Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নাগরিকত্ব আইনের পুনর্বিবেচনা হবে না, জানালো কেন্দ্র

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বা সিএএ নিয়ে কোনও রকম পুনর্বিবেচনা করবে না কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে ইউনিয়ন মুসলিম লিগের তরফে পুনর্বিবেচনার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলেও সেই বিষয়ে সাড়া দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান ছাড়া অন্যে সংখ্যালঘুদের সিএএ-এর আওতায় আনাও হবে না বলে রাজ্যসভায় জানিয়ে দেওয়া হলো কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই স্পষ্ট করে দেন, সিএএ নিয়ে কোনও রকম পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে না কেন্দ্র৷ এমনকি পূর্বে ঘোষিত ৬টি ধর্মীয় গোষ্ঠী ছাড়া আর কোন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সিএএ-এর আওতায় আনা হবে না। মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট যে, পরোক্ষভাবে মুসলিমদের এই বিলের আওতায় না আনার কথাই রাজ্যসভায় ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। মূলত হিন্দুত্ববাদী অবস্থানে দাঁড়িয়েই সিএএ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইছে মোদী সরকার।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আসে কেন্দ্র। সিএএ আসলে হলো একটি ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন। এই বিল অনুসারে প্রতিবেশী আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপিড়িত, আক্রান্ত, অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষরা আবেদনের মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এই নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে। এই আইন অনুসারে ভারতের নাগরিকত্ব পেতে গেলে সেই ব্যাক্তিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের আগে ভারতে এসে থাকতে হবে৷ ওই ব্যক্তিকে শেষ ১১ বছরের মধ্যে ৫ বছর ভারতে থাকতে হবে৷ এবং শেষ ১২ মাস একটানা ভারতে থাকতে হবে৷ ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুসারে আগে নিয়ম ছিল একটানা ১২ মাস এবং শেষ ১৪ বছরের ১১ বছর ভারতে থাকতে হতো। সিএএ অনুসারে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান ধর্মের শরণার্থীদের স্থায়ী বসবাসের বছর সংখ্যা কমানো হয়েছে। কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় চিঠি দিয়ে সিএএ পুনর্বিবেচনা নিয়ে কেন্দ্রের রায় জানতে চেয়েছিলেন ইউনিয়ন মুসলিম লিগের সাংসদ আবদুল ওয়াহাব৷ সেই চিঠির উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই স্পষ্ট করে দেন, সিএএ নিয়ে কোনও রকম পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে না কেন্দ্র৷ এমনকি পূর্বে ঘোষিত ৬টি ধর্মীয় গোষ্ঠী ছাড়া আর কোন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সিএএ-এর আওতায় আসবেন না। সিএএ-এর মাধ্যমে নতুন নিয়ম নীতি চালু করার জন্য সংসদে ২০২২ পর্যন্ত সময় চেয়েছেকেন্দ্রীয় সরকার।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ