি। আর অনলাইনে কেনাবেচার জোয়ার আনতে মাত্র একশ টাকায় সোনা বিক্রির সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে গোল্ড সংস্থাগুলি। এক্ষেত্রে তারা ঐতিহ্যবাহী সোনা বিক্রির পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। গত বছর দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হওয়ার পর সোনার বাজার ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু এর ফলে নতুন দিগন্তও খুলে গিয়েছিল। দোকান বন্ধ থাকায় অনলাইনে সোনা কেনার দিকে উৎসাহী হতে শুরু করেন ক্রেতারা।


লকডাউন কালে টাটা গ্রুপের তানিষ্ক, কল্যাণ জুয়েলার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড, পিসি জুয়েলার্স লিমিটেড এবং সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের মতো সংস্থাগুলি ডিজিটাল গোল্ড-প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে টাই-আপ করতে শুরু করে। পাশাপশি তাদের ওয়েবসাইটগুলিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের কাছে আহ্বান জানায়, একবারে টাকা না দিয়ে মাত্র একশ টাকা (১.৩৫ ডলার) করে বিনিয়োগ করে সোনা কেনার। এর মাধ্যমে যখন নূন্যতম এক গ্রাম সোনার মূল্য জমা হবে তখন বাড়ি বসেই ডেলিভারি নিতে পারবেন ক্রেতারা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সোনা বিক্রি ভারতে নতুন নয়। মোবাইল ওয়ালেট সহ আগমন্ট গোল্ড ফর অল এবং ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল-সমর্থিত সেফগোল্ড অনলাইনে সোনা বিক্রি করে থাকে। কিন্তু জুয়েলার্সগুলি এতদিন অনলাইনে এই ধরনের পণ্য বিক্রি করা থেকে দূরে থেকে দোকানেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল, কারণ ভারতে কেনাকাটা এখনও ব্যক্তিগতভাবেই বহুল প্রচলিত।


উৎসবে চাহিদা: এদিকে, সোনার দর ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়ায় বাড়তে শুরু করেছে চাহিদাও। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের মরসুম, ফলে সোনার চাহিদা আরও বেড়েছে। তাই জুয়েলার্স গুলিও নানা অফার চালু করেছে। তারাও এখন ব্যবহার করতে শুরু করেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার। আর টেকনোলজি ফ্রেন্ডলি ভারতের তরুণ প্রজন্মও এখন চাইছে ঘরে বসে সোনা কিনতে। তাই আশা করা যায় সোনা বিক্রি ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার ক্রমশ বাড়তে শুরু করবে। কল্যাণ জুয়েলার্সের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর রমেশ কল্যাণারামন বলেছেন, ‍‘আমরা ভোক্তাদের, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি, যারা সোনায় সিস্টেমেটিক বিনিয়োগ করতে চাইছেন।’ অনলাইনে সোনা কেনা অর্থাৎ জুয়েলার্সের ওয়েবসাইটে অলঙ্কার বিক্রয় ২০১৯ সালে মোট বিক্রয় মূল্যের মাত্র দুই শতাংশ ছিল। এর মধ্যে সিংহভাগ লেনদেন ছিল ৪৫ বছরের কম বয়সীদের দ্বারা। গতবছর এই তথ্য তুলে ধরেছে একটি ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল রিপোর্ট।


চাহিদা বাড়ানোর জন্য মাত্র একশ টাকা বিনিয়োগ:
ইচ্ছে থাকলেও সোনা কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই এক সঙ্গে বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে মাত্র একশ টাকা করে জমালেও একসময় হাতের মুটোয় চলে আসবে কাঙ্খিত হলুদ কয়েন। তাই এবার বেশির বাগ সংস্থাগুলিই এই পথে হাঁটতে চলেছে। যাতে মানুষের মধ্যে সোনা কেনার আগ্রহ বাড়ে। সোনা বিক্রির অন্যতম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সেফগোল্ডের প্রতিষ্ঠাতা গৌরব মাথুর বলেন, ‍‘সোনার দাম কমে যাওয়ায় প্ল্যাটফর্মে ভলিউমও বেড়েছে। সোনার দাম বর্তমানে কম থাকায় মানুষ এখন চাইছে সংগ্রহ করে রাখতে। এই বিষয়ে তাঁরা চাইছে ডিজিটাল লেনদেন। কারণ এতেই তাঁরা ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।’


আগমন্ট-এর শীর্ষ কর্তা কোঠারি বলেন, ‍
‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মে ২০০ শতাংশ বিক্রি দেখেছি। বেশিরভাগ গ্রাহকরাই তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে সোনার কয়েন বা বার কিনেছেন। মহামারীর সময় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সোনা কেনা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং আমরা আশা করি গত বছরের তুলনায় এই উৎসবের মরসুমে বিক্রয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories