সতীপীঠ তারা তারিণী মন্দির

।। শর্মিলা মিত্র ।।

৫১টি সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম একটি সতীপীঠ এবং দেশের চারটি তন্ত্রসাধনার পীঠের মধ্যে অন্যতম তারা তারিণী মন্দির।

ভারতীয় তথা হিন্দু সমাজে যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে মাতৃ শক্তির আরাধনা।তেমনিই ওড়িশার ঘরে ঘরে প্রভু জগন্নাথ দেব পূজিত হলেও ওড়িশার অধিকাংশ ঘরে মাতৃশক্তির আরাধ্যা হিসাবে পূজিত হন দেবী তারা তারিণী।

ওড়িশার গঞ্জাম জেলার ঋষিকূল্যা নদীতীরে কুমারী পর্বতে অবস্থিত মা তারা তারিণীর মন্দির।এই মন্দিরটি সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম। কালিকা পুরাণ অনুযায়ী জানা যায়, এই স্থানে দেবী সতীর স্তন যুগল পড়েছিল।

আমরা জানি দক্ষ রাজার যজ্ঞে মহাদেবের অপমান সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞকুন্ডে আত্মাহুতি দেন দেবী সতী। এরপরই সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডবলীলায় মাতেন স্বয়ং মহাদেব। এরপর মহাদেবকে শান্ত করতে না পেরে সুদর্শন চক্রের সাহায্যে সতীর দেহ খন্ড বিখন্ড করে দেন শ্রীবিষ্ণু। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সতীর দেহ খন্ডগুলি। পৃথিবীর বুকে পড়া মাত্রই প্রস্তরখন্ডে পরিণত হয় সতীর দেহের খন্ডগুলি। সেই বিশেষ বিশেষ স্থানগুলি পরিণত হয় এক একটি সতীপীঠে। প্রত্যেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম পবিত্রের জায়গা সতীর ৫১ পীঠ। আর এই ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল তারা তারিণী মন্দির।

পাশাপাশি এই মন্দিরটি একটি তন্ত্র সাধনারও পীঠস্থান। এখানে আজও বিভিন্ন তিথিতে তন্ত্রসাধনা করা হয়, এবং তন্ত্র সাধকদের সমাগম হয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় ইতিহাস মতে, এই মন্দির প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো। এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত আছে।

জানা যায়, মৌর্য্য সম্রাট অশোক আর কলিঙ্গের রাজা অনন্তর সৈন্য বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীন ঋষিকূল্যা নদীর ধারে পাহাড়ের উপর তারা তারানী মন্দিরেরগর্ভগৃহে আশ্রয় নেন রানী ও সমস্ত রমণীরা।সেই সময়ে অশোকের সৈন্যদের সামনে রানী সহ অন্যান্য রমণীদের বাঁচাতে আবির্ভাব ঘটে স্বয়ং অসুর বিনাশিনী দেবী তারা তারিণীর। তখন কোনমতে নিজেদের প্রাণ হাতে নিয়ে পালায় অশোকের সৈন্যরা।

এরপর, কলিঙ্গ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যখন চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে পরিণত হয়েছেন সম্রাট অশোক। তখন একদিন সেই মন্দির পরিদর্শনে আসেন সম্রাট অশোক।

জানা যায়, তিনি নবরূপে মন্দিরটিকে আবার পুনর্নির্মাণ করেন। হিন্দু দেবদেবীর পাশাপাশি স্থাপন করেন বৌদ্ধমূর্তিও। তাই বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, অশোকের সময়কালেই তৈরি হয়েছিল এই মন্দির।মাতৃশক্তির পীঠস্থানের পাশাপাশি তন্ত্রসাধনারও আঁতুর ঘর হল তারা তারিণী মন্দির।

এম/বি