Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে ‘ব্যাকফুটে’ ঠেলতেই কী তৃণমূলকে ‘লাইমলাইটে’ আনছেন মোদী ?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

চলতি বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তৃণমূল বারংবার সংঘাতে জড়িয়েছে একথা যেমন সত্যি। তেমনই জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে ‘ব্যাকফুটে’ নিয়ে আসতেই মোদীকে তৃণমূল সম্পর্কে বেশী সরব হতে দেখা যাচ্ছে এমন নয় তো?, প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সর্বপ্রথম পেগাসাস ইস্যু নিয়ে সরগরম সংসদে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণের বিবৃতির কাগজটি নিয়ে অধিবেশন চলাকালীন ছিঁড়ে ফেলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। এই নিয়ে তৃণমূলের কড়া ভাবে সমালোচনায় মুখর হন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই কাজকে ‘সংসদের অপমান’ হিসেবে ব্যক্ত করেন। এরপর লাগাতার কেন্দ্র কর্তৃক দশ দিনে বারোটি বিল পাশ করিয়ে নিলে তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ‘বিল পাশ করানো’কে ‘পাপড়ি চাট বানানো’র সাথে তুলনা করে ব্যঙ্গ করেন। ডেরেকের এই মন্তব্যটি আপাতভাবে ব্যাঙ্গাত্মক হলেও এই মন্তব্যের রাজনৈতিক ভার অনেক কম বলে দাবী করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অথচ ডেরেকের বিরুদ্ধে আবারও মুখ খুলতে দেখা যায় মোদীকে। উল্টোদিকে, বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাহুল গান্ধীর মুখটি কিন্তু বেশ উজ্জ্বল, তিনি পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাইকেল চালিয়ে সংসদে গেছেন, বিরোধীদের একজোট করতেও যথেষ্ট সমর্থ হয়েছেন। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খুব কম মুখ খুলতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাহুলের এই মুহূর্তে ভূমিকা যে তৃণমূলের সাংসদদের চেয়ে অনেক বেশী। অথচ রাহুলকে নিয়ে মোদী নিশ্চুপ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তৃণমূলকেই ইচ্ছে প্রতিষ্ঠা করাতে চাইছে। কারণ, একটাই, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তি কংগ্রেসের চেয়ে অনেক কম। কংগ্রেসকে কিছুটা হলেও সমীহ করছে বিজেপি বলে মনে করছেন তাঁরা। এই মুহূর্তে কংগ্রেসের শক্তি ভীষণ কম হলেও কংগ্রেসের ইতিহাস, তাঁদের ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন। ফলে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নেতৃত্বে জোট হলে তা হবে ‘ইউপিএ’ জোট এবং এই জোটের ক্ষমতা যে সময় গড়াতে গড়াতে বেশ ভালোই শক্তিশালী হবে তা আগে ভাগেই আঁচ করতে পারছেন মোদী এবং সেই জন্যই তাঁর কৌশল হল অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলকে আসল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখানো, এরকমই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারাই মনে করছেন কংগ্রেসকে সঙ্গে না নিয়ে জোট করলে সেই জোট কার্যকর হবার সম্ভাবনা খুব কম। সেক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিজেপি চাইছে যদি তৃণমূলকে প্রকৃত বিরোধীর আসনে ইচ্ছে করে এনে ফেলা যায় তাতে আখেরে লাভ হবে তাঁদেরই।

আর, জোট যদি হয় তৃণমূলের নেতৃত্বে তবে থাকছে অনেকগুলো প্রশ্ন। এক, লোকসভা নির্বাচনের এক বছর আগে ত্রিপুরা বিধানসভায় নিজেদের ক্ষমতা বিস্তার করতে গিয়ে কংগ্রেস এবং সিপিএমের বিরোধীতা তাঁদেরকে করতেই হবে, অথচ কেন্দ্রে জোটের ক্ষেত্রে প্রয়োজন উভয়কেই। তখন তাঁরা তৃণমূলের সাথ নাও দিতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহল মহল। পাশাপাশি, মোদী তৃণমূলকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে এত ফাঁপিয়ে দিতে চাইছেন যাতে অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলি লোকসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল সম্পর্কে বিরূপ ধারণায় চলে আসে। আর সেই সময় জোট ভেস্তে যেতে পারে বলেও মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। আর তাতেই লোকসভা নির্বাচনে বাজিমাত করবে বিজেপি।

সব শেষে রাজনৈতিক মহলের মতে, খুব সুক্ষ্ম রাজনৈতিক চালে ধীরে ধীরে তৃণমূলকে কিছুটা সুবিধা পাইয়ে দিয়ে কেন্দ্রে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে বিজেপি, আর তৃণমূল তাঁদের সর্বেসর্বা ভাবতে ভাবতে কংগ্রেস বা বাকী দলগুলির সাথেও সম্পর্ক খারাপ করে ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, কিভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়া একটি শক্তিশালী বিজেপি বিরোধী জোট গঠিত হয় এবং বিজেপি তার বিরুদ্ধে কীভাবে নিজেদের রণকৌশল সাজায়।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ