উত্তেজনা বাড়ানো ঠিক হবে না, বিবৃতি চীনের

রাজীব ঘোষ ; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিল বেজিং। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাউ লিজিয়ন এক বিবৃতিতে বলেন উত্তেজনার পারদ নামাতে ভারত এবং চীনের মধ্যে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে আলোচনা চলছে। এই অবস্থায় কোনো পক্ষের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার ফলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এদিন সেনাবাহিনী এবং আইটি বিপির জওয়ান এবং অফিসারদের নিয়ে মোদি বৈঠক করেন।

লাদাখ সীমান্তে সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। কুড়ি জন জওয়ানের শহীদ হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে অফিসার ও জওয়ানদের সাহস এবং আত্মত্যাগের তারিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেহ যাওয়া শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়িয়েছে তা নয় প্রকারান্তরে বেজিং কে বার্তা দিয়েছে। এমন নয় যে সীমান্তে সেনা প্রস্তুতি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর লে যাওয়া অপরিহার্য ছিল। কূটনীতিকদের কথায়, শি চিনফিংদের আসল লক্ষ্য বর্তমান ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতকে চাপে রাখা। চলতি মন্দার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তাদের বাণিজ্যিক প্রভাব এবং পরিকাঠামো বাড়ানো। তবে বেজিং যে ধরনের কট্টর সামরিক এবং কূটনৈতিক খেলা শুরু করেছে তার জবাব দিতে দিল্লিকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

মোদি সরকার সেটাই করেছে। এরপরেই চীন তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, চীনের এই প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা যায়। এক বেজিং চাইছে আর যেন উত্তেজনা বাড়ে। দুই মোদী লেহ সফরে যাওয়ার পর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে কমিউনিস্ট চীন। তারা বোঝাতে চাইছে ভালো চোখে তারা দেখছে না। এই দ্বিতীয় কারণটাই সঠিক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নয়াদিল্লি চীনের চোখরাঙানির পরোয়া করবে না। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চীনকে কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে চাইছে। কমিউনিস্ট চীনের লালফৌজ যে চোখ রাঙাচ্ছে মোদির লে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে বেজিং কে পাল্টা চোখ রাঙানোর বার্তা বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *