Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

তৃণমূলের পাতা ফাঁদেই পা দিচ্ছে না তো কেন্দ্রীয় সরকার ? বাড়ছে জল্পনা

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


‘খেলা হবে’ থেকে শুরু করে পাপড়ি চাট। সংসদে একের পর এক বিক্ষোভ আর নিত্য নতুন শ্লোগানে উত্তাল করে তুলেছেন তৃণমূল সাংসদরা। সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই প্রবল বিক্ষোভের জেরে সরকার পক্ষকে নাজেহাল করে তুলেছে তৃণমূল। সেই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সরকার পক্ষের বিরোধীতায় তৃণমূলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে অনড়। সংসদের এবারের বাদল অধিবেশনে যেভাবে নজর কেড়েছে তৃণমূল তাতে, জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধীতার পথে অন্যান্য বিরোধীরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আসলে তৃণমূল হয়তো এটাই চেয়েছে। পরিকল্পনামাফিক পথ চলছে তারা। জাতীয় স্তরে একমাত্র বিজেপি বিরোধীতাই হলো তৃণমূলের মূল পথের কড়ি। আর সেই কারণেই কীভাবে প্রতি মুহূর্তে বিজেপি তথা মোদী বিরোধিতায় সংবাদ শিরোণামে থাকা যায় সেই পথে হাঁটছে তৃণমূল। যে কারণেই হয়তো পাপড়ি চাট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্বেও পাপড়ি চাট পার্টির আয়োজন করে নজর কেড়ে নেন তৃণমূল সাংসদরা। পাশাপাশি সংসদের দুই কক্ষেই তাদের অনমনীয় বিক্ষোভ বারবার জাতীয় স্তরে তৃণমূলের অস্তিত্বকে জাহির করছে। আর রাজনীতিতে তৃণমূলের এই সাপ লুডো খেলায় কি তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নিয়ে কার্যত সাপের মুখে বারবার পড়ে যাচ্ছেন সরকার পক্ষ? চড়ছে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা।

উল্লেখ্য, পেগাসাস কান্ড থেকে শুরু করে কৃষক আন্দোলন, পেট্রোল, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে লাগাতার বিরোধী বিক্ষোভ এবারে দিনের পর দিন সংসদ অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য করছে। বুধবারেও তার ব্যাত্রিক্রম হলো না। আজও নানা ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠলো সংসদের দুই কক্ষ। রাজ্যসভায় প্রবল বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিরোধী দলের সাংসদরা। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্গাইয়া নাইডু সকলকে নিজের নিজের আসনে গিয়ে বসার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে কেউ রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গাইয়া নাইডু তাঁদের বিরুদ্ধে ২৫৫ নম্বর আইন কার্যকর করা হবে বলে হুঙ্কার দেন। তারপরে সাসপেন্ড করা হয় ৬ তৃণমূল সাংসদকে। অশোভন আচরণের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ সাংসদকে দিনের মতো সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শান্তনু সেনকে গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।

তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন পেগাসাস ইস্যুতে প্রতিবাদ দেখাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাত থেকে কাগজ কেড়ে নিয়েছিলেন এবং সেটা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তারপরেই শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে স্বাধীকার ভঙ্গের নোটিস আনে বিজেপি। এবং সেই নোটিশের ভিত্তিতেই বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয় শান্তনু সেনকে। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ সাংসদকে সাসপেন্ড করা হল। তারমধ্যে আবার মহিলা সাংসদদের সংখ্যাই বেশি। দোলা সেন, মৌসম বেনজির নুর, শান্তা ছেত্রী, অর্পিতা ঘোষ, নাদিমুল হক, আবির রঞ্জন বিশ্বাসকে দিনের মতো রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় অশোভন আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে এবারে একজোট হয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বিরোধী দলের সাংসদরা। অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরেই সাংসদ রাহুল গান্ধী বিরোধীদের একজোট করে পেগাসাস ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন। পেগাসাস ইস্যুতে যতক্ষণ না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিবৃতি দিচ্ছেন ততক্ষণ কোনও রকম বিল নিয়ে আলোচনা তাঁরা করবেন না বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদে এবারের বাদল অধিবেশনে তৃণমূল যেভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তাতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধীতায় তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। মূলত সরকার পক্ষের কাছে এখন সবথেকে বড়ো মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠতে শুরু করেছে তৃণমূল। বকলমে বিরোধী শিবিরের রাশ হাতে উঠে আসতে শুরু করেছে তৃণমূলের হাতে। এদিন তৃণমূলের ছয় সদস্যকে সাসপেন্ডের ঘটনা তৃণমূলকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে দেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় স্তরে তৃণমূলের সবথেকে বড়ো হাতিয়ার হলো বিজেপি তথা মোদী সরকারের বিরোধীতা। আর সেই পথেই ক্রমশ বিক্ষোভ আন্দোলনের ঝাঁঝ চড়াচ্ছেন তৃণমূল সাংসদরা। সেই পথে তৃণমূল সাংসদদের উপর শাস্তির বহর যতো বাড়বে ততোই জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধীতার জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজেদের পায়ের তলার জমি শক্ত হবে তৃণমূলের। আর সেই লক্ষ্যে ‘খেলা হবে’ বা পাপড়ি চাটের মতো মন্তব্য করে ফোকাসে থাকতে চাইছে তৃণমূল। আর সেই পথে বলা যায় তৃণমূলের পাতা ফাঁদেই কি পা দিচ্ছেন কেন্দ্রের সরকার পক্ষ!

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ