Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাংলার আদলে ত্রিপুরায় জয়ের লক্ষ্যে তৃণমূল ! নেপথ্যে কোন সমীকরণ ?

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


প্রথম ত্রিপুরায় পা রেখেই রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাবহুল অভিষেকের ত্রিপুরা সফরে পথ অবরোধ, গো ব্যাক শ্লোগান এমনকী গাড়ির উপরে হামলার ঘটনাও ঘটে। আর এতোকিছুর পরেও ত্রিপুরায় দাঁড়িয়ে বিপ্লব দেব সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, তিনি এখন থেকে মাসে চারবার করে ত্রিপুরায় আসবেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামী ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিষেকের উপর। তৃণমূলের সাংগাঠনিক সেনাপতির দায়িত্ব থাকবে অভিষেকের উপরেই। মূলত একদিকে অভিষেকের তরুণ বয়স এবং হার না মানা মনোভাব, অন্যদিকে বাংলার নির্বাচনে বিজেপির তরফে তাঁকে টার্গেট করা হলেও ঠান্ডা মাথায় লড়ে সাফল্য আদায় করে নেওয়া এই দু’টো বিষয়কে সামনে রেখেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মূলত ত্রিপুরা জয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল বেশ কয়েকটি বিষয়কে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে চাইছে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ওপার বাংলার (বাংলাদেশ) আবেগ। ত্রিপুরার মানুষের একটা বড় অংশ ওপার বাংলা মানে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। ফলে তাদের মধ্যে বাংলা নিয়ে আবেগ রয়েছে। সেই আবেগকে পুরো মাত্রায় কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল। পাশাপাশি সেখানে শিক্ষার বিষয়টিকে আলাদা গুরুত্ব দিতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কারণ, দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ত্রিপুরায় শিক্ষার হার বেশ ভাল। শিক্ষা নিয়ে এই রাজ্যের মানুষের মধ্যে একটা অহংবোধ রয়েছে। আর সেই কারণেই সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ত্রিপুরা জয়ের টিমে রাখা হয়েছে। একইভাবে ত্রিপুরায় বাম ভোট এখনও একটা ফ্যাক্টর বলে মনে করছে তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন বামেরা। বিজেপি বামেদের থেকে মাত্র ২ শতাংশ ভোট বেশীপেয়ে সরকার গড়েছিলো।ফলে ত্রিপুরা জয়ের ক্ষেত্রে বেশী বাম বিরোধীতার উপরে জোর দিতে চাইছে না তৃণমূল শিবির। ত্রিপুরার বহু মানুষ এখনও মনে করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে। তাই বাম ভোটের একটা বড় অংশকে নিজেদের দিকে টেনে আনা তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট জরুরি। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল শিবির।

অন্যদিকে উপজাতি অধ্যুষিত পার্বত্য ত্রিপুরা। যেখানে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের মধ্যে সংগঠন তৈরি করার জন্য শ্রমিক সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতৃত্বকেও কাজে লাগাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। একইসঙ্গে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী আবেগকেও পুরো মাত্রাই কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল। সেখানে মহারাজা বীর বিক্রম মানিক্য, রবি ঠাকুরের বিসর্জন, ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির জাতীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে এগোতে চাইছে তৃণমূল। যে কারণে ত্রিপুরায় পা রেখেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা চলে যান ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরেপুজো দিতে। মূলত বেশ কিছু ইস্যুকে সামনে রেখে রীতিমতো ছক সাজিয়ে পরিকল্পনামাফিক ত্রিপুরা জয়ের পথে হাঁটতে চলেছে তৃণমূল।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ