তৃনমূলে কি সত্যিই ঘণীভূত হচ্ছে সংকট! জানুন বিস্তারিত

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ডেস্ক ।।

২০১৬ সালে তৃনমূল জিতেছিল স্রেফ মমতা-ম্যাজিকে ভর করে। এবার লোকসভায় ধাক্কা খাওয়ার পর মমতা দলের জন্য ভোট-কৌশলী নিয়োগ করেছেন। সেখানেই দাঁড়িয়েছে বিপত্তি। প্রশান্ত কিশোর তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাই তদারকি করছেন।

প্রশান্ত-অভিষেক মিলে দলের দুর্নীতি দমনে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছেন। শোকজ করছেন দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের। সেখান কোনও অসুবিধা নেই। অসুবিধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর। কে কে টিকিট পেতে চান, এই ঘোষণাতেই জটিলতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সে দলের সমস্ত নেতৃত্ব ও বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, কে কে এবার নির্বাচনে টিকিট পেতে চান।

সবাই প্রায় হাত তোলেন। তারপর নিজেও হাত তুলে বলেন, দেখুন আমিও হাত তুলেছি। সবাই আপনারা টিকিট পাবেন। কিন্তু সেজন্য কাজ করতে হবে, বসে থাকলে চলবে না। তৃণমূলে শুদ্ধিকরণ বিরাট প্রশ্নের মুখে এখানেই বেঁধেছে গোল। প্রশান্ত কিশোর যখন দলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাদ দিয়ে ২০২১ ভোটের পরিকল্পনা কষছেন, তখন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দিয়েছেন সমস্ত বিধায়ক টিকিট পাবেন। তাহলে তো শুদ্ধিকরণের কোনও মানেই রইল না।

শুধু নিচতুলার নেতাদের শোকজ করে আর কী হবে! বিধায়করা সবাই ধোওয়া তুলসিপাতা নন এমনটা তো নয়, দলের নিচুতলাই শুধু দুর্নীতি করছে, শীর্ষ নেতৃত্ব ধোওয়া তুলসিপাতা। অনক বিধায়কের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশান্ত কিশোর দায়িত্ব নেওয়ার পর দিদিকে বলো কর্মসূচি্তেই দেখা গিয়েছে কম বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই।

প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত, কাটমানি-সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে তো নয়ই, পঞ্চায়েত নির্বাচনেও টিকিট পাবেন না। অভিষেকও বলেছেন, দলের নিচুতলায় শুধু দুর্নীতি, উঁচুতলায় নেই, তা হতে পারে না। বর্তমানে তৃণমূলে এমন পরিস্থিতি যে কে ঠিক বলছেন, আর কে কোন কৌশল অবলম্বন করছেন তা নিয়েই ধন্দ দেখা দিয়েছে।

মমতার সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোর-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের কৌশলের বিস্তর ফারাক। তবে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ হিসেবে মমতা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। কেননা বিজেপি ওঁত পেতে বসে আছে তৃণমূল ভাঙতে। তাঁদের আটকাতে হলে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

এম/বি