Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দশপ্রহরণ ধারিণী মা দুর্গা , দশভূজার হাতে দশরকম অস্ত্রের কী মাহাত্ম্য?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

হাতে গুনে আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। শিউলি সুবাসে শরতের পরিবেশ সুরভিত হয়ে রয়েছে। বাঙালি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দশপ্রহরণধারিণীর জন্য । এই প্রহরণ শব্দটির অর্থ হলো সংহার করা হয় যার দ্বারা বা অস্ত্র। দেবীর ১০ হাতেই ১০টি অস্ত্র থাকে বলে দেবীকে দশপ্রহরণধারিণী বলা হয়। অসুরকুলকে বধ করার জন্য দেবতারা দেবীকে দশটি অস্ত্র প্রদান করেছিলেন যার প্রত্যেকটির আলাদা করে মাহাত্ম্য রয়েছে।

• বজ্র :– ইন্দ্রদেব দেবীকে বজ্র প্রদান করেছিলেন। মানুষকে লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রয়োজন দৃঢ়তা । আর এই দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীক হলো বজ্র। কথিত আছে এটি তৈরি হয়েছিল দধীচি মুনির হাড় দিয়ে।

চক্র :– বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অপার সৌন্দর্যের প্রতীক হলো সুদর্শন চক্র। ভগবান বিষ্ণুর চক্র সর্বদা ঘূর্ণায়মান। এটি বিষ্ণুদেব দেবীকে দিয়েছিলেন শত্রুর বিনাশ করার জন্য।

• গদা :– এটির অপর নাম কালদন্ড। যমরাজ দেবীকে গদা প্রদান করেছিলেন যা আনুগত্য ,ভালোবাসা শক্তি এবং ভক্তির প্রতীক। এছাড়াও এটি বিশ্বের সম্মোহনী শক্তি রূপে কাজ করে।

• ঘন্টা :- ইন্দ্রদেবের বাহন ঐরাবত দেবীকে প্রদান করেছিলেন ঘন্টা। যার ধ্বনিতে অসুররা দুর্বল হয়ে পড়তো অর্থাৎ আসুরিক শক্তির ক্ষয় হত। এছাড়াও ঘণ্টাধ্বনিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয় হিন্দু সংস্কৃতিতে।

• পদ্ম :- আমরা সবাই জানি পদ্ম পাঁকে জন্মায়। কিন্তু তার সৌন্দর্য্যে সামান্যতম পর্যন্ত কালো দাগ লাগে না। স্বয়ং ব্রহ্মা দেবীকে প্রদান করেছিলেন পদ্ম , অক্ষমালা ও কমণ্ডলু। অন্ধকারের মধ্যে আলোর দিশার এবং পবিত্রতার প্রতীক হলো পদ্মফুল।

• তীর ধনুক :- বায়ুর দেবতা অর্থাৎ পবন দেব তীর ধনুক প্রদান করেছিলেন দেবীকে, যা মানুষকে শেখায় সমস্ত রকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। এটি একটি ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। পুরাণে বর্ণিত সমস্ত বড় বড় যুদ্ধেই তীর-ধনুকের ব্যবহার দেখতে পাওয়া গিয়েছে।

• নাগপাশ :- যুদ্ধের সময় মহিষাসুর অতি দ্রুত রুপ বদলাচ্ছিলেন ফলে দেবী তাঁকে ধরতে পারছিলেন না। তখন নাগরাজ অনন্তনাগ দেবীকে নাগপাশ দেন যার ফলে অসুরকে ধরতে সুবিধা হয়। এটি শুদ্ধ চেতনার প্রতীক।

• ত্রিশূল :- ত্রিশূল দিয়েছিলেন দেবাদিদেব। ত্রিশূল এর তিনটি ফলার সাথে মানুষের জীবনের তিনটি গুনের তুলনা করা হয়। সেগুলি হল সত্ত্ব , তম: এবং রজ: ।

খড়্গ :- খড়্গ হল মোক্ষলাভের প্রতীক । হিংসা, ক্রোধ, মোহ, মদ প্রভৃতি ত্যাগ করে যে উপায়ে মুক্তি লাভ করা হয় সেই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বলি। দেবীর অপর এক রূপ হল চামুণ্ডা। এই রূপে খড়্গ দ্বারা অসুরদের মুণ্ড ছেদন করে সেই মুণ্ডমালা পরিধান করেছিলেন দেবী।

• শঙ্খ:- বরুণদেব দেবীকে প্রদান করেছিলেন শঙ্খ। এর ধ্বনি অত্যন্ত মঙ্গলময়। দেবীর বাম হাতে থাকা শঙ্খের দ্বারাই অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান করেছিলেন। প্রাচীনকালে যুদ্ধ ঘোষণার সময় শঙ্খধ্বনি ব্যবহার করা হতো। এটি মূলত জাগরণের প্রতীক।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ