দূরত্ব বিধি না মেনে রাজনীতি, প্রশ্নে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা

1 min read

।। রাজীব ঘোষ ।।

ফের কড়া লকডাউন শুরু হচ্ছে। রাজ্যের কনটেইনমেন্ট জোন গুলোতে কড়া ভাবে লকডাউন পালন করার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। লকডাউন এর পরে আনলক শুরু হতেই প্রায় সমস্ত অফিস কাছারি দোকান বাজার শপিং মল হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলতে শুরু করে। গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেড়ে যায়।

দূরত্ব বিধি শিকেয় তুলে দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দোকান বাজার খুলে যাওয়ার পরে মাস্ক ছাড়া ভিড়ের মধ্যে একে অন্যের গা ঘেঁষে শুরু হয়ে যায় কেনাকাটা। অটো টোটোর ভিড় শুরু হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন জায়গায় যানজট তৈরি হয়। বাজার হাট থেকে শুরু করে হোটেল চায়ের দোকানে মাস্ক ছাড়া সবাইকে আড্ডা দিতে দেখা যায়।

এরইমধ্যে রাজ্যের শাসক বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় তুলে দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। দূরত্ব বিধি না মেনে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে দেখা যায় তাদের। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে দুর্নীতি কে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিজেপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

এরপরে শাসক তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পেট্রোল ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি থেকে শুরু করে একাধিক বিষয় নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই মিটিং মিছিল অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শাসক বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বিক্ষোভ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পড়ে আন্দোলন সভা করা হচ্ছে।

কিন্তু সাধারণ মানুষ সেটা মানতে রাজি নন। অধিকাংশ রাজনৈতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দূরত্ব বিধি মানা হচ্ছে না বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় তুলে দিয়ে এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার ফলে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

সেই কারণে বহু জায়গায় ফের কড়া লকডাউন এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একদিকে সাধারণ মানুষ তো বটেই শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সমস্ত ধরনের সাবধানতা শিকেয় তুলে দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ায় রাজ্যজুড়ে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ফলে সরকারকে ফের কড়া লকডাউন এর পথে যেতে হয়।

যদিও বিজেপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে রাজ‍্যে সঠিকভাবে লকডাউন মানা হচ্ছে না বলে একাধিক বার অভিযোগ করা হয়েছে।তার জন্য রাজ‍্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে।শাসক বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক চলছেই। এখানেই শাসক-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।