Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

২৪-এর লোকসভায় ‘ব্যাকফায়ায়’ করবে না তো ত্রিপুরা অভিযান ? কী ভাবছেন পর্যবেক্ষকরা ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভাবে জয় লাভ করার পর থেকেই পড়শি রাজ্য ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করে দেখছে তৃণমূল। তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবার পর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সর্বভারতীয় দল হিসেবে জোরদার করতে ত্রিপুরাকে বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সারা ভারতব্যাপী বিজেপি বিরোধী ফ্রন্ট তৈরী করার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে হতে চলেছে ত্রিপুরা বিধানসভা। সেই কারণে ত্রিপুরায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে ছুটে চলেছেন বঙ্গ তৃণমূল বাহিনীর নেতারা। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার মাটিতে পা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মলয় ঘটক, যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত প্রমুখ। পাশাপাশি, স্ট্র্যাটেজি মাস্টার প্রশান্ত কিশোরের বাহিনী ঘুরে এসেছে ত্রিপুরায়। সব মিলিয়ে, ত্রিপুরায় বিজেপির সাথে ভালো ভাবেই খেলতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল ত্রিপুরা দখলের চেষ্টা করতে গিয়ে বৃহৎ জায়গায় ধরাশায়ী হতে পারে। তার মূল কারণ হল, ত্রিপুরায় বিজেপিকে উৎখাত করার যে মন্ত্রে তাঁরা দীক্ষা নিয়েছে সেখানে তাঁদেরকে ত্রিপুরা কংগ্রেস এবং সিপিএমের সঙ্গেও বিরোধীয় জড়িয়ে পড়বে। এই মুহূর্তে ত্রিপুরায় বিরোধী হিসেবে সিপিএম প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ কুড়ি বছরের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের স্বচ্ছ ইমেজ তাঁদের পক্ষে কাজে লাগবে। অন্যদিকে কংগ্রেস তেমন শক্তিশালী না হলেও তাঁরা ত্রিপুরার রাজনৈতিক ময়দান থেকে হারিয়ে যায়নি। ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পীযূষকান্তি বিশ্বাসকে বিভিন্ন বিষয়ে সরব হতে দেখা যায়। এমত অবস্থায়, বাইরে থেকে গিয়ে ত্রিপুরায় হামলে পড়লে ওখানে উপস্থিত বিরোধীরা অর্থাৎ সিপিএম, কংগ্রেসও এই বিষয়টকে ভালোভাবে নেবে না। কারণ, বিজেপি বিরধি জোটে তৃণমূলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম পর্যন্ত সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়েছে। আর এই মুহূর্তে তাঁদের বিরোধীতা করলে বিষয়টিই ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষে নাও যেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।

কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধী জোটের সময় কংগ্রস, সিপিএমকে পাশে দরকার তৃণমূলের। সেখানে ত্রিপুরায় তাঁদের বিরুদ্ধ আচরণ করলে তাঁরা লোকসভা নির্বাচনে কতটা তৃণমূলকে সমর্থন করবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে রাজনৈতিক মহল। তাছাড়া, তৃণমূলের একমাত্র উদ্দেশ্য হল লোকসভা নির্বাচনে বাংলার পাশাপাশি ত্রিপুরার সব কটি আসন জিতে কেন্দ্রে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা। সেখানে পরিসংখ্যান বলছে ত্রিপুরায় মাত্র দুটি লোকসভা আসন আর বাংলায় বিয়াল্লিশটি। সেখানে সব কটা আসন জিতলেও চুয়াল্লিশের বেশী হওয়া সম্ভব নয়। সেখানে উত্তরপ্রদেশেই আশিটা আসন, মহারাষ্ট্রে আটচল্লিশ!

তবে, রাজনৈতিক মহল এও মনে করছে, বাংলার বাইরে নিজেদের খুঁটি পুঁততে ত্রিপুরার বিকল্প তৃণমূলের কাছে ছিলও না। আর লোকসভায় বিরোধী জোট হিসেবে কর্তৃত্ব করতে অন্য রাজ্যে বিস্তার লাভ করা খুবই জরুরি ছিল। এখন দেখার ত্রিপুরায় কংগ্রেস ও সিপিএম তাঁদের বিরোধীতাকে কীভাবে নেয় আর সেটা আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে কতটা ব্যাকফায়ার করে!

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ