Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মন্দিরে কেন ভীমের ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন দেবাদিদেব ? কারণ জানলে অবাক হবেন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

স্বয়ং দেবাদিদেব শিব ভয় পেয়েছিলেন মধ্যম পান্ডব ভীমকে। জানলে অবাক হবেন , স্বয়ং শিব ভীমের ভয়ে মাটির তলায় পর্যন্ত লুকিয়ে ছিলেন। ভীম টেনে বার করে আনেন শিবকে। দেবাদিদেবের শরীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিভিন্ন অংশে। অংশগুলি থেকে তৈরি হয় কেদারনাথের মন্দির।

উত্তরাখণ্ডে বিখ্যাত মন্দির হল কেদারনাথ মন্দির। মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে শীতল মন্দাকিনী নদী। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানান রহস্যময় কাহিনী । বিজ্ঞানীরা কার্বনের আইসোটোপ ও এখানকার মাটি পরীক্ষা করে প্রমাণ করে দিয়েছেন আট হাজার বছর পূর্বে এই স্থান ছিল গরম জলবায়ুর। এমনকি ছহাজার বছর আগে ধান চাষ পর্যন্ত হতো কেদারনাথের মাটিতে। চারটি পর্যায়ে গঠিত এই মন্দিরের কথা গুপ্ত যুগের শিলালিপিতেও উল্লেখিত হয়েছে।

পঞ্চ কেদারনাথের মন্দির সম্পর্কে প্রচলিত রয়েছে অসাধারণ পুরাণকথা। মহাভারতের কাহিনী অনুযায়ী , পঞ্চপান্ডব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে জয়লাভের পর জ্ঞাতি হত্যার প্রায়শ্চিত্ত করতে বার হন। তীর্থ দর্শনে এসে যখন কাশিতে এসে পৌঁছান তখন বিশ্বনাথ শিব ইচ্ছাকৃত ভাবে পান্ডব পুত্রদের দেখা দেবেন না বলে হিমালয়ে আত্মগোপন করেন । যুধিষ্ঠির এই কথা জানতে পেরে হরিদ্বারের পথে এসে বিশ্বাসকে খুঁজতে থাকেন। জানতে পারেন বিশ্বনাথ গুপ্ত কাশিতে বিশেষ ছদ্মবেশে লুকিয়ে রয়েছেন। মধ্যম পান্ডব ভীম শিবের সন্ধানে বৃষের পিছনে ধাওয়া করেন। গৌরিকুন্ড এর কাছে এসে দেখেন বৃষ মাটিতে প্রবেশ করছে। সেই অবস্থাতেই ভীম আর বৃষ রূপি শিবের মধ্যে শুরু হয় টানাটানি। ধস্তাধস্তিতে শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বৃষের কুঁজ রয়ে যায় কেদারনাথে । তাই কেদারনাথ মন্দিরের শিবের মূর্তি কুঁজের মতো। বৃষের নাভি থাকে মদমহেশ্বর মন্দিরে। শিবের দুই হাত থেকে ধুঙ্গনাথ , মুখ থেকে রুদ্রনাথ এবং জটা থেকে কল্পেশ্বর মন্দিরের সৃষ্টি হয়। শিবের দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে সৃষ্টি হয় পঞ্চ কেদারনাথ মন্দির।

কেদারনাথ মন্দির তীর্থস্থানের পাশাপাশি অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র । প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ কেদারনাথ দর্শনে ভিড় করেন। চারশ বছর আগে এই মন্দির ছিল বরফে ঢাকা। হিমবাহ গলনের ফলে বরফের স্তূপ থেকে বেরিয়ে এসেছে এই মন্দির। কেদারনাথ মন্দিরকে ঘিরে নানান রহস্যময় কাহিনী আজও মানুষকে অবাক করে।

News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন প্রথম কলকাতা অ্যাপ