সতীপীঠ পুষ্কর

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সতীপীঠ পুষ্কর। রাজস্থানের পুষ্করের কাছে গায়ত্রী পাহাড়ে এই সতীপীঠ অবস্থিত। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জানা যায়, রাজস্থানের আজমীরের ১১ কিমি উত্তর-পূর্বে এই স্থানে দেবী সতীর কব্জি পড়েছিল। স্থানীয়দের মধ্যে এই মন্দির চামুন্ডা মাতার মন্দির বলেও পরিচিত। দেবী এখানে গায়ত্রী নামে পূজিতা হন। মহাদেব সর্বানন্দ ভৈরব রূপে পূজিত হন।

রামায়ণ, মহাভারত, পদ্মপুরাণ প্রভৃতি প্রাচীন গ্রন্থে পুষ্করের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারত অনুসারে পুষ্কর ভারতের প্রাচীনতম আদি তীর্থস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম।

পুষ্কর মানে পদ্ম। পুরাণ মতে, পরশুরাম এই তীর্থের প্রতিষ্ঠাতা। কথিত আছে, ব্রহ্মা হাতে পদ্ম নিয়ে যজ্ঞের স্থান নির্বাচনের জন্য বেরিয়েছিলেন। তার হাতের পদ্মটি যেখানে পড়েছিলো সেখানে বসেই তিনি তপস্যা শুরু করেছিলেন। সেই থেকে এই জায়গাটির নাম হয় পুষ্কর। পুষ্কর একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র। বিশ্বের একমাত্র ব্রহ্মার মন্দির এখানেই অবস্থিত।

কিন্তু পুষ্কর যে একটি সতীপীঠও তা অনেকেরই অজানা। অন্নদামঙ্গল কাব্য অনুসারে জানা যায়, এখানে দেবী সতীর বাম মণিবন্ধ বা বাম কব্জি পড়েছিল। দেবী এখানে গায়ত্রী। তাঁর ভৈরব সর্বানন্দ। পুষ্কর হ্রদের পাশেই রয়েছে সাবিত্রী পাহাড়। সেখানেই দেবীর অবস্থান।

শাস্ত্রমতে দেবীর নাম গায়ত্রী হলেও দেবী সাবিত্রীই পীঠদেবী রূপে পূজিতা হন।পুষ্কর সতীপীঠকে বলা হয় মণিবেদিক সতীপীঠও। নবরাত্রির সময়ে বিশাল মেলা উপলক্ষ্যে ঢল নামে ভক্তদের।

এখানে একটি পবিত্র কুন্ড রয়েছে। বিশ্বাস, এই কুন্ডে স্নান করলে সমস্ত মনোবাসনা পূর্ণ হয়। পদ্মপুরাণ অনুযায়ী, এই কুন্ডের ধারেই যজ্ঞ করেছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।

এম/বি