Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

পাহাড় চূড়োয় যেন এক অনাবিষ্কৃত ভূমি! পুজোয় ঘুরে আসুন নর্থ সিকিম

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ ও মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের ‘তোমায় দিলাম’ গানের মধ্যে একটি মিল আছে। সেটি হল দু’টিতেই একটি ফুল গাছের কথা বলা হয়েছে, তা হল রডোডেনড্রন। আর সারি সারি রডোডেনড্রন গাছ দেখা যায় উত্তর সিকিমে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে অন্যতম সৌন্দর্যময় প্রকৃতি সিকিমে গেলেই দেখা যায়। সিকিম কখনোই একবারে ঘোরা সম্ভব নয়। নর্থ বা উত্তর সিকিমই বলা যায় পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে এই যাত্রা শুরু হয়ে আবার সেখানেই শেষ হয়। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্যাকেজের মাধ্যমেই কেবল যাওয়া যায়।

পুরো রাস্তাটাই গাড়িতে চেপে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে পেরিয়ে এক অনাবিষ্কৃত ভূমিতে পৌঁছনো। সেখানেই আছে পাহাড়ের কোলে এক নীল জলের স্বচ্ছ লেক। যার নাম গুরুদংমার। যাত্রা পথে দেখতে পাবেন অগণিত আকাশচুম্বী ঝর্ণা, পাইনের বন, ছোট্ট স্কুল বাড়ি, খরস্রোতা নদী- কী নেই! সাধারণত, ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজে সম্পূর্ণ নর্থ সিকিম দেখা যায়। আর সেটাই আদর্শ। আরেকটি হয় ১ রাত ২ দিন। কিন্তু অত দূর গিয়ে ১ রাতের জন্য সারাজীবনের অভিজ্ঞতা নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। তাই প্রথম প্যাকেজতিকেই বেছে নিন। পুজোয় সেই অর্থে কলকাতায় না থেকে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়া বাঙালির পুরোনো অভ্যেস। তবে করোনার প্রকোপে তাল কেটেছে সব কিছুরই। এখন পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক। পুজোয় সাতদিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন সিকিমের উদ্দেশ্য।

কী কী দেখবেন:

১. লাচেন: গ্যাংটক থেকে সকালে ট্যুর শুরু করে সেদিন বিকেলে পৌঁছে যাবেন লাচেন গ্রামে। লাচেনের উচ্চতা ৯,৪০০ ফুট। গ্যাংটক থেকে লাচেনের দূরত্ব ১০৫ কিমি। যাওয়ার পথে পাবেন একাধিক ঝর্ণা। লাচেন-চু নদীর পাশেই অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রামটি। পাশেই আর্মি ক্যাম্প। রাতে লাচেন নদীর শব্দ শুনতে পাবেন। লাচুং ও লাচেন মূলত এই জার্নির দুটো পয়েন্ট। বিকেলে পৌঁছতে পৌঁছেতে বিকেল হয়ে যাওয়ায় তেমন কিছু দেখতে পাবেন না। চমকে উঠবেন পরদিনহ সকালে ঘুম ভাঙলেই। হোটেল থেকে বেরিয়ে দেখবেন। পাহাড় চূড়োয় জমে আছে সাদা বরফ!

২. গুরুদংমার লেক: পরদিন দুর্গম রাস্তা দিয়ে আর্মি বেস ক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে ধূ ধূ প্রান্তর পেরিয়ে যেন বিশ্বের কোনো এক প্রান্তে গিয়ে পৌঁছবেন। সেখানেই আছে গুরুদংমার লেক। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে লেকটি অত্যন্ত পুণ্যের। লেকের উচ্চতা ১৭,৮০ ফুট। দু’পাশে বরফে ঢাকা পাহাড়ের মাঝে এই লেকটির অর্ধেক বরফে জমে থাকে। পিছনে ফিরলে বহু বহু দূরে লাদাখের পাহাড় দেখতে পাবেন। তবে উচ্চতার জন্য অনেকের সমস্যা হয়ে পারে গুরুদংমারে। তবে শেষ আর্মি বেস ক্যাম্প থেকেই সতর্কতা জারি করা হবে। শরীর খারাপ লাগলে সেখানেই অপেক্ষা করতে পারবেন। গুরুদংমারের সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা ভাষায় করা সত্যিই কঠিন।

৩. কালা পাথর: কালা পাত্থর প্যাকেজের মধ্যে পড়ে না। সমস্ত গাড়ির যাত্রীদের থেকে প্রায় ৩০০-৫০০ টাকা বেশি দিলে এখানে যাওয়া যায়। সাদা বরফে ঢাকা কালো পাথরের সৌন্দর্য অসাধারণ। বরফের ওপর দিতে হেঁটে হেঁটে উঠে যাবেন বহু দূর। অত উচুঁতেই পেয়ে যাবেন ম্যাগি বা মোমো। তবে, হিমালয়ের ঠান্ডা হাওয়া জমিয়ে দিতে পারে দাঁতকপাটি!

৪. লাচুং: কালা পাত্থর দেখে গন্তব্য লাচুং। সেখানে কাঠের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা। এটিও একটি পাহাড়ি গ্রাম। পাশে বয়ে যাচ্ছে লাচুং-চে নদী। লাচুংয়েই রাত্রিবাস। গুরুদংমার আর কালা পাত্থর ভাবতেই ভাবতেই গভীর ঘুম।

৫. ইয়ামথাং ভ্যালি: লাচুং থেকে ২৩ কিমি দূরে অবস্থিত ইয়াম্থাং ভ্যালি। চারিদিকে শুধুই পাহাড়। ভ্যালির মাঝখানে বয়ে যাচ্ছে নাম না জানা নদী। ভ্যালিতে চরছে ইয়াকের দল। আর এখানেই সেই বহু প্রতীক্ষীত রডোডেনড্রন গাছ। তবে, ফুল ফোটে এপ্রিলে।

. জিরো পয়েন্ট: ইয়ামথাং থেকে বিশেষ ভাবে গাড়িকে কিছু অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যেতে হয় জিরো পয়েন্ট। জিরো পয়েন্ট মানে একবারে সীমান্ত। ওপারেই চীন। উচ্চতা ১৫,০০০ ফুটের কিছু বেশি। জিরো পয়েন্টেও বরফ আর বরফ। তবে, পাহাড়গুলি একেবারে আলাদা। পাথরের রঙ আলাদা। বরফ গলে গলে রাস্তা দিয়েই জল ভেসে গিয়ে উল্টোদিকের উপত্যকায় মিলিত হয়ে আবার কোন নদীতে মিশে যাচ্ছে তা বোধহয় মা তিস্তাই জানেন!

৭. গ্যাংটক: গ্যাংটকের কথা শেষে উল্লেখ করলাম এই কারণেই গ্যাংটকে তো যাবেনই। নর্থের সৌন্দর্যের কাছে গ্যাংটক কিছুই নয়। তবে, সিকিমের রাজধানী শহর। আর গ্যাংটকের মূল আকর্ষণ মহাত্মা গান্ধী মার্গ। প্রায় ২ কিমি এই রাস্তায় কোনো গাড়ি চলে না। দু’পাশে সারি সারি দোকান। যারা ঘুরতে কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন তাঁদের জন্য একেবারে আদর্শ। আর এখানে পেয়ে যাবেন সব কিছু। নামী দামী ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে সস্তার সিকিমের বাহারি টুপি সবই পাবেন।

কীভাবে যাবেনঃ

প্রথমে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে শেয়ার ক্যাবে সোজা গ্যাংটক। গ্যাংটক থেকে ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজ নিলে সম্পূর্ণ নর্থ সিকিম ঘোরা যাবে। জলপাইগুড়ি থেকে গ্যাংটকের রাস্তাটিও কিন্তু মনোরম দৃশ্য আপনার ক্লান্ত চোখকে বন্ধ হতে দেবে না।

কোথায় থাকবেনঃ

গ্যাংটকে ১/২ রাত থাকতে অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন। কিন্তু প্রচুর পরিমাণ পর্যটক সব সময় ভিড় জমান সিকিমে। তাই আগে ভাগে বুক যাওয়াই শ্রেয়।

খরচঃ

নর্থ সিকিম একটু খরচ সাপেক্ষ জায়গা। তবে, গ্যাংটক থেকে নর্থ সিকিম ট্যুরে জনাপ্রতি ৩,৫০০-৪,০০০ টাকা ট্রাভেল এজেন্সি নেবে। তার মধ্যে ২ রাত ৩ দিনের থাকা খাওয়া সব ধরা। সব মিলিয়ে, ৮-১০ হাজার টাকায় সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন নর্থ সিকিম।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

১. প্রায় ১৮ হাজার ফুটে উঠতে হয়। তাই অবশ্যই স্বাস্কষ্ট জনিত শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যান।
২. উচ্চতা জনিত ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন।
৩. মদ্যপান বা ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
৪. ল্যাগেজ বেশি ভারি করবেন না।
৫. অবশ্যই পরিচয় পত্র আর অন্তত ২-৪ কপি ছবি সঙ্গে রাখুন। না হলে যেতেই পারবেন না।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ

Categories