Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অপেক্ষার অবসান, আরও একটি হিন্দু মন্দির পেল মিশিগান!

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

গত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ছিল মিশিগান রাজ্যের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আনন্দের একটি দিন। কারণ নতুন একটি মন্দির স্থাপনের মধ্য দিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হলো। রাজ্যে ওয়ারেন সিটিতে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার দিয়ে মন্দিরটি কেনা হয়েছে। মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে টেম্পল অব জয় বা আনন্দ আশ্রম। মন্দিরটি মূলত শিব মন্দির। মন্দিরের অর্থায়ন করছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং স্বনামধন্য দার্শনিক ডা: দেবাশীষ মৃধা ও তাঁর সহধর্মিনী চিনু মৃধা। মিশিগানে কয়েক হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ বাস করেন। আর ক্রমেই বাড়ছে হিন্দু জনসংখ্যা। এর মধ্যে হ্যামট্রাম্যাক, ডেট্রয়েট, ওয়ারেন, স্টার্লিং হাইটস, ট্রয়, নোভাই, লিভোনিয়া সিটিতে মূলত অধিকাংশ হিন্দু পরিবারের বাস। সে তুলনায় বাঙালী হিন্দুদের মন্দিরের সংখ্যা এখানে খুবই কম। বাঙালি অধুষ্যিত ডেট্রয়েটে ‘ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল’ এবং ওয়ারেন সিটিতে রয়েছে ‘মিশিগান কালিবাড়ি’।

কিন্তু উৎসব পার্বনে এসব মন্দিরে স্থান সংকুলানের অভাব দেখা যায়। ফলে পুণ্যার্থীদের যেমন ভোগান্তি হয়, তেমনি আনন্দ উৎসব থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। এহেন অবস্থায় মৃধা পরিবারের কাছে অনেক দিন থেকেই একটি বড় মন্দিরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় হিন্দুরা। আজ তাদের সেই দাবি পূরণ করলো মৃধা পরিবার। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের বাঙালি অধ্যুষিত ওয়ারেন সিটির ৩১৬৯৬, রায়ান রোডে মন্দিরটি স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীরা আনন্দিত। জানা গেছে, মন্দিরটি জন্য ৩.৫ একর জায়গার উপর নির্মাণ করা হয়েছে। ১৩,২৮০ বর্গফুট আয়তনের বিশাল মন্দিরটি স্থাপনের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার। সম্পূর্ণ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত মন্দিরটিতে রয়েছে চেয়ারম্যান রুম, কফি রুম, চিলড্রেন অবজারভেশন রুম, চিলড্রেন প্লে রুম, সুসজ্জিত কর্মাশিয়াল কিচেন, অপূর্ব সুন্দর পুজার ঘর এবং প্রশস্ত ও মার্জিত ব্যাংকুয়েট হল।

পুজার ঘর ও ব্যাংকুয়েট হলের ধারণ ক্ষমতা ৪৯০ জন। এছাড়া মন্দিটির সংস্কারে আরও প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ করা হবে। মন্দিরের সামনে সার্কুলার ড্রাইভে বসানো হবে ৭ ফুট উচ্চতার সুন্দর মার্বেলের তৈরী শিব মূর্তি, আধুনিকীকরণ করা হবে মন্দিরের সদর দরজা। গত সোমবার মন্দিরে প্রবেশ উপলক্ষে বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুজো শেষে ডা: দেবাশীষ মৃধা ফিতে কেটে কীর্তন সহকারে মন্দিরে প্রবেশ করেন। পরে সুধীজনের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ডা: দেবাশীষ মৃধা, তাঁর সহধর্মিনী চিনু মৃধা, ইঞ্জিনিয়ার রতন হাওলাদার, রাখি রঞ্জন রায়, সৌরভ চৌধুরী, আশুতোষ চৌধুরী, অজিত দাশ, পূর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু। উপস্থিত ছিলেন চিন্ময় আচার্য্য দেবু, কমলেন্দু পাল, স্বদেশ রঞ্জন সরকার, কালি শঙ্কর দেব, তপন শিকদার, হিরা লাল কপালী, টিটু দত্ত, অসিত রঞ্জন চৌধুরী, অশোক দাশ, প্রশান্ত দাশ, অপূর্ব কান্তি চৌধুরী, স্বপন পাল, দিপক রায়, বাবুল পাল, সফটওয়্যার ভেলিডেশন ইঞ্জিনিয়ার তন্ময় আচার্য্য, রিস্ক এনালিস্ট তীর্থ আচার্য্য, ধ্রুব দেব, গৌরব চৌধুরী, গৌরি আচার্য্য, রুপাঞ্জলি চৌধুরী, সুপর্না চৌধুরী, জয়া দত্ত, রিমা ধর, সঙ্গীতা পাল সহ আরও অনেক।

চিনু মৃধা বলেন, “আমরা গর্বিত যে এই অপুর্ব সুন্দর মন্দিরটি খুব সুন্দর একটি লোকেশনে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। আমাদের অনেকদিন থেকেই আশা এবং পরিকল্পনা ছিল এমন কিছু করার যাতে সবাই উপকৃত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব আসন্ন। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নতুন মন্দিরে শারদীয় উৎসব পালন করা হবে।“ এজন্য তিনি ইঞ্জিনিয়ার রতন হালদারকে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। দার্শনিক দেবাশীষ মৃধা বলেন, “আমাদের জন্ম হয়েছে আনন্দের জন্য, আমরা বেড়ে উঠি আনন্দের মধ্য দিয়ে, আমরা বেঁচে থাকি আনন্দ পাওয়া আর দেওয়ার জন্য। আবার আমরা এই পৃথিবী থেকে বিলীন হতে চাই আনন্দের মধ্য দিয়ে।“ তাই তিনি মন্দিরের নামকরণের জন্য প্রস্তাব দেন টেম্পল অব জয় বা আনন্দ আশ্রম। চিনু মৃধা তাঁর সাথে যোগ করে বলেন যদিও কাগজে কলমে এটির নাম হবে টেম্পল অব জয়, কিন্তু মন্দিরটি পরিচিত হবে শিব মন্দির হিসেবে। তিনি সকলকে আমন্ত্রণ জানান এই মন্দিরে এসে আনন্দ এবং উপাসনা করার জন্য।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories