Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হাইভোল্টেজ ভবানীপুর উপনির্বাচন: ইতিহাস কী বলছে?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে উপনির্বাচন। হাতে আর ২৪ ঘন্টাও সময় নেই। প্রস্তুতিও শেষের পথে। নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বৃষ্টি ভোটে কতটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেটাই এখন রাজনৈতিক দলগুলির কপালে ভাঁজ এনেছে। অন্যদিকে, আবার নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সব মিলিয়ে পুজোর আগেই ভবানীপুরে পুরোদমে ভোটের বাদ্যি বেজে গেছে। এবারের উপনির্বাচনে ফলাফল কী হবে তা বলা সত্যিই দুঃসাধ্য। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল ও সিপিআই(এম) প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস। ঘটনাচক্রে তিনজনই পেশায় বা পড়াশোনায় আইনজীবী। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর কেন্দ্র কার্যত আদালত কক্ষে রূপান্তরিত। এমতাবস্থায় ভোটের ফলাফল কী হতে পারে তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। তবে, আসুন একবার দেখে নেওয়া যাক বিগত ৩ বারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কী হয়েছিল।

২০১১ বিধানসভা নির্বাচনঃ

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সুব্রত বক্সীকে প্রার্থী করেছিল। সিপিআই(এম)-এর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নারায়ণ প্রসাদ জৈন। বিজেপি প্রার্থী ছিলেন রাম চন্দ্র জয়সওয়াল এবং বিএসপি দুলাল মিস্ত্রিকে প্রার্থী করেছিল। সেবার ৪৯,৯৩৬ ভোটে সুব্রত বক্সী সিপিআই(এম) প্রার্থী নারায়ণ জৈনকে পরাজিত করেন। তৃণমূল ভোট পেয়েছিল ৬৪.৭৭ শতাংশ। সিপিআই(এম) পেয়েছিল ৩৭,৯৬৭ ভোট। অন্যদিকে, বিজেপি ও বিএসপি যথাক্রমে ৩.৭৪ ও ০.৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সেবার মোট ভোট পড়েছিল ৬৩.৭৮ শতাংশ।

২০১১ উপনির্বাচনঃ

২০১১ সালে প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে লড়েননি। জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে যে কোনো কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হত। অর্থাৎ ২০২১ সালের সাথে ২০১১ সালের এই মিলটি আছে। সেবারেও উপনির্বাচনে নিজের কেন্দ্র হিসেবে ভবানীপুরকেই বেছে নিয়েছিলেন মমতা।

২০১১ উপনির্বাচনে সিপিআই(এম) প্রার্থী নন্দিনী মুখ্যোপাধ্যায়কে ৫৪,২১৩ ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৭৭.৪৬ শতাংশ। তৃণমূলের ভোট বেড়েছিল ১২.৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, নন্দিনী মুখ্যোপাধ্যায় ২০.৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। সিপিআই(এম)-এর ভোট ৭.৫৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। উপনির্বাচনে সেবার আর বিজেপি বা বিএসপি প্রার্থী দেয়নি। নির্দল হয়ে এস কে ধারা লড়েছিলেন। তিনি মাত্র ৮০৯টি ভোট পান।

উল্লেখ্য বিষয়টি হল, উপনির্বাচনে সামগ্রিক ভোট কম পড়েছিল অর্থাৎ সব মানুষ আর দ্বিতীয় বার ভোট দিতে যাননি। সেবার মোট ভোট পড়ে ৪৪.৭৩ শতাংশ, যা ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনের থেকে ১৯.০৪ শতাংশ কম।

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনঃ

২০১৬ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য ভবানীপুর থেকে ভোট লড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০১৬ সালে তাৎপর্যপূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫,৩০১ ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সিকে হারালেও তৃণমূলের ভোট ২০১১ সালের চেয়ে ২৯.৭৯ শতাংশ কমে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে ২০১১ উপনির্বাচনে ৭৭.৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন সেখানে ২০১৬ সালে পান ৪৭.৬৭ শতাংশ। বিজেপি কিন্তু সেবার উল্লেখযোগ্যভাবে ২৬,২৯৯টি ভোট পায়। প্রার্থী ছিলেন চন্দ্র কুমার বোস। সেবার কংগ্রেস সিপিআই(এম) জোট হওয়ায় সিপিআই(এম) প্রার্থী দেয়নি। অন্যান্যদের মধ্যে নোটা ও বিএসপি প্রার্থী দিলেও তাঁরা মোট ২.০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ২০১৬ সালেই সবচেয়ে বেশি ভোট ভবানীপুরে পড়েছিল। মোট জনসংখ্যার ৬৬.৮৩ শতাংশ মানুষ সেবার ভোট দিয়েছিলেন।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনঃ

মাস কয়েক আগেই সমাপ্ত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কম উত্তেজনা হয়নি। ভবানীপুরে তৃণমূল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে। নিজের কেন্দ্র ছেড়ে মমতা যান নন্দীগ্রামে। বিজেপি’র হয়ে দাঁড়ান রুদ্রনীল ঘোষ। বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ২৮,৭১৯ ভোটে পরাজিত হন তিনি। ২০১৬ সালের তুলনায় এবার তৃণমূলের ভোট বাড়ে ১০.০৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বিজেপি হারলেও তাঁরা ১৬.০৩ শতাংশ ভোট বেশি পায়। কংগ্রেস প্রার্থী মোহঃ শাদাব খান ৪.০৯ শতাংশ ভোট পান ও অন্যান্যরা পায় ১.৬৭ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালে মোট ভোট পড়ে ৬১.৭৯ শতাংশ।

অর্থাৎ, যা দেখা গেল তিনবারেই কমপক্ষে ২৫ হাজার ভোটে তৃণমূল ভবানীপুরে বাজিমাত করেছে। কিন্তু এও দেখা গেল, কীভাবে বিজেপি অন্যান্যদের সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল। ২০১১ সালে যেখানে তাঁরা পেয়েছিল ৩.৭৪ শতাংশ ভোট সেখানে দশ বছর পর তাঁরা পেল ৩৪.১৬ শতাংশ ভোট। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় চারটি নির্বাচনের মধ্যে এটিই বিরোধী দল হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট। অন্যদিকে, আরও একটি বিষয় দেখা গেল নির্বাচনের চেয়ে উপনির্বাচনে স্বাভাবিকভাবেই কম ভোট পড়ে।

ভবানীপুরের ইতিহাস অবশ্যই তৃণমূলের পক্ষে। তবে, রাজনীতিতে অঘটন বলে একটা শব্দ আছে। শুধু রাজনীতিতে কেন জীবনের ক্ষেত্রেও অঘটন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। না হলে নন্দীগ্রাম ভূমি আন্দোলনের কান্ডারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান! যিনি আবার নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই অন্যদলে নাম লিখিয়েছিলেন!

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ