আজ ২১ শে জুলাই নিয়ে ভিডিও বৈঠক মমতার

|| রাজীব ঘোষ ||

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবস একুশে জুলাই ধর্মতলায় জমায়েত না করা গেলেও এই দিনটি স্মরণ এর জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচির কথা বলতে পারেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন যার রূপরেখা বৈঠক থেকে জানানো হতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। আজ শুক্রবার একুশে জুলাই নিয়ে দলের সঙ্গে ভিডিও বৈঠক করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে দলের সব সাংসদ, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীরা উপস্থিত থাকবেন।

করোনা সংক্রমণ রাজ্যজুড়ে বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ তার মধ্যেই নিউ নরমাল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির কর্মপদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নিয়ম তা যে আরও কয়েক মাস বজায় থাকবে সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় নেই। এই পরিস্থিতিতে একুশে জুলাই এর অন্যরকম কর্মসূচি নয় আগামী কয়েক মাস দলের স্বাভাবিক কর্মসূচি গুলি বা কিভাবে চলবে সেটা নিয়েও মমতা আজকের বৈঠক থেকে দিশা দিতে পারেন বলে দলীয় নেতৃত্বের ধারণা।

প্রত্যেক বছর তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাই শহীদ সমাবেশের প্রস্তুতি কে কেন্দ্র করে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই সমস্ত কর্মসূচি করা সম্ভব হয়নি। তাই গোটা রাজ্যের তৃণমূল কর্মীরা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প ভাবনা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দলের সঙ্গে আজকের বৈঠকে আলোচ্য বিষয় মূলত একুশে জুলাই এর কর্মসূচি থাকলেও এই মুহূর্তে তৃণমূলের কাছে দেশের এবং রাজ্যের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে কি করনীয় সেটাও জানাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি সারা রাজ্য জুড়ে ত্রাণ বন্টনে দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপির সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কখনো সেই বিক্ষোভ স্থানীয় বিডিও অফিস বা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আছড়ে পড়েছে। দলনেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে যে বিপুল ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেটা স্বচ্ছভাবে বন্টন করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতি মারি এবং আমপান পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলায় দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় অন্তর্তদন্তের ফল এর উপর ভিত্তি করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশকিছু সাংগঠনিক রদবদলের বার্তা দেন কিনা সেই বিষয়ে বৈঠকের আগে চর্চা শুরু হয়েছে।

দলের অনেক নেতার মতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে কিছু সুরাহা করা যায় বটে কিন্তু রাস্তায় নেমে জনসংযোগ আর ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল কর্মকান্ড কখনো এক হতে পারে না। সেই বিষয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কোন বিকল্প ভাবনা আছে কিনা সেটাও আজকের বৈঠক থেকে জানা যেতে পারে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের ভিডিও বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories