Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কেন্দ্র রাজনীতিতে রাহুলকে অন্ধ অনুসরণ নয়, বার্তা স্পষ্ট করল তৃণমূল

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সংসদে চলতি বাদল অধিবেশনের অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। পেগাসাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছে সংসদ। কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী দলের সাংসদরা। যার জেরে বারবার মুলতুবি হয়েছে সংসদের দুইকক্ষ। আর এবারের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্র রাজনীতিতে সনিয়া পুত্র তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর উত্থান বেশ চোখে পড়ার মতো। পেগাসাস, কৃষক আন্দোলন, পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদিকে সঙ্গী করে বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই কেন্দ্রকে চাপে ফেলছেন রাহুল, সঙ্গে দিচ্ছেন বিরোধীদের নেতৃত্বও। আর এখানেই তৈরী হয়েছে একটি রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাহুলের এই নেতৃত্বকে সহজভাবে নিতে চাইছে না তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েকটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি বোঝা যাবে। অধিবেশন চলাকালীন প্রথম সপ্তাহে একবার বিরোধী পক্ষদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলন রাহুল। সেখানে তৃণমূলের কেউ যোগ দেননি। কারণ সেদিনই ছিল দিল্লীতে সনিয়া-মমতা বৈঠক, আর কংগ্রেস-তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্ধারণ হত সেখানেই। এরপর মঙ্গলবার রাহুলের ডাকা প্রাতরাশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু আবার বুধবার প্রাতরাশ বৈঠকে লোকসভার কয়েকজন সাংসদ থাকলেও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরা গেলেন না সেখানে। তৃণমূলের এই ধারাবাহিকতার অভাবকে অন্যভাবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথমত রাহুল গান্ধীর এই উত্থান হলে, ভবিষ্যতে বিজেপি বিরোধী জোটে তৃণমূল কতটা নেতৃত্ব দিতে পারবে অর্থাৎ মমতা বন্দোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কতটা গুরুত্ব পাবেন তা নিয়ে সংশয় তৈরী হবে। সেই কারণে বিজেপি বিরোধীতায় রাহুল গান্ধীর সাথ দিলেও সর্বক্ষণ রাহুলের পিছু পিছু ঘুরতে চাইছেন না তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল বুঝতে পারছে যে কংগ্রেস এমন একটা দল তাঁরা যদি একবার কেন্দ্রে নিজেদের শক্তি বিস্তার করতে সক্ষম হয় তবে কংগ্রেস কোনোভাবেই জোটের দিকে যাবে না আর জোট ছাড়া তৃণমূলের পক্ষে কেন্দ্রে একক ভাবে বিজেপিকে হারানোকে কার্যত দিবাস্বপ্ন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর এক্ষেত্রেও মমতার দিল্লী পৌঁছনোর আশা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুখে মমতা যতই বলুক না কেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চান না, কিন্তু একথাও ঠিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা দেশের রাজনীতিতে আগেও গেছেন কিন্তু এতটা জোর নিয়ে বোধ হয় কক্ষনো যাননি। তাই দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির বিরোধীতা করে ও বাংলায় বিজেপিকে হারিয়ে মমতা নিজের জায়গা বহু কষ্ট করে অর্জন করেছেন আর সেই জায়গায় যদি এখন রাহুল গান্ধী এসে সমস্ত আকর্ষণ নিয়ে চলে যান তবে তৃণমূলের দেশজয়ের স্বপ্ন এবারেও অধরা থেকে যাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কেন্দ্রে যদি বিরোধী জোট স্থাপিত হয় তবে তার নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দেবেন এটাই দিল্লীতে উপস্থিত তৃণমূল সাংসদরা বোঝাতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাহুলের সাথে থেকে কেন্দ্রের বিরোধীতা তাঁরা করবেন ঠিকই কিন্তু একেবারে বশ্যতা স্বীকার করে তাঁর আদেশানুসরণ করে চলবেন না। কারণ তাঁরা মনে করেন, কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সংসদে সুখেন্দুশেখর রায়, কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্রের মতো ভালো বক্তা আছে তৃণমূলের এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বলেও আসছেন। সূত্রের খবর, এই বিরোধী দলকে একজায়গায় নিয়ে এসে রাহুল শুধুমাত্র নিজের দলের প্রচার ও প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে এক সাংসদ মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবী, বিজেপি বিরোধী জোট তৈরী হলে সমস্ত বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে আলাদা করে বৈঠক করা হোক। বাদল অধিবেশন যদিও কংগ্রেসের পক্ষে কিছুটা এসেছে। আগামি বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল আর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে নিজেদের ভিত এই বাদল অধিবেশনকে কেন্দ্র করেই শক্ত করে নিতে চাইছে কংগ্রেস।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ