ভার্চুয়াল নয়,মুখোমুখি প্রশাসনিক বৈঠক করতে পারেন মমতা

।। রাজীব ঘোষ ।।

উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা জেলায় পরপর দুটি প্রশাসনিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠক ভার্চুয়াল নয় সরাসরি হওয়ার কথা রয়েছে। আপাতত ঠিক হয়েছে উত্তর 24 পরগনার বৈঠক 10 জুলাই হবে বেলা সাড়ে 12 টায় রাজারহাটের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে। দক্ষিণ 24 পরগনার বৈঠক হবে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে 13 ই জুলাই বেলা 12 টায়।

করোনা পরিস্থিতিতে কয়েকটি প্রয়োজনীয় দপ্তরকে ডেকে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে আমপানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার দায়িত্ব নিয়েছেন। তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল।

রাজ্যের বেশ কয়েকজন বিডিও সরকারের কোপের মুখে পড়েছেন। সরকারিভাবে এই বৈঠক নিয়ে কিছু জানা না গেলেও সূত্রের দাবি বৈঠক শেষ পর্যন্ত হলে সেখানে সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা পাশাপাশি পঞ্চায়েতের কাজকর্ম খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের অন্যতম মাথাব্যথা এখন করোনা পরিস্থিতি। আমপান ঘূর্ণিঝড়ের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে আসেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেই সময় এককালীন এক হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মোদি। তারপরে কেন্দ্রীয় দল ঘুরে যাওয়ার মাসখানেক পরেও আমপান ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় সাহায্য মেলেনি। ফলে রাজ্যকেই টাকা জোগাড় করে ত্রাণ এবং পুনর্গঠন এর কাজ করতে হচ্ছে।

এই দুই জেলায় যাতে পুনর্গঠন এর কাজে কোন খামতি না থাকে সেই বিষয়ে জোর দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পদাধিকারী এবং সদস্যদের ডাকা হবে বলে জানা যাচ্ছে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দের আসতে বলা হবে। আমপান ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী যেগুলি ঠিক বলে জানতে পেরেছেন সেই পরিপ্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সেক্ষেত্রে করোনা পর্বের পর এটাই নবান্ন বাড়ির অফিসের বাইরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সরাসরি বৈঠক। আমপান ঘূর্ণিঝড়ে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুই 24 পরগনার প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।