কোরবানির মাংসের অস্থায়ী হাটে কেনা-বেচার ভিড়

1 min read

।। মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ।।

করোনার কারণে বেকার হয়ে আছে অসংখ্য মানুষ। অনেক শহরে বাসা ভাড়া দিতে না পেরে গ্রামে ফিরে গেছেন। এর মাঝে এসেছে কোরবানির ঈদ। ঈদে পশু কোরবানির বাসনা ও তৌফিক কমেছে অনেকেরই। তাই বলে অর্ধেকের কম দামে গরুর মাংস কেনার সুযোগ তো হাতছাড়া করা যায় না! এসব মাংস কেনা-বেচা হচ্ছে কোরবানির মাংসের অস্থায়ী হাটে। পাড়া-মহল্লা, বাজার, ফুটপাত জুড়ে যে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই বসে গেছেন মাংস নিয়ে।

তবে পেশাদার কোনও মাংস ব্যবসায়ী এ হাট বসাননি। মৌসুমি কসাই, দিনমজুর, দুস্থ্, ভিখারি-গরিব, শিশু যারাই কিছু মাংস জোগাড় করতে পেরেছেন, তা নিয়েই বসে গেছেন বিক্রি করতে। যারা আজকের দিনে শ্রম বিক্রি করেছেন, কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে মাংস পেয়েছেন, তারাই এ মাংসের হাট বসিয়েছেন। মাংস বিক্রেতা হিসেবে কিছু শিশুকেও দেখা গেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কোরবানির পশুর মাংস বিক্রির জন্য নগরীর বহদ্দারহাট, দেওয়ানহাট, অলংকার, মুরাদপুর, জিইসিসহ বিভিন্ন এলাকায় বসেছে এসব ছোট ছোট হাট।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, খাবারের হোটেলের মালিক, নিম্ন আয়ের মানুষ ও মেসে থাকা ব্যাচেলররা এসব মাংসের প্রধান ক্রেতা। কিন্তু করোনার এই সময়ে বহদ্দারহাটে ফুটপাতে কোরবানির এসব মাংস কেনার ভিড়ে দেখা গেছে পোশাক-আশাকে পরিপাটি নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজনকেও। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকে এবার কোরবানি দিতে পারেননি। তবে এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নয় তারা।

বিকেলে বহদ্দারহাটে গিয়ে আরও দেখা গেছে, ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা মূলত ভিক্ষুক এবং গরিব-অসহায় মানুষ। তারা বলেছেন, গত বছরগুলোর তুলনায় এবার বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মাংস কম পেয়েছেন। যা পেয়েছেন তার কিছু অংশ রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন।

একজন মাংস বিক্রেতা বললেন, এসব মাংস রান্না করে খাওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। এর চেয়ে ২-৩ কেজি মাংস বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় সেটা দিয়ে কয়েকদিন সংসার চালানো যাবে।