জনশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হঠাৎ সয়লাব শত শত টন বর্জ্য

1 min read

।। মনির ফয়সাল,চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকের আনাগোনা নেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সাড়ে ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে সব পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়া কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো কোরবানির ঈদ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে জনশূন্য বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকত হঠাৎ সয়লাব হয়ে গেছে শত শত টন বর্জ্যে।

জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, দরিয়া নগর থেকে শুরু করে হিমছড়ি সৈকত এলাকা পর্যন্ত শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে ভেসে আসছে এসব বর্জ্য। এত বর্জ্য হঠাৎ কোত্থেকে আসছে তা অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রশাসন।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, ছেঁড়া নাইলনের জাল ও শত শত বিভিন্ন প্রকারের মদের বোতল। এসব বর্জ্যে আটকে সামুদ্রিক নানা প্রজাতির প্রাণি মারা পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের মাত্রাও বেড়েছে।

এদিকে এসব বর্জ্যে আটকে গিয়ে ইতোমধ্যে মারা গেছে সামুদ্রিক কচ্ছপসহ কয়েক প্রকারের প্রাণী। আবার আটকেপড়া অনেক জীবিত কচ্ছপকে সমুদ্রে অবমুক্তও করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশ নামের কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, শনিবার রাত থেকে এসব বর্জ্য আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য আর ছেঁড়া জাল দেখা গেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনে সঙ্গে সঙ্গে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি বর্জ্যগুলো কোত্থেকে এসেছে এবং কিভাবে তা অপসারণ করা যায় তা দেখা হচ্ছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ইতোমধ্যে সেখান থেকে অনেকগুলো জীবিত কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়েছে সাগরে।

অন্যদিকে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত বন্ধ থাকছে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এ কারণে সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ, হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধ থাকবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও কক্সবাজার জেলায় করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রমের সমন্বয়ক হেলালুদ্দীন আহমদ।

সভায় সমন্বিত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, কক্সবাজারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা বৃদ্ধি করা, রামু ও চকোরিয়া আইসোলেশন সেন্টারে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, প্লাজমা ব্যাংক স্থাপন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্ষুদ্র পরিসরে লকডাউন বাস্তবায়ন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন পশুর হাট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এম/বি